এক জাফর মামার গল্প

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

সেই ১৯৭২ সালে এক দুর্ঘটনায় পা হারিয়েছেন তিনি। বালক বয়সে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ডান পা সম্পূর্ণ কাটা পড়েছে। সেই থেকে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন কিন্তু থেমে থাকেননি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ হওয়ায় ক্র্যাচে ভড় করেই চালিয়ে যাচ্ছেন জীবন সংগ্রাম।

ঢাকা: সেই ১৯৭২ সালে এক দুর্ঘটনায় পা হারিয়েছেন তিনি। বালক বয়সে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ডান পা সম্পূর্ণ কাটা পড়েছে। সেই থেকে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন কিন্তু থেমে থাকেননি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ হওয়ায় ক্র্যাচে ভড় করেই চালিয়ে যাচ্ছেন জীবন সংগ্রাম।

অসাধারণ জীবনীশক্তির এই মানুষ মো. জাফর। এখন তার বয়স পঞ্চাশোর্ধ্ব। থাকেন রাজধানীর আজিমপুর শাহ সাহেব বাড়িতে। পাঁচ সদস্যের এক পরিবারের কর্তা তিনি। একাই পরিশ্রম করে যতোটুকু উপার্জন করেন তা দিয়েই চলে সংসারের খরচ সেই সঙ্গে দুই ছেলের পড়ালেখার খরচ। বড় এক মেয়ে, তাকে বিয়ে দিয়েছেন।

সবচে অবাক করা বিষয় হলো তিনি দিনের বেলা বাড়িতেই থাকেন। আর রাতের বেলা নিউমার্কেটের বনলতা মার্কেটের গেটের পাশে ছোট্ট একটা চায়ের দোকান চালান।

সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে সেখানে তার সঙ্গে কথা হয় বাংলানিউজের এক সাংবাদিকের। জিজ্ঞেস করতেই জানা গেল, রাতের বেলা দোকান চালানোর রহস্য। আয় কম খরচ বেশি। দিনের বেলা দোকান ভাড়া নেওয়ার মতো সামর্থ্য তার নেই। তাই রাতের বেলা দোকান খোলেন তিনি।

তার দোকানে চা’র সঙ্গে রয়েছে বন রুটি, কেক, কলা, বিস্কুট। চায়ের সঙ্গে সামান্য কফি মিশিয়ে দেন বলে তার চায়ের চাহিদা বেশি বলে জানালেন জাফর।

এতোরাতে তার ক্রেতা কারা? জিজ্ঞেস করতেই তিনি জানান, পার্শ্ববর্তী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হল, জহুরুল হক হল, শাহনেওয়াজ হল ও মহসিন হল এবং ঢাকা কলেজের ছাত্ররা তার দোকানে নিয়মিত চা খেতে আসে। এদের কাছে তিনি জাফর মামা নামেই পরিচিত।

এছাড়া নিউমার্কেটে কাঁচামাল সরবরাহকারী রাতের ব্যবসায়ীরাও তার দোকানে চা-সিগারেট খেতে আসেন।

জাফর মামার দোকান খোলা থাকে প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত। প্রতিরাতে বেচাবিক্রি হয় প্রায় ২ হাজার টাকা। এতে তার লাভ থাকে ৪ থেকে ৫শ টাকা।

জাফর মামা আরও জানালেন, তার দোকানে সবচে বেশি বিক্রি হয় কনডেন্সড মিল্ক ও চিনি মেশানো রুটি যা ‘জাফর মামার বার্গার’ নামে ছাত্রদের কাছে পরিচিত। এক একটি বার্গারের দাম রাখেন ২০ টাকা।

রাতে খেতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে খুব ভাল সম্পর্ক জাফর মামার। তিনি বলেন, ‘ছাত্রদের সাথে কোনও দুই কথা হয় না। সবাই ভাল ব্যবহার করে।’

তার সঙ্গে কথা বলার ফাঁকে চা খেতে আসা কয়েকজনের সঙ্গেও কথা হলো। শাহনেওয়াজ হলের ছাত্র ফয়সাল ফরায়েজি বললেন, ‘জাফর মামা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে চা বানায়। আর স্বাদটাও ব্যতিক্রম। তাই নিয়মিত চা খেতে আসি।’

জাফর মামার দোকানে শুধু সাধারণ মানুষেরাই আসেন না, আসেন ওই এলাকায় টহলরত র‍্যাব-পুলিশ সদস্যরাও। এদের মধ্যে নিউমার্কেট থানার এসআই সাদেক মিয়া জানালেন, সারা রাতের মধ্যে তারা দুই/তিনবার চা খেতে আসেন। তিনি বললেন, ‘তার (জাফর) চা ভাল। যেভাবে চাই সেভাবেই চা বানিয়ে দেয়। আমরা টিম নিয়েই এখানে চা খেতে আসি।’

কথপোকথনে জানা গেল, জাফর মামার আদি নিবাস চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে। জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় এসেছেন ১৯৯৫ সালের দিকে। আর এই চায়ের ব্যবসা করছেন সেই ২০০১ সাল থেকে।

নিজ হাতে নিজের সব কাজ করতে পছন্দ করেন তিনি। এই সংগ্রামী মানুষটির একমাত্র স্বপ্ন ছেলে দুটি বড় হোক, লেখাপড়া শিখুক। পরবর্তী প্রজন্মকে যেনো তার মতো কষ্ট করতে না হয়। তার বড় ছেলেটি পড়ে পঞ্চম শ্রেণীতে আর ছোটটি তৃতীয় শ্রেণীতে।

বাংলাদেশ সময়: ০৩১৮ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৯, ২০১১

Nagad
করোনায় আরও এক চিকিৎসকের মৃত্যু
চীনের সঙ্গে ৯০০ কোটি রুপির ব্যবসা বাতিল হিরোর
সিলেটে বিনামূল্যে বাসায় পৌঁছাবে অক্সিজেন সেবা
সাংবাদিক নাজমুল হকের জন্ম
ইতিহাসের এই দিনে

সাংবাদিক নাজমুল হকের জন্ম

স্বর্ণের মাস্ক পরছেন ভারতীয়!


জাপানে বন্যা-ভূমিধস, ১৫ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা
ভুতুড়ে বিল: ডিপিডিসির ৫ প্রকৌশলী বরখাস্ত, ৩৬ জনকে শোকজ
ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিয়া লিংকেজ তৈরি করা খুবই জরুরি: উপমন্ত্রী
সীমান্তে ২৮টি ভারতীয় গরু জব্দ
লাল-সবুজ পতাকা অস্তিত্বে, তাই শিবনারায়নের পাশে দাঁড়িয়েছি