php glass

কাঁদতে কাঁদতে ধর্ষকের ফাঁসি চাইলেন সায়মার বাবা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বায়ে ডিবির হাতে আটক ধর্ষক হারুন ও ডানে শিশু সায়মার বাবা সালাম। ইনসেটে শিশু সায়মা

walton

ঢাকা: মাত্র দু’দিন আগেও ৭ বছরের শিশু সায়মাকে ঘিরে দিন কাটতো বাবা-মায়ের। সারাক্ষণ হাসি-খেলায় মাতিয়ে রাখতো পুরো পরিবারকে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আদরের সন্তান সায়মার পোশাক, বই ও ছবি এখন বাবা-মায়ের কাছে শুধুই স্মৃতি।

শুক্রবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় মাকে ১০ মিনিটের কথা বলে বাসা থেকে বের হয় শিশু সায়মা। এই যাওয়াই ছিল তার শেষ যাওয়া। সুযোগ বুঝে প্রতিবেশী হারুন অর রশিদ শিশু সায়মাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে পালিয়ে যান।

রোববার (৭ জুলাই) সকালে কুমিল্লার তিতাসের ডাবরডাঙ্গা এলাকা থেকে অভিযুক্ত হারুনকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সায়মার বাবা আ. সালাম। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কান্নায় ভেঙে পড়েন সন্তানহারা বাবা।

তিনি বলেন, আমার মেয়েকে দু’ভাবে নির্যাতিত করা হলো। আমি সর্বোচ্চ তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে আসামির ফাঁসি কার্যকর চাই।

খুবই অল্প সময়ের মধ্যে আসামিকে গ্রেফতার করায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যাদের সন্তান আছে তারা এসব কুরুচিপূর্ণ ব্যক্তির কাছ থেকে কীভাবে আপনার সন্তানদের দূরে রাখবেন বিষয়টি ভেবে দেখবেন। আমি আমার মেয়েকে দেখে রাখতে পারিনি। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মেয়েটা আমার স্ত্রীকে বলে ১০ মিনিটের জন্য বাইরে গেলো। এরপর আমার মেয়েটা আর ফিরলো না, তাকে নৃশংসভাবে খুন করা হলো।

আরও পড়ুন>>>শিশু সায়মা ধর্ষণ-হত্যা: মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার

গত দু’দিন ধরে আমি একফোঁটা পানিও খেতে পারিনি। ঘরে গেলে মেয়ের কাপড়-চোপড়, ছবি দেখে আর ঠিক থাকতে পারি না। আমার পুরো পরিবারটা বিধ্বস্ত হয়ে গেলো।

ভেজা গলায় মেয়ের স্মৃতিচারণ করে চলেন বাবা আ. সালাম। পরক্ষণেই চোখ মুছতে মুছতে বলেন, আজকের পর যেন ঘটনাটা ধামাচাপা পড়ে না যায়। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে ডিবি জানায়, সায়মাকে ছাদ ঘুরিয়ে দেখানোর প্রলোভনে ৮ তলার লিফট থেকে ছাদে নিয়ে যান হারুন অর রশিদ। সেখানে নবনির্মিত ৯ তলার ফ্ল্যাটে সায়মাকে ধর্ষণ করেন। এরপর নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকে সায়মা। মৃত ভেবে সায়মার গলায় রশি দিয়ে টেনেহিঁচড়ে রান্না ঘরের সিঙ্কের নিচে রেখে পালিয়ে যান হারুন।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনায় বলেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত কুরুচির পরিচায়ক। মানবতাবিরোধী অপরাধ। এ ধরনের অপরাধীরা সাধারণত ধর্ষণের পর যখন ভাবে এই অপকর্মের কারণে সে বাঁচতে পারবে না তখনই হত্যার মতো ঘটনা ঘটায়। এক্ষেত্রেও তাই ঘটিয়েছেন ঘাতক হারুন।

তিনি বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন মাকে বলে শিশু সায়মা ৮ তলায় যায়। সেখানে ফ্ল্যাট মালিক পারভেজের একটি বাচ্চা রয়েছে। তার সঙ্গে সায়মা প্রায়ই খেলাধুলা করতে যেতো। সায়মা ওই বাসায় গেলে পারভেজের স্ত্রী জানায় তার মেয়ে ঘুমাচ্ছে। সেখান থেকে বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে লিফটে ওঠে সায়মা। সেখানেই সায়মার সঙ্গে দেখা হয় পারভেজের খালাতো ভাই হারুনের। হারুন সায়মাকে লিফট থেকে ছাদ দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে ছাদে নিয়ে যায়।

সেখানে অত্যন্ত পাশবিকভাবে সায়মাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। সায়মা চিৎকার করলে সায়মার মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে। সায়মাকে নিস্তেজ দেখে গলায় রশি লাগিয়ে টেনে নিয়ে যায় রান্নার ঘরে। সেখানে সিঙ্কের নিচে সায়মার মরদেহ রেখে পালিয়ে যায়।

আব্দুল বাতেন বলেন, আসামি হারুন পারভেজের খালাতো ভাই। তিনি পারভেজের রঙের দোকানে কাজ করে আসছিলেন। সেই সুবাদে ওই বাসাতেই থাকতেন হারুন।

শুক্রবার (৫ জুলাই) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর ওয়ারীতে বহুতল একটি ভবনের ৯ তলার খালি ফ্ল্যাট থেকে শিশু সায়মার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই ভবনের ছয়তলায় নিহত তার বাবা আবদুস সালামসহ পরিবারের সঙ্গে থাকতো। সন্ধ্যার দিকে খেলা করতে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। তারপর থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল।

বাংলাদেশ সময়: ১৫০২ ঘণ্টা, জুলাই ০৭, ২০১৯
পিএম/এএ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: ধর্ষণ
ksrm
গ্রাহকের কাছে ওয়াসার পাওনা ৭৬ কোটি টাকা
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাতে চলছে স্পিডবোট
শিবচরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গৃহবধূর মৃত্যু
কোহলি-রাহানের ফিফটিতে বড় লিডের পথে ভারত
রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতের দায় নেবে না বাংলাদেশ


নতুন ভোটাররা সহসা স্মার্টকার্ড পাচ্ছেন না
‘প্রেসিডেন্টের টেবিলে’ পা তুলে সমালোচনায় জনসন
মহাকাশে গিয়েও জোচ্চুরি!
রোববার মাহী বি-তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক
ব্লেন্ডার ভরা সাড়ে ৩ হাজার ইয়াবা, আটক ১