ঢাকা, বুধবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ সফর ১৪৪২

জাতীয়

বিনা টিকিটের যাত্রীদের ট্রেনে উঠতে দেননি রেলওয়ে বিভাগীয় ডিআরএম

উপজেলা করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭১২ ঘণ্টা, আগস্ট ৪, ২০২০
বিনা টিকিটের যাত্রীদের ট্রেনে উঠতে দেননি রেলওয়ে বিভাগীয় ডিআরএম টিকিট চেক করছেন রেলওয়ে বিভাগীয় ডিআরএম। ছবি: বাংলানিউজ

পাবনা(ঈশ্বরদী): বিনা টিকিটের যাত্রীদের ট্রেনে উঠতে দেননি পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মো. আসাদুল হক।  

মঙ্গলবার (৪ আগষ্ট) দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনের ১ নম্বর প্লার্টফর্মে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর ৭৬৩ নম্বর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে এ চিত্র দেখা যায়।



ঈদের পর কয়েক বছর ধরে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের আওতায় ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে সব আন্তঃনগর ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হতো। তবে এবার ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র।  

ঈশ্বরদী জংশন রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে যাত্রীদের সচেতনতার জন্য পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। প্রবেশপথে যাত্রীদের মাস্ক আছে কি না,  ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরিদর্শকরা মনিটরিং করছেন। ট্রেন যাত্রীদের শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখছেন কিনা, ট্রেনের  প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণির যাত্রীরা শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন কিনা? তার দেখভাল করছেন রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা।

রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ট্রেনের অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক আব্দুল কাদের পরিবারসহ এসেছিলেন রেলওয়ে স্টেশনে। অনলাইন টিকিট না থাকার কারণে ট্রেনে উঠতে দেওয়া হয়নি। বরং উনাকে বলা হয়েছে, আপনাকে টিকিট ছাড়া ট্রেনে যেতে দেওয়া হয়নি, দরকার মনে করলে অভিযোগ করবেন, তবে আইন সবার জন্য সমান। পরে তিনি যাত্রা বাতিল করে বাড়ি ফিরে গেছেন।

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, আমরা অনলাইনে ট্রেনের টিকিট পাইনি আবার বাসের টিকিটও পাইনি তাই স্টেশনে এসেছিলাম। কিন্তু যাওয়া হলো না। এদিকে ঢাকাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে টিকিটবিহীন এমন বহু যাত্রী স্টেশনের অদূরে অপেক্ষা করেও শেষমেশ ট্রেনে উঠতে পারেননি।

ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন- পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) ফুয়াদ হোসেন আনন্দ, বিভাগীয় সংকেত টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী রুবাইয়াৎ শরীফ প্রান্ত, বিভাগীয় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডেন্ট রেজাউন-উর-রহমান, পাকশী বিভাগীয় ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সাজেদুল ইসলাম বাবুসহ রেলওয়ের আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী ও রেলওয়ে কর্মচারীবৃন্দ।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় দফতর এর ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মো. আসাদুল হক বাংলানিউজকে জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে রেল মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে বেশিরভাগ যাত্রীবাহী আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঢাকাগামী কিছু ট্রেন চলাচল করছে। তবে ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কিছু কর্মজীবী মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে অনেকটাই ফাঁকা স্টেশন। অনলাইন টিকিট ছাড়া কোনো যাত্রীকে ট্রেনে উঠতে দেওয়া হয়নি। বরং টিকিট চেকিং করে তাদের স্টেশন ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণ রোধে অর্ধেক সিট ফাঁকা রেখে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে ট্রেন। শিডিউল বিপর্যয় ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে চিত্রা এক্সপ্রেস।

বাংলাদেশ সময়: ১৭০৭ ঘণ্টা, আগস্ট ০৪, ২০২০
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa