ঢাকা, বুধবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

মধুমাসে বাজার ভরা সুস্বাদু আনারস

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন, ডিভিশনাল সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১২৮ ঘণ্টা, জুন ২৫, ২০২০
মধুমাসে বাজার ভরা সুস্বাদু আনারস

মৌলভীবাজার: চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল। চায়ের পরই যে ফলটির জন্য দেশব্যাপী খ্যাতি রয়েছে শ্রীমঙ্গলের, তার নাম আনারস। দূর-দূরান্ত থেকে বিক্রেতারা এসে কিনে নিয়ে যান এখানকার আনারস। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় শরীরে বৃষ্টি মেখে অপূর্ব সুস্বাদু হয়ে আছে এই আনারস।

মধুমাস ঘিরে শ্রীমঙ্গলের বাজারজুড়ে এখন প্রাকৃতিক তিন ধরনের আনারসের ছড়াছড়ি। মৌসুমি ফল হিসেবে আনারস এই চা শিল্পাঞ্চলে আপন শ্রেষ্ঠত্ব ধারণ করে আছে।

পুষ্টি গুণাগুণ বিবেচনার ক্ষেত্রেও দেখা যায় আনারসের জুড়ি নেই!

জায়েন্টকিউ, হানিকুইন এবং জলডুবি এই তিন জাতের আনারসের মৌ-মৌ ঘ্রাণ এখন বাজারে। শুধুই দামদর করে ব্যাগে ভরে বাসায় আনার অপেক্ষা।

বিদেশি ফলের বিপরীতে দেশি ফলের প্রতি সচেতন মানুষের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। সেই বিশ্বাসটুকুতেই মৌসুমি ফল বিক্রিতাদের একমাত্র ভরসা। তাই তো তারা অন্য পেশা আপাতত বাদ দিয়ে এই মৌসুমি ফল ব্যবসায় নেমেছেন।
আনারস হাতে নিয়ে ভোক্তাকে দেখাচ্ছেন বিক্রেতা, ছবি: বাংলানিউজ
 বুধবার (২৪ জুন) সকালে শ্রীমঙ্গল শহরের পুরান বাজার ঘুরে দেখা যায়, আনারসের প্রচুর ভ্রাম্যমাণ দোকান। পাকা সড়কে ওপর প্লাস্টিকের বস্তা বিছিয়ে; অথবা ফলের প্লাস্টিকের ঝুড়ির ওপর কিংবা কেউ কেউ আবার পাকা সড়কের ওপরই আনারস রেখে বিক্রি করছেন।

প্রায় ২৫ বছর ধরে মৌসুমি দেশি ফলের ব্যবসা করছেন আবুল মিয়া। এ আনারস বিক্রেতা বাংলানিউজকে বলেন, এখন বিলাতি (স্থানীয় নাম) আনারসের সিজন। এটি প্রাকৃতিক। কোনো প্রকার হাইব্রিড জাতীয় নয়। ফলটি দারুণ মিষ্টি। আর কিছুদিন পরে ফলটি পাওয়া যাবে না। এগুলো শ্রীমঙ্গল শহরের মহাজিরাবাদ, ডলুছড়া, পিচের মুখ এলাকা থেকে আসে।

দরদাম সম্পর্কে তিনি বলেন, বড় সাইজের বিলাতি আনারস প্রতি পিস ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, মাঝারি সাইজের আনারসের দাম ১৮ থেকে ২৫ টাকা এবং ছোট সাইজের দাম পড়ে ১০ থেকে ১৫ টাকা। তবে সব সাইজের আনারসই মিষ্টি। যার যার প্রয়োজন মতো ক্রেতারা কিনছেন।

অপর আনারস ব্যবসায়ী রাম দেবনাথ বাংলানিউজকে বলেন, সারাদিনে প্রায় ১০-১২ হাজার টাকার আনারস বিক্রি করি। প্রতি ১০০ পিসের দাম আকারভেদে এক হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা।

‘এটা আমার সিজনাল ব্যবসা। আমার মতো প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন ব্যবসায়ী এই পুরান বাজারে মৌসুমি ফলের ব্যবসায় জড়িত। সবার বিক্রিই ভালো। সব খরচ বাদ দিয়ে দিনে ৫০০ থেকে হাজার টাকা লাভ থাকে। ’
কেনার আগে ভোক্তা দেখে নিচ্ছেন আনারস, ছবি: বাংলানিউজশ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি বাংলানিউজকে বলেন, স্থানীয়ভাবে এগুলোকে বিলাতি আনারস বলে। যদিও এটা বিলাতি না। এর অরিজিনাল নাম ‘হানিকুইন’। এটি কিছুটা ছোট সাইজের এবং মধুর মতো মিষ্টি।

এ এলাকার ধারণা, বড় দেখেই মনে করে এটা বিলাতি! সেভাবেই এ নামকরণটিও হয়েছে। আসলে সেই বড় সাইজের আনারসের নাম ‘জায়েস্টকিউ’। এই বড় সাইজের আনারসটা কিন্তু অনেক এলাকাতেই হয়। আর ছোট সাইজের আনারসের নাম ‘জলডুবি’। এটাও খেতে খুব সুস্বাদু বলে জানান মোনালিসা সুইটি।

বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, সিলেটের আঞ্চলিক প্রধান (ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা) ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বাংলানিউজকে বলেন, প্রতি ১০০ গ্রাম আহারযোগ্য আনারসে রয়েছে- শূন্য দশমিক ৯ গ্রাম আমিষ, ৬ দশমিক ২ গ্রাম শ্বেতসার, ভিটামিন বি-১ শূন্য দশমিক ১১ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি-২ শূন্য দশমিক শূন চার মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ২১ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৮ মিলিগ্রাম, ৮৫ শতাংশ জলীয় অংশ, আয়রন ১ দশমিক ২ মিলিগ্রাম এবং ক্যারোটিন ১৮৩০ মাইক্রোগ্রাম। এই উপাদান আমাদের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

মহামারি করোনা ভাইরাসের এই সময়ে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আনারসসহ এ ধরনের মৌসুমি ও সাইট্রাস জাতীয় ফলমূল বেশি করে খাওয়ার পরামর্শ দেন এ পুষ্টিবিজ্ঞানী।

বাংলাদেশ সময়: ১১২০ ঘণ্টা, জুন ২৫, ২০২০
বিবিবি/টিএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa