php glass

অপরাধ প্রমাণিত হলে মোজাম্মেল হককেও আইনের আওতায় আনা হবে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

মতবিনিময় সভা, ছবি: বাংলানিউজ

walton

ঢাকা: পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মোজাম্মেল হকের অপরাধ প্রমাণিত হলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

তিনি বলেন, মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। যদি তার অপরাধ প্রমাণিত হয় অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকে বিএসআরএফের সভাপতি তপন বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেনসহ নির্বাচিত নেতা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে অমানসিক নির্যাতন করে বৃদ্ধের ৬২ বিঘা জমি লিখে নেওয়া অভিযোগ রয়েছে অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ডিআইজি মিজান কোনো ছাড় পাননি। অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ  এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ আমি দেখেছি। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত ও সঠিক হলে তিনি ছাড় পাবেন না। তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, ১৪ মার্চ মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাসের আদালতে মামলাটি করা হয়। বাদীর অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দেন আদালত। এরইমধ্যে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে। জাহের আলী নামের ৭০ বছরের এক বৃদ্ধ ও তার ছেলেকে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে আটকে রেখে জমিজমা লিখে নেওয়া হয়। এরপর সাজানো প্রতারণার মামলায় তাদের দীর্ঘদিন কারাগারে আটকে রাখে পুলিশ। 

মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হলেন, পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মোজাম্মেল হক ও তার স্ত্রী ফারজানা মোজাম্মেল। মামলায় আসামি হিসেবে ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদের মধ্যে আছেন- একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, রূপগঞ্জ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, একজন ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর, একজন সহকারী উপ-পরিদর্শক ও কয়েকজন কনস্টেবল। এছাড়া আসামি করা হয়েছে- সাবরেজিস্ট্রার, দলিল লেখক ও একজন ব্যাংক মানেজারকেও।

মামলার এজাহারে বলা হয়- রূপগঞ্জ বক্তবাড়ি এলাকার বাসিন্দা জাহের আলীকে ফোন করে থানায় ডেকে নেওয়ার পর থেকে তিনি বেশকিছু দিন নিখোঁজ ছিলেন। গত বছর ১০ জুলাই রূপগঞ্জ থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির ফোন করে তাকে থানায় যেতে বলেন। থানার ফোন পেয়ে কয়েকজন বন্ধুবান্ধব ও মেয়ের জামাই আবু তাহেরকে সঙ্গে নিয়ে তিনি থানায় যান। সেখান থেকে তাদের পুলিশ সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর থেকে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। রাতেও তারা ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েবি (জিডি) করতে যান। কিন্তু থানা পুলিশ জিডি না নিয়ে উল্টো তাদের হুমকি দিয়ে বলে, ‘এ নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করবেন না। আর বাড়াবাড়ি করলে পরিবারের সবাইকে মেরে গুম করে নদীতে ফেলে দেওয়া হবে।’ এর কয়েকদিন পর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, পুলিশ সদর দফতরে নিয়ে যাওয়ার পর জাহের আলী ও তার জামাইকে চোখ বেঁধে নির্জন স্থানে আটকে রাখা হয়েছে। এমনকি আটক থাকাবস্থায় ‘ক্রসফায়ারের’ ভয় দেখিয়ে তাদের সব জমিজমা লিখে নিতে চাচ্ছে পুলিশ।

এদিকে পুলিশি নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন বৃদ্ধ জাহের আলী। তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ সদর দফতরের চার তলায় অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মোজাম্মেলের রুমে নিয়ে যায় রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। সেখানে সবার হাতে হাতকড়া পরানো হয়। রাতে পুলিশ সদর দফতরে ডিবির লোকজন এসে হাজির হয়। তারা আমাদের চোখে কালো কাপড় বেঁধে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে আমাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানোর পর জমিজমা লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে পুলিশ। ডিবির ইন্সপেক্টর দীপক কুমার দাস আমাদের ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার ভয়ও দেখান। একপর্যায়ে ডিবি কার্যালয়ে আটক অবস্থাতেই আমরা মোট ১০টি দলিল রেজিস্ট্রি করে দিতে বাধ্য হই। ১১ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ১৩ দিন আমি এবং আমার ছেলে আবদুল মতিন ও মেয়ে জামাই আবু তাহের ডিবি অফিসে আটক ছিলাম। প্রতিদিনই আমাদের নির্মমভাবে পেটানো হতো। ভয়ভীতি ও নির্যাতনের মুখে আমাদের মালিকানায় যেসব ব্যক্তিগত জমি ছিল তার সবই অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মোজাম্মেল ও তার স্ত্রীর নামে লিখে দিতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু সবকিছু লিখে দেওয়ার পরও মুক্তি পাইনি। ১৬ জুলাই আমাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় একটি প্রতারণার মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়। ২৫ জুলাই ফের আমাদের রিমান্ডে নিয়ে আনে ডিবি পুলিশ। ২৬ জুলাই আদালতের আদেশে আনুষ্ঠানিক রিমান্ডে থাকাবস্থাতেই আমাদের কাছ থেকে আরও দু’টি দলিল রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়। এভাবে আমাদের বসতভিটাসহ মোট সাড়ে ৬২ বিঘা জমি লিখে নেওয়া হয়েছে। যার মূল্য অন্তত ৬০ কোটি টাকা।’

বৃদ্ধ জাহের আলী আরও বলেন, ‘আমাদের কপাল খারাপ। জমিজমাসহ সর্বস্ব লিখে দেওয়ার পরও আমাদের জেলে পাঠানো হয়। আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একের পর এক প্রতারণার মামলা হতে থাকে। ঢাকার শাহবাগ, ডেমরা থানায় একটি করে দু’টি এবং ১১টি প্রতারণার মামলা হয় রূপগঞ্জ থানায়। আদালত একটি মামলায় জামিন দিলেই আরেকটি পেন্ডিং মামলায় গ্রেফতার দেখানো হতো। ফলে জামিনের শত চেষ্টা করেও আমরা কারাগার থেকে বের হতে পারিনি। প্রায় ১ বছর আমাদের কারাগারে থাকতে হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫২৩ ঘণ্টা, জুলাই ১১, ২০১৯
জিসিজি/ওএইচ/

উদ্যোক্তা হয়ে অন্যকে চাকরি দিন: ইউজিসি চেয়ারম্যান
খুলনা বিভাগীয় সমাবেশের অনুমতি পেলো বিএনপি
বগুড়ায় স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ
নুসরাত হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে আদালতে ৪ সাক্ষী
আগৈলঝাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবক নিহত


হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে নিয়োগ
‘থর’র হাতুড়ি যাচ্ছে নাতালি পোর্টমানের হাতে
শাবিপ্রবিতে ৯০ গার্বেজ বিন উদ্বোধন
‘ছেলেধরা সন্দেহভাজনদের মারধর না করে পুলিশে দিন’
ঢাকা-চট্টগ্রামে নদী-দূষণরোধে মাস্টারপ্ল্যান জমা কমিটিতে