ঢাকা, শনিবার, ৩ মাঘ ১৪২৭, ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ০১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

জাতীয়

বোটানিক্যাল গার্ডেনে টিকিট চেকের নামে হয়রানি

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২৩২৫ ঘণ্টা, জুন ৭, ২০১৯
বোটানিক্যাল গার্ডেনে টিকিট চেকের নামে হয়রানি

ঢাকা: ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্র বোটানিক্যাল গার্ডেনে ঘুরতে যাচ্ছেন অনেকেই। তবে এখানে ঘুরতে এসে টিকিট চেকের নামে হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে দর্শনার্থীদের। গার্ডেনের মূল গেট পেরিয়ে ভেতরের ২ নম্বর গেটেও চেক করা হচ্ছে টিকিট। তখন দর্শনার্থীদের কাছে টিকিট বা এর ছেঁড়া অংশ না থাকলে পুনরায় কিনতে হচ্ছে টিকিট।

শুক্রবার (০৭ জুন) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত বোটানিক্যাল গার্ডেনে ঘুরে এমন চিত্রই দেখা যায়।

মিরপুর-৬ থেকে এক বন্ধুসহ বোটানিক্যাল গার্ডেনে ঘুরতে আসেন মো. আকাশ শেখ।

টিকিট কেটেই ভেতরে প্রবেশ করেন তারা। তবে গার্ডেনের ২ নম্বর গেটে পুনরায় টিকিট দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি। তাই আবারও দু’টি টিকিট কিনতে হয়েছে তাকে।  

মো. আকাশ শেখ বাংলানিউজকে বলেন, মূল গেট দিয়ে প্রবেশ করার সময় আমাদেরকে টিকিট সংরক্ষণের কথা বলা হয়নি। যদি বলা হতো, তাহলে আমরা টিকিট না ফেলে আমাদের কাছেই রেখে দিতাম। এখন আমাকে আবার ৪০ টাকা দিয়ে দু’টি টিকিট কিনতে হয়েছে।  

আগারগাঁও থেকে বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদও পরিবারকে নিয়ে ঘুরতে এসে পড়েছেন একই পরিস্থিতিতে। ফয়সাল আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, কাউন্টার থেকে কিংবা মূল গেট দিয়ে প্রবেশের সময় কেউ আমাদের টিকিট সংরক্ষণ করার কথা বলেনি। পরে ২ নম্বর গেটে আসলে চেকার পুনরায় টিকিট দেখতে চায়। তখন টিকিট দেখাতে না পারায় ফের তিনটি টিকিট কিনতে হয়েছে। এর আগে কখনো এখানে ঘুরতে এসে এরকম ভোগান্তির শিকার হইনি। আগে জানলে এখানে আসতাম না।

বোটানিক্যাল গার্ডেনের দারোয়ান লিয়াকত আলী বাংলানিউজকে বলেন, দর্শনার্থীরা টিকিট কেটে মূল গেট দিয়ে ঢুকেই টিকিট ফেলে দিচ্ছেন। কিন্তু ২ নম্বর গেটেও টিকিট চেক করা হচ্ছে। টিকিট ছাড়া দর্শনার্থীদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে যারা টিকিট ফেলে দিচ্ছেন, তাদের আবারও টিকিট কিনতে হচ্ছে। আমি এখানে দাঁড়িয়ে যতটুকু পারছি বলছি। আসলে এটা আমার বলার দায়িত্ব না। টিকিট কাউন্টারে যারা আছেন তাদের বলার দায়িত্ব।  

বোটানিক্যাল গার্ডেনের ২ নম্বর গেট।

বোটানিক্যাল গার্ডেনের ২ নম্বর গেটের টিকিট চেকার মো. রনি বাংলানিউজকে বলেন, দর্শনার্থীরা যদি টিকিটের ছেঁড়া অংশ আমাকে না দেখাতে পারে, তাহলে তাদেরকে আবার টিকিট কিনতে হবে কিংবা ছেঁড়া অংশ খুঁজে এনে দেখাতে হবে। তা না হলে তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তবে কর্তৃপক্ষ যদি তাদেরকে প্রবেশ করতে দিতে বলে, তখন আমি তাদের প্রবেশ করতে দিব। আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালন করছি, আর কিছু নয়।

দর্শনার্থীদের অভিযোগের কথা অস্বীকার করে গেট ইজারা কোম্পানির ম্যানেজার ওবায়দুল রহমান বাংলানিউজকে বলেন, এখানে প্রবেশের সময় টিকিট সংরক্ষণের কথা মূল গেটে দাঁড়িয়ে আমরা বলছি। এখানে তো বেশিরভাগই শিক্ষিত ও জ্ঞানী মানুষেরা ঘুরতে আসছেন। তাদেরকে নতুন করে তো বুঝিয়ে বলার তেমন কিছু নেই। তবুও আমরা বলছি। এরপরেও তারা যদি টিকিট ফেলে দেয়, তখন তো আমাদের কিছু করার থাকে না।

এ বিষয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনের ডিরেক্টর মোল্লা রেজাউল করিম বাংলানিউজকে বলেন, টিকিট সংরক্ষণের কথা টিকিটের পেছনেও লেখা আছে। যতক্ষণ দর্শনার্থীরা এখানে অবস্থান করবেন ততক্ষণ পর্যন্ত টিকিট সংরক্ষণ করবেন। তাদের কাছে যদি টিকিট না থাকে, তাহলে তারা যে টিকিট কেটেই এখানে প্রবেশ করেছেন- এর প্রমাণ কি? যারা টিকিট সংরক্ষণ না করে ফেলে দেন, সেটা তাদের বোকামি। বোটানিক্যাল গার্ডেনকে শৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য সবাইকে এতটুকু সহযোগিতা তো করতে হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯২৫ ঘণ্টা, জুন ০৭, ২০১৯
এমএমআই/এসএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa