ঢাকা, বুধবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ সফর ১৪৪২

জাতীয়

টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৪৮ ঘণ্টা, জুলাই ২০, ২০২০
টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত এলাকা। ছবি: বাংলানিউজ

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে। রোববার রাতে ও সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল থেকে বৃষ্টির কারণে বন্যার পানি টাঙ্গাইল শহরে ঢুকে পড়েছে।

ইতোমধ্যে শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে চরম আকার ধারণ করেছে।

বৃষ্টির সঙ্গে বন্যার পানি একাকার হয়ে টাঙ্গাইল শহরের বাস টার্মিনাল থেকে কেডি মসজিদ হয়ে মেডিক্যাল কলেজের পেছনের রাস্তা, মক্কা আই সেন্টার থেকে কোদালিয়া হয়ে রাবনা বাইপাস পর্যন্ত রাস্তা, দেওলা প্রধান সড়কের পাশের প্রতিটি অভ্যন্তরীণ সড়ক, খাদ্য গুদাম থেকে মীরের বেতকা, বৈল্যা ব্রিজের পর থেকে এনায়েতপুর সড়ক এবং পৌরসভার চরজানা ও মীরের বেতকা এলাকা পুরোটাই পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ব্যতীত অভ্যন্তরীণ প্রায় সব সড়কই বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।  

এদিকে গত কয়েকদিনে যমুনায় পানি কমে বিপৎসীমার ৮৩ সেণ্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধলেশ্বরী ও ঝিনাই নদীসহ জেলার অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে প্রতিদিনই পানি বাড়ছে। ফলে জেলার গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট, ছোট ছোট ব্রিজ-কার্লভাট জনপদ প্লাবিত হচ্ছে। বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি, মাছের পুকুর ও পোল্ট্রি খামারে পানি ঢুকে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে। জেলার অধিকাংশ হাট-বাজারে পানি উঠে ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে বন্যা কবলিত এলাকায় পানি বাহিত রোগ-ব্যাধিসহ খাবার পানি ও খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্র ও উঁচু রাস্তার পাশে অবস্থান নেওয়া বন্যার্তরা শিশুখাদ্য ও গো-খাদ্যের চরম সঙ্কটে পড়েছেন।  
   
টাঙ্গাইলে দ্বিতীয় দফার বন্যায় জেলার স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা প্রকল্পের কাজসহ একের পর এক ব্রিজ ধসে পড়ছে। এতে জনপদ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। জেলার অভ্যন্তরে পানি বৃদ্ধি পেয়ে টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর, কালিহাতী, গোপালপুর, দেলদুয়ার ও নাগরপুর এ ছয়টি উপজেলার ৯০ শতাংশ এবং অপর ধনবাড়ী, মধুপুর, ঘাটাইল, বাসাইল, সখীপুর ও মির্জাপুর এ ছয়টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। বানভাসী এসব মানুষ সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, যমুনার পানি কমতে শুরু করেছে। সোমবার (২০ জুলাই) যমুনার পানি বিপৎসীমার ৮৩ সেণ্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি ২-১ দিনের মধ্যে কমতে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ২০৪৫ ঘণ্টা, জুলাই ২০, ২০২০
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa