ঢাকা, বুধবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ সফর ১৪৪২

জাতীয়

শরীয়তপুরে পদ্মার ভাঙনে ১৫ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলীন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭২৯ ঘণ্টা, জুলাই ৮, ২০২০
শরীয়তপুরে পদ্মার ভাঙনে ১৫ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলীন

শরীয়তপুর: শরীয়তপুরে আবারও শুরু হয়েছে পদ্মার ভাঙন। গত সোমবার (৬ জুলাই) রাত ২টা থেকে হঠাৎ করে জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার উত্তর তারাবুনিয়া স্টেশন বাজার লঞ্চঘাটে ভাঙন শুরু হয়।

ভাঙনে ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়।  

এতে বাজারের সব ব্যবসায়ী ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভাঙন আতঙ্কে বাজারের প্রায় ৩০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্যত্র নিরাপদে সরিয়ে নেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে ভাঙন রোধে তাৎক্ষণিক জরুরি ভিত্তিতে ছয়টি প্যাকেজে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পদ্মার মাঝ নদীতে চর পড়ার কারণে ডান পাড় দিয়ে তীব্র স্রোত প্রবাহিত হওয়ায় নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে ভাঙন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শরীয়পুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ৬৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।  
 
স্টেশন বাজারের সভাপতি ও উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ইউনুস সরকার বাংলানিউজকে জানান, গত সোমবার (৬ জুলাই) রাত ২টার দিকে স্টেশন বাজারের ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙন আতঙ্কে আরও ৩০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। ভাঙন ঠেকাতে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমের নির্দেশে তাৎক্ষণিক জরুরি ভিত্তিতে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু করেছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড।  

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব বাংলানিউজকে বলেন, শরীয়তপুরে প্রতিবছরই পদ্মার ভাঙন দেখা দেয়। এ বছরও ভাঙন দেখা দিয়েছে। পদ্মার মাঝ দিয়ে চর পড়ার কারণে ডান তীরে নদীর স্রোত প্রবাহিত হওয়ায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে ছয়টি প্যাকেজে বলুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু করেছি। এছাড়া স্থায়ী ভাঙন রোধে ৬৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প পাস হলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ শুরু করা যাবে।  

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আল নাসিফ বাংলানিউজকে বলেন, ভাঙন রোধে দ্রুত বালুভর্তি জিও ব্যগ ডাম্পিং চলছে। এছাড়া ভাঙনের শিকার দোকান মালিকদের তালিকা করে ডিসি অফিসে পাঠানো হয়েছে। তাদের নগদ অর্থ ও টিন দেওয়া হবে।  

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, ২০১৭-২০১৮ সালে জাজিরার কুন্ডেরচর থেকে নড়িয়ার সুরেশ্বর পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার এলাকা ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়ে। সে সময় পদ্মার ভাঙনে প্রায় ১০ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঐতিহ্যবাহী মূলফৎগঞ্জ বাজারের একাংশ, বড় বড় স্থাপনা, বহু সরকারি- বেসরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চোখের সামনে পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। ওই ভাঙনের পর তা রোধ করার জন্য ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সরকার ১১শ’ কোটি টাকা ব্যায়ে ‘জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলায় পদ্মা নদীর ডানতীর রক্ষা প্রকল্প’ নামে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়। যার মধ্যে ৮ দশমিক ৯ কিলোমিটার তীর রক্ষা কাজ ও ১২ কিলোমিটার নদীর চর খনন কাজ। ওই বছর ডিসেম্বরে নদীর তীর রক্ষা কাজ শুরু করা হয়। এরপর নড়িয়া ও জাজিরায় তেমন পদ্মার ভাঙন দেখা যায়নি। এ বছর নতুন করে হঠাৎ ভেদরগঞ্জ উপজেলায় পদ্মার ভাঙন শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭০৬ ঘণ্টা, জুলাই ০৮, ২০২০
এনটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa