ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ আগস্ট ২০২০, ২৩ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

গৃহবন্দি রাজধানীবাসী, ফাঁকা সড়ক

বাংলানিউজ টিম | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬১৪ ঘণ্টা, মার্চ ২৭, ২০২০
গৃহবন্দি রাজধানীবাসী, ফাঁকা সড়ক সড়কে জনশূন্য। ছবি: জিএম মুজিবুর

ঢাকা: ‘আপনারা দয়া করে ঘরে থাকুন। জরুরি কোনো কাজ না থাকলে ঘর থেকে বেরোবেন না।’ এ সতর্কবার্তা রাজধানীতে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে। অঘোষিত লকডাউনের কারণে রাজধানীবাসী এখন কার্যত গৃহবন্দি। তবে ‘আসছে দিন ভালো হবে’ এ প্রত্যাশায় এ বন্দিদশাকে স্বাগত জানিয়েছে নগরবাসী।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে জুমার নামাজের সময় বেশ ভিড় লক্ষ্য করা যায় রাজধানীতে। তবে এর আগে বা পরে এ ভিড় ছিল না রাজপথে।

এ দিন দুপুর দুইটা থেকে বিকেল তিনটার এই সোয়া এক ঘণ্টায় এ বাংলানিউজের প্রতিবেদকরা ঘুরে বেড়ান রাজধানীর দয়াগঞ্জ মোড়, টিকাটুলি, মতিঝিল, গুলিস্তান, পল্টন, শাহবাগ, বাংলামোটর, কাওয়ানবাজার, বিজয়সরণি মোড়, মহাখালী, গুলশান এক ও দুই, নতুন বাজার এবং প্রগতি সরণিসহ বিভিন্ন এলাকায়। সড়কে জনশূন্য।  ছবি: জিএম মুজিবুর দীর্ঘ এই যাত্রায় স্বাভাবিকভাবেই নজরে পড়েনি কোনো গণপরিহন। কারণ বৃহস্পতিবার থেকে সরকারি নির্দেশে তা বন্ধ। তবে নজরে পড়েনি ব্যক্তিগত গাড়ি। তবে কিছু সংখ্যক মাইক্রোবাস নজরে এসেছে। যার অধিকাংশই জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের অফিসে আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর বাইরে মোটরসাইকেল নজরে পড়েছে গোটা দশেক। যার অর্ধেকই পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের। বাইসাইকেল নিয়েও বেরোতে দেখা গেছে গোটা তিনজনকে।

রাজধানীর দয়াগঞ্জ মোড়ে কথা হয় আশিকুর মাতুব্বরের সঙ্গে। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্দেশনা ছিল ঘরে বসে নামাজ পড়ার। কিন্তু জুমার নামাজ বলে আদায় করতে চলে এসেছি মসজিদে। আমি বাংলাদেশের জন্য খাস দিলে দোয়া করেছি। যাতে করোনা ভাইরাস আমাদের কাছ থেকে দূরে চলে যায়। মতিঝিল ফাঁকা।  ছবি: শাকিল আহমেদশুক্রবার দুপুরে অনেককেই দেখা যায়, পাড়ার মুদির দোকানগুলোতে ভিড় জমাতে। নারিন্দার মুখে দাঁড়িয়ে কোমল পানীয় কিনছিলেন বেসরকারি একটি সংস্থার কর্মকর্তা হাসিবুর হাসান। তিনি বলেন, এখন তো প্রতিদিনই শুক্রবার। তারপরও শুক্রবার বলে বাসায় পোলাও-মাংস রান্না হয়েছে, এজন্য কোমল পানীয় নিয়ে গেলাম। খাওয়া-দাওয়া, অনলাইনে চ্যাটিং, বইপড়া আর ছোট ছোট কিছু কাজ করেই নিজেদের ‘বন্দিদশা’ পার করছেন রাজধানীবাসী।

এদিকে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, ইসিবি চত্বর, বাউনিয়াবাধ,কালশী রোড, প্যারিস রোড, ঝুটপট্টি, বেনারসিপল্লি, মুসলিম বাজার, মিরপুর ১,২,৬,৭,১০, ১১,১২,১৩,১৪ নম্বরের প্রধান ও শাখা সড়কগুলো ফাঁকা।  

কালশী রোডের দোকানি ইসরাফিল আহমেদ পিন্টু বাংলানিউজকে বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য সব দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র মুদির ও ওষুধের দোকান আর বাজার খোলা রাখা হয়েছে।

বাউনিয়াবাধ এলাকার বাসিন্দা মো. সোলায়মান বলেন, জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়েছিলাম। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে মসজিদে লোকসমাগম এখনো কমেনি আগের মতই আছে।  

তিনি বলেন, মসজিদের থেকে বলা হচ্ছে ফরজ নামাজ পড়ে বাসায় চলে যেতে। বাকি সুন্নত নামাজ যেন বাসায় আদায় করা হয়। কিন্তু কেউ কথা শুনছেন না।  

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, সচেতন মানুষজন ঘরে থাকার বিষয়টি ভালোভাবেই নিয়েছেন।  

তিনি আরও বলেন, মুদির দোকানগুলো পাড়া-মহল্লার মধ্যে এত বেশি, এগুলো ম্যানেজ করা কঠিন হয়ে যায়। তারপরও আমরা শিডিউল করে দিয়েছি, সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মুদির দোকান খোলা রাখবে। আর বিকেলে পাঁচটা থেকে আটটা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখবে। এভাবেই মেনে চলছে আমার এলাকার মুদি দোকানগুলো।  

বাংলাদেশ সময়: ১৫৩০ ঘণ্টা, মার্চ ২৭, ২০২০
ডিএন/এমএমআই/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa