php glass

ফেরত আসা প্রবাসীদের ডাটাবেজ চালু হচ্ছে ডিসেম্বরের মধ্যে

গৌতম ঘোষ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

প্রবাসী শ্রমিক।

walton

ঢাকা: ফেরত আসা প্রবাসীদের নিয়ে আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই ডাটাবেজ চালু হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় একটি সফটওয়্যার করা হচ্ছে। সেখানে ফেরত আসা প্রতিটি প্রবাসীর নাম ঠিকানাসহ কতদিনের জন্য এসেছেন, কত বছর পর এসেছেন, কতবার এসেছেন, একেবারে চলে এসেছেন কিনা এসব তথ্য থাকবে। 

এর ফলে সরকার সহজেই ফেরত আসা প্রবাসীদের সঠিক ডাটাবেজ তৈরি করতে পারবে। একইসঙ্গে ফেরত আসা কর্মীদের পুনর্বাসন কাজও সরকার নির্ভুলভাবে করতে পারবে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদেশ থেকে ফেরত আসা কর্মী বা প্রবাসীদের সঠিক কোনো ডাটা সরকারের কাছে নেই। তাই এলক্ষ্যে সরকার একটি রূপকল্প বাস্তবায়ন করছে। এতে সহায়তা দিচ্ছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। প্রতিষ্ঠানটি একটি সফটওয়্যার তৈরি করে দেবে। যেখানে ফেরত আসা সব প্রবাসীর তথ্য থাকবে। যা নিয়ন্ত্রণ করবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। 

বর্তমানে সরকারের কাছে ফেরত আসা প্রবাসীদের কিছু তথ্য আসে, সীমান্ত ও ইমিগ্রেশন থেকে। এতে সামান্য কিছু তথ্য পাওয়া যায়। বিশাল পরিসরে তথ্য সংরক্ষণের জন্য সরকার এ উদ্যোগটি নিয়েছে। যদিও প্রতিষ্ঠানটির গত জুলাই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে এটি সম্ভব হয়নি। ফলে তারা দুই মাস সময় বেশি নিয়েছে। সে হিসেবে নভেম্বরে চালু করার কথা, তারপরও একটু সময় বেশি ধরে সেটি ডিসেম্বর ধরা হয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাস কল্যাণ ডেস্ক থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে মোট ৩৪ হাজার ২১২ জন কর্মী দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে নারী কর্মী রয়েছেন ১১৮২ জন। আর সেপ্টেম্বর মাসে এসেছেন ৮ হাজার ৯১৯ জন। এর মধ্যে নারী কর্মী ছিলেন ২৫০ জন। যার বেশির ভাগ এসেছেন সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে।

এ বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের (অভিবাসী কল্যাণ অনুবিভাগ) অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বাংলানিউজকে বলেন, এ পর্যন্ত কতজন প্রবাসী দেশে ফেরত এসেছেন তার সঠিক পরিসংখ্যান দেওয়া সম্ভব নয়। সরকার ফেরত আসা প্রবাসীদের হিসাব রাখতে একটি সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এই সফওয়্যারটি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে আগামী দুই মাসের মধ্যে অর্থাৎ ডিসেম্বরের মধ্যে এর কার্যক্রম চালু করতে পারবো। এ বিষয়ে শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি বৈঠক হবে। সেখানে সফটওয়্যারে কী কী কার্যক্রম হবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) গত জুলাই মাসে কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় সময় বাড়াতে হয়েছে। যেহেতু সফটওয়্যারের কাজ এটি কেনা, এটি সেট করা, সেখানে কী কী বিষয় থাকবে, তথ্য প্রদানকারী কিভাবে তথ্য দেবেন। এই বিষয়গুলো সরকারসহ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি ফেরত আসা বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। এছাড়া দেশে ফিরেছেন বলে যারা অভিযোগ করছেন তাদের প্রত্যেকটি অভিযোগই আমরা যাচাই-বাছাই করছি। তবে আমরা বিষয়টি মাথায় নিয়েছি, এখন যাচাই-বাছাই চলছে। সফটওয়্যারটি আইওএম তৈরি করে দিলেও নিয়ন্ত্রণ করবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান বাংলানিউজকে বলেন, বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হয়ে এপর্যন্ত কতজন গেছেন আর কতজন ফেরত এসেছের এর কোনো সঠিক ডাটা সরকার বা কারো কাছে নেই। বর্তমানে বাংলাদেশ জনশক্তি রফতানি ব্যুরো (বিএমইটি) অভিবাসীদের স্মার্টকার্ড দেওয়ার সুবাদে এখন অভিবাসী হওয়ার একটা ডাটা পাওয়া গেলেও কতজন ফেরত এসেছে তার কোনো হিসাব পাওয়া যায় না। তবে সরকার ফেরত আসা কর্মীদের ডাটা তৈরিতে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় একটি সফটওয়্যার তৈরির বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যেখানে ফেরত আসা কর্মীদের হিসাব, কোন জেলার, কোন দেশ থেকে এসেছেন সেগুলো থাকবে। এই কাজটি সরকার যত দ্রুত করবে ততো সবার জন্য ভালো।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) আওতায় ফেরত আসা কর্মীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করছে ব্র্যাক। আমরা ফেরত আসা কর্মীদের বিমানবন্দরে খাবার দেওয়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা, কাউন্সিলিং করা এবং পরিবারে লোকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে থাকি।

ব্র্যাকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৯ এর সেপ্টেস্বর পর্যন্ত ১০/১১ বছরে সাড়ে ৫ লাখ অভিবাসী পাসপোর্ট ছাড়া বাংলাদেশে ফেরত এসেছেন। তারা সবাই এক কাপড়ে চলে এসেছেন। সবচেয়ে বেশি এসেছেন সৌদি আরব থেকে, প্রায় ২ লাখ। এর মধ্যে নারী কর্মী রয়েছেন ৮ থেকে ১০ হাজার। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছেন দেড় লাখ। মালয়েশিয়া থেকে এসেছেন ৯০ হাজার এবং ওমান থেকে এসেছেন ৩০ হাজার। এছাড়া কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, মালদ্বীপ, জর্ডান, লিবিয়া, সিঙ্গাপুর, লেবানন থেকেও ফেরত এসেছেন।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যমতে, ২০১৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত অভিবাসীর মোট সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ১৭ হাজার ৮৪ জন। এরমধ্যে নারী কর্মী গেছে ৭১ হাজার ৯৪৫ জন। সবচেয়ে বেশি অভিবাসী হয়েছেন সৌদি আরবে। দেশটিতে গত আট মাসে গেছেন ২ লাখ ৩৪ হাজার ৭১ জন। এর মধ্যে নারী কর্মী রয়েছেন ৪৪ হাজার ৭১৩ জন। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতে গেছেন ২ লাখ  ১৬২ জন। এর মধ্যে নারী কর্মী এক হাজার ৭০৮ জন। ওমানে গেছেন ৪৭ হাজার ৭৮৭ জন। এর মধ্যে নারী কর্মী ৭ হাজার ৯২৭ জন, কাতারে গেছেন ৪১ হাজার ৯৯৮ জন। এর মধ্যে নারী ২ হাজার ৫২৩ জন। সিঙ্গাপুরে গেছেন ৩৩ হাজার ৬৫ জন। এর মধ্যে নারী ৭৫ জন। জর্ডান গেছেন ১২ হাজার ৭০১ জন। এর মধ্যে নারী ১২ হাজার ১২৩ জন। লেবাননে গত আট মাসে মোট কর্মী গেছেন ৩ হাজার ৪১৫ জন। এর মধ্যে নারী কর্মী এক হাজার ১২২ জন।

বাংলাদেশ সময়: ০৯৩৩ ঘণ্টা, অক্টোবর ০৭, ২০১৯
জিসিজি/জেডএস

তিন শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ কিশোর আটক
না'গঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভে পুলিশের বাধা, আটক ১
নিজ পকেটের টাকায় বার্সায় ফিরতে হবে নেইমারকে!
বিএবির প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
খা‌লেদার অবমাননা মামলার অ‌ভি‌যোগ গঠন শুনা‌নি ৪ ডিসেম্বর


মহেশপুরে অস্ত্রসহ ডাকাত আটক
ডিএসইর সূচক বাড়লেও কমেছে সিএসইতে
মাঠে সতীর্থকে মেরে বড় শাস্তির মুখে শাহাদাত
দীপন হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে ১ ডিসেম্বর
নতুন বিয়ে, জরুরি ঘর আর অফিস ব্যালেন্স