ঢাকা, বুধবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ সফর ১৪৪২

জাতীয়

ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় গবাদি পশু নিয়ে রাস্তায় মানুষ

ইমতিয়াজ আহমেদ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫২৪ ঘণ্টা, জুলাই ২৪, ২০২০
ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় গবাদি পশু নিয়ে রাস্তায় মানুষ রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে বন্যাকবলিত মানুষ। ছবি: বাংলানিউজ

মাদারীপুর: মাদারীপুর জেলার শিবচরে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদের পানি বেড়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

ফলে দুর্ভোগ বেড়েছে মানুষের।  

চর এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় গবাদি পশু নিয়ে রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন অনেকেই। আসন্ন কোরবানি ঈদের কারণে কৃষক পরিবারের প্রায় প্রত্যেকেই গরু-ছাগল লালন-পালন করে থাকেন। বিশেষ করে চরাঞ্চলের ঘরে ঘরে গবাদি পশু লালন-পালন হয়। চলতি বছর বন্যায় ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় এসব গরু-ছাগল নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু রাস্তায় কোরবানির গরু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তারা। রাত-দিন সেখানেই থাকছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বন্দরখোলা ইউনিয়নের মালেরহাট, বেপারীকান্দি, কাজিরসূরা এলাকাসহ বন্যাকবলিত আশপাশের এলাকার শতাধিক পরিবার তাদের গবাদি পশু নিয়ে মালেরহাট হাওলাদারকান্দি রাস্তাসহ আশপাশের উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। এ সব পরিবারে রয়েছে একাধিক গরু-ছাগল। যা আসছে কোরবানিতে বিক্রির লক্ষ্যে পালন করা হচ্ছে।  

বন্যার কারণে রাস্তায় আশ্রয় নেওয়া একাধিক পরিবারের সদস্যরা জানান, বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। ঘরের ভেতরও পানি ওঠায় রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে এসব পরিবার। তবে প্রত্যেক পরিবারেই কোরবানির বিক্রিয়যোগ্য গরু থাকায় দুর্ভোগে দিন কাটছে তাদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর পানি বাড়ায় উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। এছাড়াও এসব এলাকার চরাঞ্চল ডুবে যাওয়ায় অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তাসহ উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।  

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নে ১ হাজার ৫০ জন, চরজানাজাতে ১৮৭০, বন্দরখোলা ইউনিয়নে ২৭শ, মাদবরেরচরে ৯শ ও সন্যাসীরচরে ১৬শসহ মোট পানিবন্দি রয়েছে ৮ হাজার ১২০ জন মানুষ। এদিকে পানিবন্দি এলাকায় চিফ হুইপ নূরই আলম চৌধুরী এমপির পক্ষ থেকে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।  

বন্দরখোলার বন্যা কবলিত এলাকার নালু হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি বলেন, ঘরের ভেতর বুক সমান পানি। তাই গরু নিয়া রাস্তায় থাকতেছি চারদিন ধইরা।

হাকিম বেপারী নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, পানিতে ঘরবাড়ি সব তলিয়ে যাওয়ায় গরু নিয়ে রাস্তায় আছি কিছু দিন ধরে। কোরবানিতে বিক্রির মতো গরুও আছে আবার ছোট গরুও আছে। গবাদি পশু নিয়েই দুর্ভোগ বেশি।

তিনি আরো বলেন, গবাদি পশুর সময়মতো খাবার দিতে হয়। আমাদের বন্যার সময় খাওয়া-দাওয়ার কোনো টাইম-টেবিল না থাকলেও গরুর খাবার ঠিকমত দিতে হচ্ছে। রাস্তাতেই থাকতে হচ্ছে সবাইকে।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, বন্যা কবলিত এলাকায় তালিকা তৈরি করে নিয়মিত সাহায্য-সহযোগিতা করা হচ্ছে। চিফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরী স্যার সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখছেন। বন্যা আক্রান্ত এলাকার মানুষের জন্য ১০ কেজি চালসহ নানা সামগ্রী একত্রিত করে একেকটি প্যাকেট তৈরি করে বিতরণ করা হয়েছে।  

বাংলাদেশ সময়: ১৫১৮ ঘণ্টা, জুলাই ২৪, ২০২০
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa