কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর ব্যতিক্রমী ‘সেনা বাজার’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

কক্সবাজারে দুস্থ, অসহায় মানুষের জন্য সেনাবাহিনী আয়োজন করেছে বিনামূল্যের ব্যতিক্রমী হাট ‘সেনা বাজার’।

walton

কক্সবাজার: কক্সবাজারে দুস্থ, অসহায় মানুষের জন্য সেনাবাহিনী আয়োজন করেছে বিনামূল্যের ব্যতিক্রমী হাট ‘সেনা বাজার’। ঘূর্ণিঝড় আম্পান পরবর্তী সময়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কক্সবাজারে দুর্গত ও করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন অসহায় মানুষদের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী এবং কাঁচাবাজারের চাহিদা পূরণে ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তজার্তিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন (রামু সেনানিবাস) ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ নেয়। এসময় একইসঙ্গে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে।

নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী যেমন চাল, আটা, তেল, লবণ, ডাল এবং বিভিন্ন ধরনের সবজি সেনা বাজারের মাধ্যমে এক হাজার পরিবারের মধ্যে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। এছাড়া প্রায় দুইশ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ সামগ্রী দেওয়া হয়েছে।

সেনা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারের প্রবেশপথেই বসানো হয়েছে জীবাণুনাশক বুথ। সেখানে রাখা হয়েছে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা। আর সেই বাজারে গিয়ে অভাবী লোকজন সামাজিক দূরুত্ব বজায় রেখেই বিনামূল্যে সংগ্রহ করছেন নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

বাজার করতে আসা কলাতলীর হোটেল কর্মচারী লিয়াকত বলেন, ‘করোনা ভাইরাসকালে কর্মহীন হয়ে পড়ায়  হাতে কোনো টাকা পয়সা নেই। জমানো যা ছিল তা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে ধার দেনা করে সংসার চলছে। আজ সেনা বাজারে এসে এখানে বিনামূল্যে চাল, আলু, বরবটি, কচুর লতি, কাঁচামরিচসহ নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক জিনিস পেয়েছি। এমন দুর্দিনে সহায়তা পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’

তিনি বলেন, ‘অনেকদিন ধরে কানের ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছিলাম। এখানে এসে বড় ডাক্তার দেখাতে পেরেছি, ফ্রি ওষুধও পেয়েছি। ঈদের আগে সেনাবাহিনীর এ মহৎ উদ্যোগ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

কক্সবাজারে দুস্থ, অসহায় মানুষের জন্য সেনাবাহিনী আয়োজন করেছে বিনামূল্যের ব্যতিক্রমী হাট ‘সেনা বাজার’।আয়োজকরা জানান, লকডাউন ও সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাতের কারণে এ অঞ্চলের অনেক কৃষক উৎপাদিত সবজি বেচতে না পেরে বেকায়দায় পড়েন। যারা উৎপাদিত সবজি বাজারে বিক্রি করতে পারছিলেন না, সেনা সদস্যরা সেসব কৃষকের সবজি কিনে এ বাজারে নিয়ে আসেন। ফলে অসহায় মানুষের পাশাপাশি কৃষকরাও তাদের সবজির ন্যায্য মূল্য পেয়ে উপকৃত হয়েছেন।

রামু সেনানিবাসে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক দিক নির্দেশনায় সেনাবাহিনী প্রধানের নেতৃত্বে অসহায় এবং প্রান্তিক আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করার জন্য রামু সেনানিবাসের তত্ত্বাবধানে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অদূর ভবিষ্যতে উপজেলা পর্যায়েও এ ধরনের বাজারের আয়োজন করা হবে। সম্পূর্ণ অনাড়ম্বর ও ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজনে রামু সেনানিবাসের কর্মকর্তা ও সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বর্তমানে ঘূর্ণিঝড় আম্পান উপদ্রুত এলাকাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও বাঁধ পুনর্নির্মাণে স্থানীয়দের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন সেনা সদস্যরা। পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর ১০টি মেডিক্যাল টিম বৃহস্পতিবার (২১ মে) থেকে একযোগে কাজ করছেন বলেও জানানো হয়।

কক্সবাজার জেলা ও চট্টগ্রাম জেলার চারটি উপজেলায় গত ২৪ মার্চ থেকেই মাঠে আছে সেনাবাহিনী। টহল কার্যক্রমসহ করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতার ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং মাস্ক বিতরণ করছেন তারা। এছাড়া নিজেদের রেশন বাঁচিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজ ও সাবানসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী কর্মহীন অসহায় পরিবারের মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৫১৮ ঘণ্টা, মে ২২, ২০২০
এসবি/এফএম

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: কক্সবাজার
ঘরে বসেই মিলবে সিআইইউতে ভর্তির সুযোগ!
শাহরাস্তিতে শিশুকে হাত বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা
বিএসআরএম ফ্যাক্টরিতে দগ্ধ ১ জনের মৃত্যু, ৪ জন ঢাকায়
বেলকুচিতে আ’লীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫, গাড়ি ভাঙচুর
গাজীপুরে ট্রেনের ধাক্কায় এক ব্যক্তি নিহত


হাজারীগলির ফার্মেসিতে পুলিশের অভিযান, আটক ২
করোনায় কপাল খুলল সুয়ারেসের
‘শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা মানে আগুনে ঘি ঢেলে দেওয়া’
নির্ধারিত সময়েই শেষ হচ্ছে রূপপুর এনপিপির কাজ
রাঙামাটিতে করোনার উপসর্গ নিয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু