ঢাকা, শনিবার, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৮ আগস্ট ২০২০, ১৭ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

পাহাড় ধসের শঙ্কায় রাঙামাটিতে মাইকিং

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০১১১ ঘণ্টা, জুলাই ৯, ২০১৯
পাহাড় ধসের শঙ্কায় রাঙামাটিতে মাইকিং রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের শঙ্কায় মাইকিং

রাঙামাটি: গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ভূমিধসের শঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। 

সোমবার (০৮ জুলাই) সকাল থেকে বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং কার্যক্রম শুরু হয়। ঝুঁকি নিয়ে বসবাসরত লোকজনের জন্য বিভিন্ন এলাকায় চালু করা হয়েছে ২১টি আশ্রয়কেন্দ্র।

প্রস্তুত রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রীও।

পাহাড়ে বসবাসকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৭ সাল ছাড়া কখনো রাঙামাটিতে বড় ধরনের পাহাড় ধস হয়নি। তারা বলেন, পাহাড়ি অঞ্চল রাঙামাটি। সমতল পাবো কোথায়? তাই পাহাড়ে বসবাস করছি। কোনো ঘর ভাড়া করে থাকা আমাদের পক্ষ সম্ভব নয়। তাই, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে বসবাস করছি।

ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ির এলাকা শিমুলতলীর বাসিন্দা মো. শাহজাহান বাংলানিউজকে বলেন, অনেক বছর ধরে এ এলাকায় বসবাস করছি। কোনোদিন পাহাড় ধস দেখার অভিজ্ঞতা হয়নি। ২০১৭ সালে যে পাহাড় ধস হয়েছে তার কথা আমরা কোনোদিন ভুলবো না।  

ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও পাহাড়ে বসবাস করছেন কেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের থাকার কোনো জায়গা নেই। ঘর ভাড়া করার মতো সামর্থ নেই। তাই বাধ্য হয়ে পাহাড়ে থাকি।

রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার মো. রফিক বলেন, আমরা অতীতের সব দুযোর্গ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের পাশে ছিলাম, এখনো আছি। পাহাড় ধসের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ টিমকে তৈরি করে রাখা হয়েছে।

এছাড়া যান্ত্রিক সহায়তায় সেনাবাহিনী সবকিছু প্রস্তুতি সেরে রেখেছে বলে জানান সেনাবাহিনীর এ কর্মকর্তা।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক (ডিসি) একেএম মামুনুর রশীদ বলেন, আমরা সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি রয়েছি। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২১টি আশ্রয় কেন্দ্র। রোববার (০৭ জুলাই) রাত থেকে আমি নিজে সরেজমিনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি।  

সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ স্থানীয় ব্যক্তিদের একটি তালিকা করেছি এবং যেকোনো মূহর্তে তাদের কাজে লাগানো হবে।

ডিসি জানান, প্রত্যেক এলাকায় স্থানীয় কাউন্সিলরদের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো। জেলা প্রশাসন মাইকিং, পোস্টারিংয়ের মতো সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ পাহাড় ধসে সরকারি হিসেবে মতে ৯৮ জন এবং বেসরকারি হিসেব মতো আরও বেশি মানুষ মারা যায়। এছাড়া ২০১৮ সালের ১২ জুন নানিয়ারচর উপজেলার সাবেক্ষং ইউনিয়নে পাহাড় ধসে ১১জন নিহত হন।  

বাংলাদেশ সময়: ২১০৭ ঘণ্টা, জুলাই ০৮, ২০১৯
ওএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa