ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৪ আগস্ট ২০২০, ১৩ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

করোনা মোকাবিলায় নাগরিক সমাজকে যুক্ত করার পরামর্শ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০-০৭-০৮ ০৮:৫২:২৩ পিএম
করোনা মোকাবিলায় নাগরিক সমাজকে যুক্ত করার পরামর্শ নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ আয়োজিত ভার্চ্যুয়াল সংলাপ

ঢাকা: করোনা মহামারির নানামুখী চ্যালেঞ্জ থেকে উত্তরণে স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সমাজের ভূমিকা কার্যকর করতে সম্পদ, সমন্বয় ও স্বীকৃতি প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।

একই সঙ্গে জাতীয় নীতি কাঠামো প্রণয়ন করে সেখানে স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

বুধবার (০৮ জুলাই) এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ-এর আয়োজনে ‘স্থানীয় পর্যায়ে চলমান পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা: অর্জন ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক একটি ভার্চ্যুয়াল সংলাপ থেকে এসব বক্তব্য উঠে আসে।

এ সংলাপে চলমান মহামারি, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে তৃণমূল পর্যায়ে স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বিভিন্ন সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরিচালিত মতামত জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।

এসডিজি প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মতামত জরিপের ফলাফল উপস্থাপন ও প্রারম্ভিক বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, মহামারির সময়কালে স্থানীয় পর্যায়ে তৎপর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে সরকারি নীতি-কৌশল ও কর্মপন্থার সাথে যুক্ত করা হয়নি। এই প্রেক্ষিতে জাতীয় পর্যায়ে একটি নীতি-কৌশল গ্রহণ করে স্থানীয় পর্যায়ে তা দ্রুত ক্রিয়াশীল করা দরকার। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ও স্থানীয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে সচেতন ও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে তৎপর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো এসডিজি বাস্তবায়ন বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা মানুষদের উন্নতিকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। তাই এদের এই দুর্যোগকালে টিকে থাকার জন্য আর্থিক সহায়তা ও নীতি প্রণোদনার ব্যবস্থা করা সরকারের পক্ষ থেকে খুবই জরুরি।

সংলাপে বক্তারা বলেন, চলমান অতিমারিতে দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য, কর্মসংস্থানসহ সার্বিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, ত্রাণ ও নগদ সহয়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ইত্যাদি বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় নাগরিক সমাজের সংগঠন ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। অতিমারি মোকাবিলা সংক্রান্ত কার্যক্রম ছাড়াও স্থানীয় সংস্থাসমূহ তাদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। তবে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসায় স্থানীয় পর্যায়ের নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহ তাদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে আর্থিক সংকট সহ অন্যান্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। সীমিত আকারে পরিচালনার ফলে সকল কাজের অগ্রগতি পূর্ণাঙ্গভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ কর্তৃক পরিচালিত এক মতামত জরিপ থেকে দেখা যায়, দেশের স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করছে এমন প্রায় ৯০ শতাংশ বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে সম্পদের অপ্রতুলতা রয়েছে। প্রায় ৭৭ শতাংশ স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে এমন ৬৮ শতাংশ বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের মাঠকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সামগ্রীর যেমন, পিপিই, মাস্ক ইত্যাদির অভাব রয়েছে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান নানাবিধ ভূমিকা রাখলেও সরকারি নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে পর্যাপ্ত স্বীকৃতির অভাব রয়েছে। গণমাধ্যমেও তাদের অবদানের প্রচারণা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। অতিমারির বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলায় সঠিক ও বিজ্ঞানসম্মত তথ্য প্রচারে ধর্মীয় নেতাদের যুক্ত করা প্রয়োজন।

দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে এসডিজি প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপের সদস্যবৃন্দের মাঝে সিপিডি সিনিয়র ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, ব্র্যাক জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথের অ্যাডভাইজার ড. মুশতাক রাজা চৌধুরী, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী এবং নিউ এজ গ্রুপের ভাইস-চেয়ার আসিফ ইব্রাহীম উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ২০৪৫ ঘণ্টা, জুলাই ০৮, ২০২০
জিসিজি/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa