ঢাকা, সোমবার, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯ সফর ১৪৪২

জাতীয়

ইবু হত্যাকাণ্ডকে হৃদয়বিদারক বললেন পুলিশ সুপার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬২৭ ঘণ্টা, আগস্ট ৪, ২০২০
ইবু হত্যাকাণ্ডকে হৃদয়বিদারক বললেন পুলিশ সুপার

শরীয়তপুর: মোটরবাইক চালক রিয়াজুল ইসলাম ইবু খুনের ঘটনাকে হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে তার নবজাতক সন্তানের লেখাপড়াসহ যাবতীয় ব্যায়ভার বহন করার কথা জানিয়েছেন শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুজ্জামান।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ সুপারের কর্যালয়ে এক প্রেস কনফারেন্সে তিনি এ কথা জানান।

গত ২৮ জুলাই মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা গ্রামের আনোয়ার হোসেন খানের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম ইবু নিখোঁজ হন। ৩০ জুলাই শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পশ্চিম নাওডোবা তস্তার কান্দি গ্রামের পদ্মাসেতুর সড়কের পাশে শনের মধ্য থেকে ইবুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ১ আগস্ট ইবুর স্ত্রী নিপা আক্তার (২০) প্রথম এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। এ ঘটনার মূল হোতা হৃদয় মৃধাসহ তিন আসামিকে গ্রেফতার করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সদস্য।

পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুজ্জামান বলেন,  রিয়াজুল ইসলাম ইবুর মরদেহ উদ্ধারের একদিন পর তার স্ত্রী নিপা আক্তার এক পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। যেই সন্তানের সিজারের টাকা জোগার কাজে বের হয়েছিলেন, সেই সন্তানের মুখ দেখে যেতে পারলেন না বাবা এবং সন্তান জন্মদানের সময় স্ত্রীও তার স্বামীকে কাছে পেলেন না।  এই সন্তান যখন বড় হয়ে জানতে পারবে তার জন্মের আগ মুহূর্তে বাবা ছিনতাইকারীদের হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন, তখন তার কাছে বিষয়টি কেমন লাগবে? নিঃসন্দেহে এই হত্যাকাণ্ড একটি হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক ঘটনা। ডিসিষ্ট ইবুর সন্তান হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি আমার অফিসার ও ফোর্সের মাধ্যমে নিহতের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য তাদেরকে প্রেরণ করি এবং প্রসূতি মায়ের জন্য কিছু ফলমূল, হরলিক্স ও ইবুর সন্তানের জন্য কিছু উপহার সামগ্রী প্রদান করি। ভবিষ্যতে যদি তারা চান তাহলে ওই সন্তানের লেখাপড়াসহ যাবতীয় ব্যয়ভার শরীয়তপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বহন করা হবে।

পুলিশ সুপার জানান, সিরাজুল ইসলাম ইবু (২৮) একজন ভাড়ায় মোটরবাইক চলক। গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে দুইজন যাত্রী নিয়ে কাঠালবাড়ি ফেরীঘাটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। এরপর থেকে ইবু নিখোঁজ হলে তার বাবা আনোয়ার হোসেন মাদারীপুর সদর থানায় জিডি করেন। ৩০ জুলাই সকাল ৯টার দিকে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পশ্চিম নাওডোবা তস্তার কান্দি গ্রামের পদ্মাসেতুর সড়কের পাশে শনের মধ্য থেকে ইবুর মরদেহ উদ্ধার করে জাজিরা থানা পুলিশ। ৩১ জুলাই জাজিরা থানায় হত্যা মামলা রুজু করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল আলমকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের শনাক্ত এবং গ্রেফতার করার লক্ষ্যে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সোর্স নিয়োগ করেন। ৩ আগস্ট ভোররাত ৪ টার দিকে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানা এলাকা হতে হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি হৃদয় মৃধা (২৮), শেখ ফরিদ (২৫) ও ফয়সালকে (৩০) গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে ইবুর চুরি যাওয়া মোটরবাইক, মোবাইল ফোন ও মোটরবাইক বিক্রির দশ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। আসামি হৃদয় মৃধা ইবু হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।  

পুলিশ সুপার আরও জানান, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী হৃদয় ও  তার সহযোগী সুলতান মোটর সাইকেল চালক ডিসিষ্ট ইবুকে ৫০০ টাকা ভাড়া মিটিয়ে মাওয়া ঘাটে নামিয়ে দিয়ে আসার কথা বলে কৌশলে ঘটনাস্থল জাজিরা থানাধীন পশ্চিম নাওডোবা তস্তার কান্দি গ্রামের পদ্মা সেতুর ফাঁকা রাস্তার ওপর এনে প্রশাব করার কথা বলে থামায়। সাথে সাথে ঘটনাস্থলে আগে থেকেই রাস্তার পাশে শনের ভিতরে অবস্থান করা আরও ৪ জন পেছন থেকে গলায় বৈদ্যুতিক তার পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে ও চোখে মুখে উপর্যুপরি কিল ঘুষি মেরে হত্যা নিশ্চিত করে ডিসিষ্টের মোটর সাইকেল, মোবাইল ফোন ও নগদ ৩২০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। আসামি হৃদয় ঘটনার সাথে জড়িত অপরাপর পলাতক ৫ জন আসামির নাম ঠিকানা প্রকাশ করে। আসামিরা একদল পেশাদার মোটর সাইকেল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা বিভিন্ন এলাকা হতে কৌশলে মোটরসাইকেল ভাড়া করে তাদের পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক সুবিধামত স্থানে নিয়ে হতভাগ্য চালকদের আহত, কখনও হত্যা করে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় বলে জানায়। মামলার ঘটনার রহস্য উদঘাটিত। সহযোগীদের গ্রেফতার করাসহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬২৩ ঘণ্টা, আগস্ট ০৪, ২০২০
এমএমএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa