php glass

প্রাচীন মঠগুলো সংস্কারে পর্যটক টানতে পারে মুন্সিগঞ্জ

সাজ্জাদ হোসেন, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

মুন্সিগঞ্জের প্রাচীন মঠ। ছবি: বাংলানিউজ

walton

মুন্সিগঞ্জ: মুন্সিগঞ্জের মঠগুলোকে কেন্দ্র করে জমে উঠতে পারে এক পর্যটন নগরী। মঠগুলোর সংস্কার ও পরিচর্যার মাধ্যমে পর্যটনের দুয়ার খুলতে পারে এই জেলায়। দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক মঠগুলোর ইতিহাস, ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। মঠগুলো এই অঞ্চলের ঐতিহ্য বহন করে আসছে। এসব মঠের কারণে এই অঞ্চলের সুনাম দেশব্যাপী।

ঈদগুলোতে ভ্রমণ প্রিয়রা এখানে এসে এসব মঠ পরিদর্শন করে থাকেন। কিন্তু সঠিক দিক নির্দেশনা ও অব্যবস্থাপনার অভাবে মূল আকর্ষণ ব্যাহত হচ্ছে।

জানা যায়, জেলায় মঠের কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন বিক্রমপুর গবেষকরা। প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর জেলার স্বল্প কিছু মঠ নিজেদের অধীনে নিলেও বেশিরভাগই অবহেলায় অযত্নে পড়ে আছে। ছোট-বড় মিলিয়ে অনেক মঠ জেলায় রয়েছে, তবে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই সংশ্লিষ্টদের।

জানা যায়, সোনারং জোড়া মন্দির যা আসলে সোনারং জোড়া মঠ নামে পরিচিত বাংলাদেশের অষ্টাদশ শতাব্দীর একটি স্থাপনা। এটি জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামে অবস্থিত। প্রায় ১৫ মিটার উঁচু এই মঠটি রূপ চন্দ্র নির্মাণ করেন। জোড়া মঠটির একটি আসলে ‘বড় কালি মন্দির’ আরেকটি ‘ছোট কালি মন্দির’।মুন্সিগঞ্জের প্রাচীন মঠ। ছবি: বাংলানিউজবাংলা পিডিয়ার তথ্য মতে, শ্রীনগর উপজেলার শ্যামসিদ্ধি গ্রামে অবস্থিত শ্যামসিদ্ধির মঠ। শ্যামসিদ্ধির মঠটি ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে শম্ভু নাথ মজুমদার নির্মাণ করেন। মঠটি বর্গাকার ও প্রতি বাহুর পরিমাপ ৬মিটার ও দেয়ালগুলো এক মিটার প্রশস্ত। ইটের তৈরি ২০মিটার উঁচু মঠটি ১ দশমিক ২০ মিটার উঁচু একটি মঞ্চের উপর দাঁড়িয়ে।

টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আউটশাহী গ্রামে আউটশাহী মঠটির অবস্থান। সিরাজদিখান উপজেলার তাজপুর গ্রামে পাশাপাশি তিনটি মঠ দাঁড়িয়ে আছে, যা তাজপুর মঠ নামে পরিচিত।

বাংলা ১৩০৫ সনে শ্রী রমেন্দ্র চন্দ্র সেনের স্মৃতি রক্ষার্থে মঠ তিনটি নির্মাণ করা হয়। সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর গ্রামে বোস জমিদারের বাড়ির পাশে এই মঠটি দেখা যায়। তবে অনুমান করা হয় বোস জমিদারের কেউ এই মঠটি নির্মাণ করেছিলেন। এর বয়স আনুমানিক ১০০-১৫০ বছর হবে।

রামপাল ইউনিয়নের কালির আটপাড়া এলাকায় মুন্সিগঞ্জ-টঙ্গীবাড়ী রাস্তার পাশে একটি পঞ্চচূড়ার মন্দির দেখা যায় যা কালির আটপাড়া মঠ, এর বয়স ১০০ বছর।

সদর উপজেলার মহাকালির কেওয়ার এলাকায় চৌধুরী বাজার মঠ। মহাকালি ইউনিয়ন পরিষদের পূর্ব দিকে এটি অবস্থিত। সিরাজদিখান উপজেলার তালতলা খালের পূর্বদিকে ফেগুনাসার গ্রামে সু-উচ্চ মঠটি অবস্থিত। রায় পরিবারের কেউ এর প্রতিষ্ঠাতা, তাই এটি রায়ের মঠ নামে পরিচিত।

টঙ্গীবাড়ীর আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় পূর্ব দিকে আব্দুল্লাহপুর মঠ যা শতবর্ষেরও পুরনো। টঙ্গীবাড়ী বাজার থেকে দক্ষিণে কামারখাড়ার দিকে যাওয়ার সময় রাস্তার পূর্ব দিকে রাউৎভোগ এলাকায় রাউৎভোগ মঠ। স্থানীয়দের কাছে বোস বাড়ির মঠ নামে পরিচিত।

হিন্দু ধর্মের প্রাচীন প্রথা অনুযায়ী স্বামীর মৃত্যুর পর স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীকেও সহমরণেও বাধ্য করতো। একে সতীদাহ প্রথা বলা হয়। বিক্রমপুরে যে সতীদাহ প্রথা চালু ছিলো তার একটি নির্দশন সতী ঠাকরুণের মঠ। এলাকায় মঠটি সতী ঠাকরুণের মঠ নামে পরিচিত।

এদিকে শ্রীনগরের মাইজপাড়া মঠটি মাইজপাড়া রায় বাড়ির মঠ নামে পরিচিত। ইংরেজি ২০১৪ সালে মঠের উপরের অংশটি সংস্কারের অভাবে ভেঙে যায়। কেয়টখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে কেয়টখালি মঠটি অবস্থিত। হাসাড়ার কুলুরটেক গ্রামে খালের উত্তর পাশে একটি মঠ দেখা যায়। এর বয়স আনুমানিকভাবে ১৫০ বছর। মঠে কোনো শিলালিপি পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় প্রভাবশালী হিন্দু বোস পরিবারের মঠ নাটেশ্বর মঠ নামে পরিচিত, আনুমানিকভাবে এর বয়স ১০০ বছর।  নাটেশ্বর বৌদ্ধবিহারের পশ্চিম দিকে এর অবস্থান। সিরাজদিখান থেকে শ্রীনগর যাওয়ার পথে রাস্তার উত্তর পাশে খালের পাড়ে কোলা মঠ। স্থানীয় শ্রী ঈশ্বর চন্দ্র বসুর স্মতি রক্ষার্থে তার পুত্ররা এই মঠটি নির্মিত হয়।

মুন্সিগঞ্জ ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হারুন অর রশীদ বলেন, ঈদে পর্যটকদের একটি বড় অংশ এসব মঠ পরিদর্শনে আসেন। প্রত্নতত্ব অধিদফতরকে নিদর্শনগুলোকে সংষ্কার করার জন্য জানানো হবে। এছাড়া প্রশাসন থেকে এসব ঐতিহ্য রক্ষার্থে জনগণকে সবাইকে সচেতন করা।

স্থানীয়রা বলছে, প্রতিবার ঈদে এসব মঠ দেখতে আসেন পর্যটকরা। কিন্তু সঠিক ইতিহাস ও পরিচর্যার অভাব রয়েছে। মঠগুলোর পরিসংখ্যান ও দিক নির্দেশনার ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় পিছিয়ে পড়ছে এই অঞ্চলের সুনাম। মঠগুলোর প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৪৫ ঘণ্টা, জুন ০৬, ২০১৯
এএটি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: পর্যটন
কসবায় দুইটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৮
আসামি ধরতে গিয়ে হামলায় ৩ পুলিশ জখম
আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দরের সম্ভাবনা বহু দূরে চলে গেছে 
রাস্তায় আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না
বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ এখন ভালো: গণপূর্তমন্ত্রী


মুক্তি পেল দণ্ডিত ১২১ শিশু
বড় ভাইকে গলা কেটে হত্যা, সৎভাই আটক
উন্মোচিত হলো নুমাইর আতিফ চৌধুরীর ‘বাবু বাংলাদেশ’
চুরির দায়ে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের ৫ সদস্য বরখাস্ত 
বিএনপি জাতীয়তাবাদী শক্তির প্লাটফর্ম: গয়েশ্বর