php glass

সাংবাদিক জলিলের মুক্তির দাবিতে স্মারকলিপি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিচ্ছেন সাংবাদিকরা। ছবি: বাংলানিউজ

walton

খুলনা: সাংবাদিক আব্দুল জলিলকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ঘটনার সুবিচার ও মুক্তির দাবিতে খুলনা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দুপুরে খুলনায় কর্মরত ৬৩ জন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক্স ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিক জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি দেন। 

এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ হেলাল হোসেন স্মারকলিপি গ্রহণ করে সাংবাদিকদের সুবিচার পাবেন বলে আশ্বাস দেন। 

স্মারকলিপিতে বলা হয়- আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে খুলনায় কর্মরত সাংবাদিকরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, গত ৭ জুলাই সকালে নগরের ৮৩, মুসলমানপাড়ার বাসিন্দা ও খুলনা প্রেসকাবের সহকারী সম্পাদক (ক্রীড়া) এবং দৈনিক খুলনাঞ্চল পত্রিকার সিনিয়র প্রতিবেদক আব্দুল জলিলের বাসভবনে আকস্মিক অভিযান চালায় খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। সংস্থাটির গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক পারভীন আক্তারের নেতৃত্বে উপ-পরিদর্শক মো. মোসাদ্দেক হোসেন, সিপাহী মো. জিল্লুর রহমান, মো. রুবেল হোসেন, মো. বোরহানুর রহমান মৃধা অভিযানে অংশ নেন। তাদের মধ্যে দু’জন জলিলের বাড়ির দেয়াল টপকে বাড়িতে ঢুকে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। এর কিছুক্ষণ পর জলিলের বাড়ির পাশের ড্রেন থেকে প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগে থাকা ১০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে। পরে সাংবাদিক জলিলকে আসামি করে মামলা দেয় সংস্থাটি। 

মামলায় বলা হয়েছে, সংস্থার লোকজন বাড়িতে ঢুকলে ঘরের জানালা দিয়ে ফেনসিডিলের ব্যাগটি ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়। কিন্তু সরেজমিনে গেলে দেখা যাবে, ওই জানালা দিয়ে ব্যাগ ফেলানো শুধু অবাস্তব নয়, অলৌকিক ঘটনা। পরে খুলনা সদর থানার মাধ্যমে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। 

স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয় যে, আব্দুল জলিল শুধু একজন সাংবাদিকই নন, তিনি একজন কৃতি ফুটবলার এবং দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক। ব্যক্তি জীবনে মাদকতো দূরে থাক, তিনি ধূমপানও করেন না। এছাড়া তিনি মুসলমানপাড়া স্থানীয় হাক্কানী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক। আমরা মনে করি, সাংবাদিক আব্দুল জলিলকে পরিকল্পিতভাবে মাদক দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। কিছুদিন আগে মাদক অধিদপ্তরের সোর্স টুটুলের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত প্রতিবেদন হওয়ার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা ধারণা করছি। সোর্স টুটুলের বিরুদ্ধে খুলনা থানায় মামলাও আছে। 

গ্রেফতারের নয়দিন আগে আব্দুল জলিল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামানের কাছে এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধের প্রতিকার চেয়েছিলেন। এখন তাকেই পরিকল্পিতভাবে মাদক মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। এ ঘটনার পর খুলনার সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীরা দারুণভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ গ্রহণ করেছেন। খুলনার কর্মরত সাংবাদিকরাও নিরলসভাবে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। এর ফলে মাদক ব্যবসায়ীসহ কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন। আব্দুল জলিলের ক্ষেত্রেও তেমনটি ঘটেছে। এসব ব্যক্তি বা কর্মকর্তারা প্রশাসনের অভ্যন্তরে থেকে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও মাদকবিরোধী অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। আমরা আপনার কাছে সাংবাদিক আব্দুল জলিলের গ্রেফতারের ঘটনার সুবিচার ও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৪২ ঘণ্টা, জুলাই ১১, ২০১৯
এমআরএম/আরবি/

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: খুলনা
উদ্যোক্তা হয়ে অন্যকে চাকরি দিন: ইউজিসি চেয়ারম্যান
খুলনা বিভাগীয় সমাবেশের অনুমতি পেলো বিএনপি
বগুড়ায় স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ
নুসরাত হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে আদালতে ৪ সাক্ষী
আগৈলঝাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবক নিহত


হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে নিয়োগ
‘থর’র হাতুড়ি যাচ্ছে নাতালি পোর্টমানের হাতে
শাবিপ্রবিতে ৯০ গার্বেজ বিন উদ্বোধন
‘ছেলেধরা সন্দেহভাজনদের মারধর না করে পুলিশে দিন’
ঢাকা-চট্টগ্রামে নদী-দূষণরোধে মাস্টারপ্ল্যান জমা কমিটিতে