ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ আগস্ট ২০২০, ২৩ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

বাগেরহাটে সুপেয় পানির যোগান দেবে ন্যানো ফিল্টেশন ইউনিট

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮৩৯ ঘণ্টা, জুন ১৩, ২০২০
বাগেরহাটে সুপেয় পানির যোগান দেবে ন্যানো ফিল্টেশন ইউনিট

বাগেরহাট: ঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে বসবাস উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের মানুষের। এর সঙ্গে রয়েছে সুপেয় ও নিরাপদ পানির তীব্র সংকট। এ সংকট সমাধানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বসানো হচ্ছে ন্যানো ফিল্টেশন ইউনিট। যার মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানিকে শতভাগ জীবাণুমুক্ত করে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে সাধারণ মানুষের মধ্যে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ‘ভূ-উপরিস্থ পানি পরিশোধনের মাধ্যমে রাঙ্গামাটি, বাগেরহাট ও ফরিদপুর জেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প’র মাধ্যমে বাগেরহাট জেলায় ৭৫টি ন্যানো ফিল্টেশন ইউনিট স্থাপন করা হবে।  

এর মধ্যে কচুয়া উপজেলায় ৯, মোরেলগঞ্জে ২৫, শরণখোলায় ১৮, মোংলায় ১৪ এবং চিতলমারী উপজেলায় ৯টি ইউনিট স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।

এ বছরের ৩০ আগস্টের মধ্যে সব ইউনিটের কাজ শেষ হবে। আধুনিক প্রযুক্তির একটি ইউনিট স্থাপনে প্রায় ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। পুকুর বা ভূ-উপরিস্থ যেকোনো উৎস থেকে বৈদ্যুতিক মটরের মাধ্যমে পানি সংগ্রহ করা হবে। ওই পানি কোনো রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার ছাড়া প্রাকৃতিক উপায়ে ৪টি ধাপে পরিশোধনের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরবরাহ ট্যাংকিতে যাবে। ওই ট্যাংকিতে পানি সরবরাহের জন্য দুটি ট্যাব থাকবে। এসব ট্যাব থেকে মিনিটে ১৬ লিটার হিসেবে ঘণ্টায় ৯৬০ লিটার বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যাবে। যা ওই এলাকার বিপুল পরিমাণ মানুষের সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

মোরেলগঞ্জ উপজেলার মাইনুল ইসলাম বলেন, আমাদের এই অঞ্চলে সুপেয় পানির ব্যাপক সংকট রয়েছে। কেনা পানি ছাড়া আমাদের তেমন কোনো ভরসা নেই। কয়েকটি পিএসএফ ছিল, যা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন এই ন্যানো ফিল্টেশন ইউনিট বসানো হচ্ছে। কর্মকর্তারা যেভাবে বলছেন সেভাবে সরবরাহ পেলে এটা আমাদের পানির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মোরেলগঞ্জ উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী এমডি মনিরুল ইসলাম বলেন, মোরেলগঞ্জের বেশিরভাগ এলাকা লবণাক্ত। এই উপজেলার জন্য ২৫টি ন্যানো ফিল্টেশন ইউনিট বরাদ্দ হয়েছে। যা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি দ্রুততার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করতে। ইউনিটগুলো স্থাপন শেষ হলে এই অঞ্চলের মানুষের পানির চাহিদা অনেকাংশে মিটবে বলে দাবি করেন তিনি।

শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আছাদুজ্জামান মিলন বলেন, জেলার সব থেকে বেশি লবণাক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা শরণখোলা। এই উপজেলার অধিকাংশ মানুষ সুপেয় পানির সংকটে ভোগে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ন্যানো ফিল্টেশন ইউনিট পানির চাহিদা মেটাবে। তবে চারটি ইউনিয়নের বিপুল পরিমাণ জনসংখ্যার এই উপজেলার জন্য ১৪টি ইউনিট যথেষ্ট নয়। এই এলাকার পানির চাহিদা পূরণের জন্য আরও বেশি ইউনিট স্থাপনের দাবি জানান এই জনপ্রতিনিধি।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের শরণখোলা উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী এসএম মেহেদী হাসান বলেন, এই উপজেলার ভূগর্ভস্থ পানি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহারের অনুপযোগী। ন্যানো ফিল্টেশন ইউনিট এই উপজেলা মানুষের জন্য একটি সময় উপযোগী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানিকে ৪টি ধাপে পরিশোধনের মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করা হবে। পরিশোধনের জন্য কোনো প্রকার রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হবে না। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ফিল্টার করা হবে। যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

এদিকে জেলার ৯টি উপজেলার শুধু ৫টিতে সুপেয় পানির জন্য এ প্রকল্প থাকায় অন্য উপজেলার জনপ্রতিনিধি ও সাধারণরা তাদের এলাকায়ও এই প্রকল্প সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন।  

প্রকল্প না থাকা উপজেলাগুলো হচ্ছে বাগেরহাট সদর, রামপাল, ফকিরহাট ও মোল্লাহাট। এসব উপজেলায়ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে।  

রামপাল উপজেলার হুড়কা ইউনিয়নের সুদেব গোলদার বলেন, শুনেছি বিভিন্ন এলাকায় ন্যানো ফিল্টেশন ইউনিট বসানো হচ্ছে। যার মাধ্যমে অনেক মানুষ সুপেয় পানি পাবে। আমাদের এই উপজেলায়ও এ ধরনের মেশিন বসালে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী উপকৃত হত।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী এফ এম ইসমাইল হোসেন বলেন, ভূ-উপরিস্থ পানি পরিশোধনের মাধ্যমে রাঙ্গামাটি, বাগেরহাট ও ফরিদপুর জেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের মাধ্যমে বাগেরহাট জেলার ৫টি উপজেলায় ৭৫টি ন্যানো ফিল্টেশন ইউনিট স্থাপন করার কাজ শুরু হয়েছে। ৩০ আগস্টের মধ্যে সব ইউনিটের কাজ শেষ হবে। প্রতিটি ইউনিট থেকে ঘণ্টায় ৯৬০ লিটার পানি পাবে স্থানীয়রা। যা বিপুল জনগোষ্ঠীর সুপেয় পানির চাহিদা মেটাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, কাজ শেষে এই প্রকল্প দেখভালের জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ সংলিষ্ট এলাকার গণ্যমান্যদের নিয়ে একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি করা হবে, যারা এই ফিল্টেশন ইউনিটটি পরিচালনা করবেন। এদের মাধ্যমে এই ইউনিটের বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যান্য মেইনটেন্যান্স ব্যয় পরিচালিত হবে।

বাংলাদেশ সময়: ০৮৩৫ ঘণ্টা, জুন ১৩, ২০২০
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa