ঢাকা, বুধবার, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

মেঘনায় অবাধে বাগদা শিকার, ধ্বংস হচ্ছে দেশি মাছ

ছোটন সাহা, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৯৫০ ঘণ্টা, জুলাই ৫, ২০২০
মেঘনায় অবাধে বাগদা শিকার, ধ্বংস হচ্ছে দেশি মাছ

ভোলা: নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভোলায় মেঘনা নদীতে বন্ধ হচ্ছে না বাগদা রেনু শিকার। এক শ্রেণির মুনাফালোভী জেলে চক্র মশারি জাল দিয়ে বাগদা শিকার করেই চলেছে।

ওই জালে বাগদা রেনুর সঙ্গে উঠে আসছে বিভিন্ন দেশি প্রজাতির মাছের পোনা। যা বাগদা শিকারিরা নদী তীরেই ফেলে যাচ্ছেন।

ফলে শুধু বাগদাই নয়, হুমকির মুখে পড়ছে অন্যান্য প্রজাতির মাছের পোনা ও ডিম। নির্বিচারে ডিম ও পোনা ধ্বংস করায় কমে যাচ্ছে নানা জাতের দেশি মাছের উৎপাদন। ফলে বাজারে দেশি মাছের সরবরাহ কমে বাড়ছে দাম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নদীর তীর ঘেঁষে কিংবা চরের মধ্যে মশারি জাল দিয়ে প্রতিদিন চলছে বাদগা রেনু শিকার। সঙ্গে উঠছে নানা জাতের মাছের পোনা ও ডিম আর বিভিন্ন প্রজাতির পোকা-মাকড়। এরপর বিশেষ পাত্রে বাগদা রেনু রেখে বাকিগুলো বাইরে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। ফলে অন্যান্য প্রজাতির মাছ ধ্বংসের পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।

ভোলার হাকিমুদ্দিন, কোড়ারহাট, তুলাতরী, ইলিশা, মদনপুর, শিবপুর, লালমোহন, কচ্ছপিয়া, রাজাপুর, রামদাসপুর ও চরফ্যাশনের শতাধিক পয়েন্টে অবাধে রেনু শিকার চলছে। আহরিত একেকটি পোনা দুই টাকা করে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন তারা। যা পাইকাররা পরে কৌশলে পাচার করেন ঘের ও হ্যাচারি মালিকদের কাছে।

ভোলায় মেঘনার বিভিন্ন পয়েন্টে অবাধে বাগদা শিকার চললেও তা বন্ধে নেই কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ। এতে অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন শিকারিরা।

বাগদা রেনু আহরণ ঠিক নয় স্বীকার করে কয়েকজন শিকারি বলেন, বৈশাখ থেকে আষাঢ় পর্যন্ত বাগদা রেনু পাওয়া যায় নদীতে। ইলিশ বা অন্যান্য মাছ ধরতে হলে নদীর গভীরে যেতে হয়, দরকার পড়ে নৌকার, ইঞ্জিন চালিত নৌকার জন্য আবার জ্বালানি তেল লাগে, সব মিলিয়ে তাতে খরচ ও শ্রম দুই-ই লাগে অনেক বেশি। আর বাগদা রেনু শিকার করা যায় নদীর তীর ঘেঁষেই, সঙ্গে একটা মশারি জাল আর পাত্র হলেই চলে। অন্য মাছ ধরার চেয়ে অনেক সহজে ও বিনা পুঁজিতে শিকার করা যায় বাগদা রেনু। আর দামও পাওয়া যায় ভালো। একেকজনের প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে হাজার টাকা আয় হয়, তাই ছেলে-বুড়ো সবাই নেমে পড়েন বাগদা শিকারে। বাগদা রেনুর মৌসুমে অনেক জেলেই অন্য মাছ ধরা বাদ দিয়ে রেনু শিকার করেন। তবে রেনু শিকারের সময় অন্যান্য প্রজাতির পোনাও জালে উঠে আসে। বাগদা রেনু রেখে বাকি পোনাগুলো নদী তীরেই ফেলে দেওয়া হয়। যা নষ্ট হয় সেখানেই।

 বাগদা চিংড়ির পোনা শিকার করছেন জেলে।  ছবি: বাংলানিউজখোঁজ নিয়ে জানা গেল, অন্য জেলায় ভোলার বাগদা রেনুর চাহিদা থাকায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বেশি মুনাফার আশায় অনেক জেলে বাগদা শিকারে নেমে পড়েছেন।

ভোলা মৎস্য ও জেলে সমিতির সভাপতি মো. এরশাদ বলেন, আমরা জেলেদের বাগদা শিকার করতে নিষেধ করেছি, কিন্তু তারা আমাদের কথা শোনেন না। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

ভোলা সদর সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বাংলানিউজকে বলেন, বাগদা শিকার বন্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে, এছাড়া প্রচারণাও চালাচ্ছি। অনেক জেলেকে ডেকে এনে বাগদা শিকার করতে নিষেধ করা হচ্ছে।

এদিকে বাগদা রেনু শিকার বন্ধ করে দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষার দাবি ভোলাবাসীর।

বাংলাদেশ সময়: ০৯৩৭ ঘণ্টা, জুলাই ০৫, ২০২০
এসআই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa