ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ আশ্বিন ১৪২৭, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩ সফর ১৪৪২

জাতীয়

অসমাপ্ত ফুটওভার ব্রিজে বখাটেদের আড্ডা, ঘটছে ছিনতাই

মিরাজ মাহবুব ইফতি, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৫৫৯ ঘণ্টা, আগস্ট ৬, ২০২০
অসমাপ্ত ফুটওভার ব্রিজে বখাটেদের আড্ডা, ঘটছে ছিনতাই ব্রিজে আড্ডা দিচ্ছে বখাটেরা। ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: রাজধানীর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অসমাপ্ত ফুটওভার ব্রিজ যেন বখাটেদের হৈ-হুল্লা, হট্টগোল, আড্ডা ও মাদক সেবনের অভয়ারণ্য। প্রতিদিন দুপুর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এমনটেই চলে।

ব্রিজের নিচে রাতের বেলা প্রতিনিয়তই ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলছেন, সংশ্লিষ্টরা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। নীরব ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর পল্লবীর কালশী রোডের ২২ তলা গার্মেন্টসের সামনে অসমাপ্ত ফুটওভার ব্রিজে বখাটেদের হৈ-হুল্লা, হট্টগোল, আড্ডা ও মাদক সেবন করতে দেখা যায়।

ভুক্তভোগী তাহসিন ফার্মেসির কর্মকর্তা নুরুজ্জামান বাংলানিউকে বলেন, গত ২২ জুলাই রাত সাড়ে ১১টায় আমি এই ব্রিজের নিচ দিয়ে বাসায় যাচ্ছিলাম। দুই থেকে তিন জন ব্যক্তি পেছন দিক থেকে আমার গলা চেপে ধরে। এরপরে আমি আর কিছু বলতে পারি না। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরে আমার জ্ঞান ফেরে। তখন দেখতে পাই আমার মাথা থেকে অনবরত রক্ত বের হচ্ছে। পরে ফার্মেসিতে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে রক্ত বন্ধ করি। এ সময় আমার পকেটে থাকা মানিব্যাগ ও স্যামসাং জে-ফোর মোবাইল ফোনটি ছিনতাইকারীরা নিয়ে যায়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ছয় মাস ধরে এই ব্রিজটা এভাবেই অসমাপ্তভাবে পড়ে থাকতে দেখছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা কোনো কাজ করছেন না।

'ই' ব্লকের বাসিন্দা রিজুয়ান রশিদ বলেন, এখানে আশপাশের এলাকার উঠতি বয়সী ও বকাটে ছেলেরা ব্রিজে নিয়মিত আড্ডা দেয়। আড্ডা, হৈ-হুল্লোড় চলে দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত। এই ব্রিজের নিচে প্রায় প্রতিদিনই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। এছাড়াও কয়েকদিন পর পরই দেখি এখানকার ছেলেপেলেদের দা, ছুরি নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে। প্রশাসন এখন পর্যন্ত এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

ব্রিজের পাশের বাড়ির ভাড়াটিয়া (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) তিনি বলেন, ব্রিজে দুপুর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলে উঠতি বয়সী ছেলেদের আড্ডা। ব্রিজে আড্ডা দেওয়ার সময় অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। এসব ঘটনায় পরিবারের মানুষদের নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। বখাটেদের উচ্চবাচ্যতে আমার বাচ্চা- ভাতিজাদের ঘুম পাড়িয়ে রাখতে পারিনা। এদের হৈ-হুল্লোড়ে ঘুম ভেঙে যায়। ব্রিজে কাজ ছয় মাস ধরে বন্ধ। এখন পর্যন্ত শেষও করছে না। কেউ কোনো ব্যবস্থাও নিচ্ছে না।

ফুটওভার ব্রিজ সম্পর্কে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুর রউফ নান্নু বাংলানিউজকে বলেন, আমি চাইলেই অনেক কিছু করতে পারিনা। আমার প্রতিবন্ধকতা আছে। ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রশাসন দেখবে। আমি কাউকে ধরে মারতেও পারবো না। তারা আমার নামে মামলা দেবে। আমরা যদি সঠিক পথে না চলি, তাহলে কি আমাদের ঘর ঠিক থাকবে ? করোনার কারণে আমরা কিছু বলতে পারছিনা ব্রিজের কাজ কবে শুরু হবে। ভালো বলতে পারবেন সিটি করপোরেশনের মেয়র।

ফুটওভার ব্রিজটি সম্পর্কে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-২) শফিউল আজম বাংলানিউজকে বলেন, কালশী রোডে উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। এই সড়কে একটি উড়ালসড়ক তৈরি করা হচ্ছে।  উড়ালসড়কের কাজ শেষে ফুটওভার ব্রিজের অবশিষ্ট কাজ করা হবে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবদুল মাবুদ বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের নিয়মিত টহল টিম আরো জোরদার করবো। এই এলাকার আশপাশে নিম্নআয়ের মানুষের বসবাস। ঘনবসতি এলাকা। এদিকটায় বিহারীরা বেশি বসবাস করে। এরা (বিহারীরা) বেশিরভাগ সময় রাস্তায় কাটায়। এই কিশোর ছেলেদের বিরুদ্ধে আমরা সর্বোচ্চ জোরদার ব্যবস্থা গ্রহণ কব। আগামীতে এই বখাটেদের আড্ডা আর এখানে থাকবে না। এই কিশোর ছেলেদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব।


বাংলাদেশ সময়: ০৬০০ ঘণ্টা, আগস্ট ০৬, ২০২০
এমএমআই/আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa