ঢাকা, বুধবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

কয়েকশ লোকের সামনে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৩

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৫১ ঘণ্টা, জুলাই ১০, ২০২০
কয়েকশ লোকের সামনে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৩

কুমিল্লা: কুমিল্লা নগরীর চাঙ্গিনী এলাকায় মসজিদ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে কয়েকশ মুসল্লির সামনে আক্তার হোসেন (৫৫) নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় আক্তারকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছেন মহানগরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আলালসহ ছয়জন। 

কুমিল্লা মহানগর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে তার ভাই ও পরিবারের সদস্যরা আক্তার হোসেনকে হত্যা করেছেন বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে জেলার কোটবাড়ির চাঙ্গিনীতে এ ঘটনা ঘটে।

আক্তার হোসেন চাঙ্গিনী গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে। তিনি নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।  

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নগরের চাঙ্গিনী এলাকার আক্তার হোসেন ও কাউন্সিলর আলমগীর হোসেন সম্পর্কে চাচাতো ভাই। আক্তারদের ঘরের পাশের একটি জায়গা নিয়ে কাউন্সিলরের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব ছিল। এ ছাড়া নিহতের ছোট ভাইয়ের সঙ্গে কাউন্সিলর আলমগীরের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। শুক্রবার সকালে নিহত আক্তার ও কাউন্সিলরের এক ভাইয়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কাউন্সিলর আলমগীর, তার পাঁচ ভাই, ভাতিজা ও পরিবারের সদস্যরা মসজিদের কাছে নামাজের আগে অবস্থান নেয়। চাঙ্গিনী মসজিদে জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিরা বের হওয়ার সময় কাউন্সিলর আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে তার ভাই ও ভাতিজারা মসজিদ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে কয়েকশ মানুষের সামনে আক্তারকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। এরপর কুমিল্লা নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান আক্তার হোসেন। আক্তারকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হামলায় আহত হন শাহজালাল আলাল, মো. হোসাইন, রেজাউল করিম, মো. সোহাগ, মনির হোসেন ও মো. শাকিল।

পুলিশ কাউন্সিলর আলমগীর হোসেনের তিন ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন, তফাজ্জল হোসেন ও আমির হোসেনকে আটক করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়।  
কাউন্সিলরের পরিবারের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়।

নিহতের ভাই যুবলীগ নেতা আলাল জানান, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকালে জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এলাকায় ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় কাউন্সিলর আলমগীরকে নিমন্ত্রণ না করায় সে ক্ষিপ্ত হয়। এ নিয়ে সকাল থেকেই তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। ঘুড়ি উৎসবে আমন্ত্রণ না পেয়ে এবং পূর্ববিরোধের জের ধরে এ হামলা চালানো হয়।  

নিহত আক্তারের ছেলে মো. সোহাগ হোসেন বলেন, কাউন্সিলর, তার ভাই, ভাতিজা ও পরিবারের সদস্যরা আমার বাবাকে মসজিদ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে সবার সামনে কুপিয়ে হত্যা করে। আমিও বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হই।

এ বিষয়ে কাউন্সিলর আলমগীর হোসেন বলেন, আক্তারের সঙ্গে জায়গা নিয়ে বিরোধ আছে। এ ছাড়া আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে নানা ধরনের অপপ্রচার চালায় আক্তারের লোকজন। এই কারণে নামাজের পর ঝামেলা হয়।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর জানান, এ ঘটনায় কাউন্সিলর আলমগীরের তিন ভাই আমির, জাহাঙ্গীর ও বিল্লালকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, কাউন্সিলর আলমগীর ও তার ভাইয়েরা আক্তারের ওপর হামলা চালায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। নামাজ শেষ হওয়ার পর কাউন্সিলরের পরিবার এ হামলা করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যার কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

বাংলাদেশ সময়: ২০৫০ ঘণ্টা, জুলাই ১০, ২০২০
আরবি/ওএইচ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa