সুনসান খুলনা নগরী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

খুলনার রাস্তাঘাট ফাঁকা, ছবি: বাংলানিউজ

walton

খুলনা: প্রাণচঞ্চল খুলনার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন ফাঁকা। নগরীজুড়ে সুনসান নীরবতা। মার্কেট, বিপণী বিতান, শপিংমল বন্ধ। তবে কিছু দোকানপাট খোলা থাকলেও ক্রেতাশূন্য। কিছু রিকশা, মাহেন্দ্র ও ইজিবাইক চলছে। 

করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে যেন থমকে গেছে গোটা শহর। করোনা ভাইরাস মানুষের স্বস্তি প্রায় কেড়ে নিয়েছে। বিষণ্ন মন নিয়ে গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন মানুষ। দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। করোনা প্রতিরোধে সরকারিভাবে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে জনসমাগম এড়াতে সাধারণ মানুষকে বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া, হাত ধোয়া ও নিয়মিত পরিষ্কার থাকার পাশাপাশি বিদেশফেরত নাগরিকদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন থেকে। বুধবার (২৫ মার্চ) সেনাবাহিনী মাঠে নামার পর রাস্তাঘাট একদম জনশূণ্য হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরা মাঠে থাকায় কেউ সাহস করে বাইরে বের হচ্ছেন না। 

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে গল্লামারী শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণে নেই কোনো জনস্রোত। অন্য বছরগুলোর চাইতে তাই ব্যতিক্রমই বলতে হবে স্বাধীনতা দিবসের এই দিনটিকে। সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে ছাড়ছে না কোনো গাড়ি। ফাঁকা রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাট।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সংবাদকর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গুটিকয়েক দোকানি ও স্বল্প আয়ের হাতেগোনা কিছু লোকজন ছাড়া কেউ বাইরে আসছেন না।

বলা যায়, করোনা আতঙ্কে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে বিভাগীয় নগরী খুলনা। এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগীর সন্ধান না মিললেও বাড়তি সতর্কতায় থমকে গেছে জনজীবন। তবে দুর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ।

করোনা প্রতিরোধে সরকার ১০ দিন ছুটি ঘোষণা করায় রাজধানীসহ শহরের মানুষ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে গ্রামে গেছেন। সেখানে তারা স্থানীয় চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন আড্ডা স্থলে জমজমাট আড্ডা দিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। 

এদিকে খুলনায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিদেশফেরত ১৬৭৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এছাড়া ৭৬ জনকে কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত খুলনা হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিল ১৫৪৮ জন। সেই হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নতুন করে ১২৬ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় খুলনা সিভিল সার্জনের দফতর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ জানান, বিদেশফেরত ব্যক্তিদের তাদের বাড়িতেই থাকতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেছে, তারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নন। তারপরও অন্তত ১৪ দিন তাদের বাড়ির বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, করোনার সংক্রমণ এড়াতে জনসাধারণকে জনবহুল এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতা বাড়াতে মাইকিংসহ নানা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। 

বাংলাদেশ সময়: ১৩৪৪ ঘণ্টা, মার্চ ২৬, ২০২০
এমআরএম/ওএইচ/

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: খুলনা করোনা ভাইরাস
কিশোরগঞ্জে কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়পত্র পেল ১১৯৫ জন
করোনায় আক্রান্ত বার্সার ভাইস প্রেসিডেন্ট
নিয়ম না মানলে করোনা প্রতিরোধ কঠিন হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মাস্ক জীবাণুমুক্ত করতে রেডিয়েশন ব্যবহার করছে রাশিয়া
করোনায় আক্রান্ত বার্সার ভাইস প্রেসিডেন্ট


করোনায় স্পেনে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৮০৯
বাড়ছে টোকিও অলিম্পিকে পুরুষ ফুটবলে বয়সসীমা
করোনা সংকটে মৎস্যচাষিদের প্রণোদনা দেওয়ার আশ্বাস
করোনা: শবে বরাতে নিজ বাসায় নামাজ আদায়ের আহ্বান
সাদুল্যাপুরে আরও একজনের শরীরে করোনা শনাক্ত, ১৫ বাড়ি লকডাউন