php glass

শরৎকালেই হাঁটুজল তিস্তায়!

খোরশেদ আলম সাগর, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

তিস্তা নদী। ছবি: বাংলানিউজ

walton

লালমনিরহাট: ‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে/ বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল থাকে’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই কবিতার ছন্দ বইয়ের পাতায় থাকলেও বাস্তবে খরস্রোত তিস্তা শরৎকালেই পানির অভাবে শুকিয়ে হাঁটুজলে পরিণত হয়েছে। ভারতের একতরফা পানি নিয়ন্ত্রণ করায় বাংলাদেশ অংশে তিস্তা এখন ছোট নদী। ফলে তিস্তা অববাহিকায় জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।

জানা গেছে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর নীলফামারীর কালীগঞ্জ সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ঐতিহাসিক এ তিস্তা নদী। যা লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী বন্দর হয়ে ব্রক্ষপুত্র নদে মিশে যায়। তিস্তা নদী দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার হলেও বাংলাদেশ অংশে রয়েছে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার।

তিস্তার পানি প্রবাহ এককভাবে ব্যবহার করতে প্রতিবেশী দেশ ভারত গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণ করে। নিজেদের চাহিদা মেটানোর পরেই বাংলাদেশে পানি দেয় ভারত। প্রয়োজন ছাড়াই বর্ষাকালে বন্যার অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশে বন্যার সৃষ্টি করে।তিস্তা নদী। ছবি: বাংলানিউজপক্ষান্তরে শুষ্ক মৌসুমে পানির ব্যাপক প্রয়োজন দেখা দিলেও মিলে না এক কিউসেক পানি। এভাবে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার পানির কাঙ্ক্ষিত ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত। তিস্তার পানির নিয়ে দীর্ঘদিনের ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিটি এখনও পূরণ হয়নি তিস্তাপাড়ে।

ফলে বর্ষা শেষে শরৎ এলে বাংলাদেশ অংশে তিস্তা মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারীর ১২৫ কিলোমিটার তিস্তার অববাহিকায় জীবনযাত্রা, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। দেশের অন্যতম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার তিস্তা ব্যারেজ অকার্যকর হওয়ার উপক্রম হয়েছে।পানি নেই তিস্তায়। ছবি: বাংলানিউজতিস্তা নদীতে দিনভর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা জেলে ও খেয়াঘাটের মাঝিরা বর্তমানে কর্মহীন হতে বসেছে। সবমিলে চিরচেনা হিংস্রো তিস্তা এখন পানির ন্যায্য হিস্যা বঞ্চিত হয়ে ঢেউহীন শান্ত কবিতার ছোট নদীতে পরিণত হয়েছে। পানির অভাবে তিস্তা ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত তিস্তা রেলসেতু, তিস্তা সড়ক সেতু ও গংগাচওড়া শেখ হাসিনা সেতুটি যেন প্রহসনমূলকভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে ধু-ধু বালুচরের তিস্তার ওপর। ব্রিজ থাকলেও পায়ে হেঁটেই পাড় হচ্ছে অনেকেই। ঢেউহীন তিস্তায় রয়েছে শুধু বালু কনা। তিস্তার বুকে জেগে উঠা চরের বালু কনায় ভুট্টা, আলুসহ বিভিন্ন সবজি চাষাবাদের প্রস্তুতি নিলেও শরৎকালেই পানিশূন্য তিস্তায় সেচ নিয়ে চিন্তিত কৃষকরা।

তিস্তাপাড়ের জেলে সাইদুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, তিস্তা নদীতে মাছ ধরে চলে তার ৩ সন্তানের লেখাপড়া ও সংসার। গ্রীষ্মকালে তিস্তা পানিশূন্য হলে অন্য পেশায় শ্রম বিক্রি করেন। এ বছর শরৎকালেই হাঁটু জলে পরিণত হয়েছে তিস্তা। ফলে হেমন্তকাল না আসতেই মাছ ধরা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই সংসার সচল রাখা নিয়ে খুব চিন্তিত এই জেলে।হাঁটু জল তিস্তায়। ছবি: বাংলানিউজনৌকার মাঝি দেলোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে জানান, বর্ষাকালে খেয়াপাড়ে ও জেলেদের নৌকা ভাড়া দিয়ে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬শ টাকা আয় করেন। কিন্তু এখন পানি কমায় তিস্তায় নৌকা চলে না। তাই তিস্তা ব্যারাজে বেড়াতে আসা পর্যটকদের নৌ-ভ্রমণের আনন্দ দিয়ে দিনভর ২ থেকে ৩শ টাকা আয় করে কোন রকম সংসার চালাচ্ছেন তিনি।

তিস্তাপাড়ের কৃষক তাহাজুল ইসলাম, আবুল মিয়া ও খালেক বাংলানিউজকে জানান, বর্ষাকালে প্রচুর পানি ছেড়ে দেওয়ায় সৃষ্ট বন্যায় ফসলহানীসহ ঘরবাড়ি হারা হয় এ অঞ্চলের মানুষ। আবার শুষ্ক মৌসুমে ফসল রক্ষায় পানির প্রয়োজন হলেও তিস্তায় পানি দেয় না ভারত। এবার শরৎকালেই পানিশূন্য তিস্তাপাড়ের চরাঞ্চলে চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদী শাসন ও তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা না থাকায় তিস্তা নদী কৃষকের জন্য অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে।

আদিতমারী উপজেলার গোবর্দ্ধন তিস্তাপাড়ের সমাজকর্মী ফারহানা আক্তার বাংলানিউজকে জানান, জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা চাই। একইসঙ্গে তিস্তা নদী শাসন করে তিস্তার পানির বহুমুখি ব্যবহারের ব্যবস্থা করে দেশের উন্নয়নে এ অবহেলিত অঞ্চলকে কাজে লাগাতে হবে। এজন্য তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নে ভারত সরকারকে চাপ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, বেশ কিছুদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় শরৎকালেই কমেছে তিস্তার পানি। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষাকাল ধরা হয়। সেই অনুযায়ী এ অঞ্চলে বা ভারতের সিকিমে বৃষ্টিপাত হলে তিস্তায় পানি বাড়তে পারে। তবে বৃষ্টিপাত না হলে সেচ প্রকল্প সচল রাখা সমস্যা হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ০৮৪৯ ঘণ্টা, আগস্ট ২১, ২০১৯
এএটি/

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: লালমনিরহাট
ksrm
নিজের পোষা সাপের কামড়ে একজনের মৃত্যু
পেঁয়াজ পাইকারিতে ৬০, খুচরায় ৬৭
১৮ লাখ টাকার জালনোটসহ রোহিঙ্গা যুবক আটক
টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত
‘এক ভিলেন ২’ করবেন জন আব্রাহাম?


পুলিশকে হতে হবে জনবান্ধব: প্রধানমন্ত্রী
দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের রুখতে হবে
শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে ছাত্রলীগ
গজারিয়ায় বাসচাপায় বৃদ্ধের মৃত্যু, চালক আটক 
ডাক বিভাগে ১৬৮ পদে নিয়োগ