স্থায়ী বাসিন্দাদের কাছে অর্পিত সম্পত্তি ফেরত দেওয়া হবে: বিল পাস

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

প্রায় একবছর আগে সংসদে উত্থাপিত ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ (সংশোধন) বিল, ২০১১’ সংসদে পাস হয়েছে।

ঢাকা: প্রায় একবছর আগে সংসদে উত্থাপিত ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ (সংশোধন) বিল, ২০১১’ সংসদে পাস হয়েছে।

২০০১ সালে প্রণীত অর্পিত সম্পত্তি আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মূল আইনের কয়েকটি ধারায় সংশোধনী এনে এ সংশোধনী বিল আনা হয়।

সোমবার ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

বিলটির ওপর সরকারি দলের সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, ওয়াকার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, স্বতন্ত্র সদস্য ফজলুল আজিম ও বিরোধীদলের সদস্যরা কয়েকটি সংশোধনী আনেন।

এসব সংশোধনীর মধ্যে মেননের একটি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়। বাকিগুলো প্রস্তাবকারীর অনুপস্থিতিতে উত্থাপিত হয়নি।
 
২০১০ সালের ৭ ডিসেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপিত হয়। গত ৫ জুলাই সংসদীয় কমিটি বিলটি চূড়ান্ত করে পাসের সুপারিশ করে সংসদে  রিপোর্ট উত্থাপন করে।

বিলটি উত্থাপনের পর থেকেই হিন্দু সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন মহল আইনটির বিরোধিতা করে আসছে।

বিলে বাংলাদেশের নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের কাছে অর্পিত সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

এ আইন কার্যকর হওয়ার ১৫০দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণযোগ্য অর্পিত সম্পত্তি মৌজাভিত্তিক জেলাওয়ারি তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি গ্রেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রকাশ করতে হবে।

গেজেটে প্রকাশিত সম্পত্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়, এমন কোনও সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি বলে গণ্য হবে না এবং এতে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকারের কোনও স্বত্ব, স্বার্থ, অধিকার বা দায় দায়িত্ব থাকবে না।
 
অর্পিত সম্পত্তির মালিকানা কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দাবি করলে তিনি তার দাবির সমর্থনে সকল কাগজপত্র ও প্রমাণাদিসহ গেজেট বিজ্ঞপ্তির ৯০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটির সভাপতি অথবা ট্রাইব্যুনালের কাছে অবমুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

তবে যে সম্পত্তি নিয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হবে সে  সম্পত্তি নিয়ে কমিটিতে আবেদন করা যাবে না।

একই সম্পত্তি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ট্রাইব্যুনাল ট্রাইব্যুনাল ও কমিটিতে আবেদন পেশ করা হলে সেক্ষেত্রে কমিটি আবেদন বা আবেদনসমূহ নিস্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করবেন।
 
আবেদন প্রাপ্তির সময়সীমা অতিক্রান্ত হবার ১২০দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটি প্রাপ্ত সকল আবেদন যাচাই করে করে আবেদনকারীর শুনানি গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজনে সরেজমিন তদন্ত করে লিখিত মতামতও সুপারিশ জেলা প্রশাসকের কাছে প্রেরণ করবে।

৩০ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসন তার সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন।

তবে এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তিনি জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্তের ৬০ দিনের মধ্যে উক্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে আবেদন করতে পারবেন।

এ আপিল আবেদন প্রাপ্তির ১২০ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটি পক্ষগণের শুনানি গ্রহণ করে তার সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে প্রদান করবেন। কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবেন।
 
এতে বিধান রাখা হয়েছে, আবেদনের নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলে বা দাবি প্রমাণিত না হলে উল্লেখিত অর্পিত সম্পত্তি সরকারি সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে।

এ বর্ণিত সরকারি সম্পত্তি সরকার বিক্রয় বা অন্য কোনওভাবে হস্তান্তর বা সরকারের বিবেচনামতে যে কোনওভাবে ব্যবহার বা নিষ্পত্তি করতে পারবে। সম্পত্তি বিক্রয় বা স্থায়ী ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে উক্ত সম্পত্তি যে হোল্ডিং/খতিয়ানভুক্ত সেই হোল্ডিং বা খতিয়াননের যিনি উত্তরাধিকার সূত্রে সহ অংশীদার, যদি থাকে, তিনি অগ্রাধিকার পাবেন এবং এরূপসহ অংশীদার না থাকলে যিনি বিক্রয়ের পূর্বে ইজারাসূত্রে ভোগদখলভুক্ত ছিলেন তিনি অগ্রাধিকার পাবেন।

বর্ণিত সরকারি সম্পত্তি সরকার কর্তৃক বিক্রয় বা স্থায়ী ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে যিনি বিক্রয়ের বা ইজারার পূর্বে ভোগদখলে ছিলেন তিনি দখলকালীন সময়ের জন্য প্রযোজ্য ক্ষতিপূরণ প্রদান সাপেক্ষে অগ্রাধিকার পাবেন।

বিলে আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বয়স ৬৭ এর পরিবর্তে ৬৯ বছর করা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) সভাপতি করে জেলা কমিটি এবং ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। জেলা কমিটির সদস্য হবেন-জেলা রেজিস্ট্রার, জেলা প্রশাসক কর্তৃক মনোনীত অর্পিত সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা পরিচালনাকারী একজন আইনজীবী, ভূমিমন্ত্রী কর্তৃক ২জন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি। এদের মধ্যে একজন অবশ্যই সংশ্লিষ্ট জেলার স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের মধ্য হতে হবে, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি),যিনি সদস্য সবিচও হবেন।  ভূমিমন্ত্রী কর্তৃক মনোনীত একজন স্থানীয় সংসদ সদস্য এ কমিটির উপদেষ্টা হবেন।
 
আর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হবেন, অ্যাটর্নি জেনারেল কর্তৃক মনোনীত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি, ভূমি সংস্কার বোর্ডের সদস্য পদমর্যাদার নিম্নে নন এমন একজন প্রতিনিধি, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব রেজিস্ট্রেশন কর্তৃক মনোনীত জেলা রেজিস্ট্রার পদমর্যাদার নিম্নে নন এমন একজন প্রতিনিধি, ভূমি সচিব কর্তৃক মনোনীত অর্পিত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্ট একজন উপসচিব, ভূমিমন্ত্রী কর্তৃক ২জন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি যাদের মধ্যে একজন অবশ্যই সংশ্লিষ্ট জেলার স্বার্থ সংশ্লিষ্টগনের মধ্য হতে হবে এবং ভূমি মন্ত্রণালযের যুগ্ম সচিব (আইন) যিনি সদস্য সচিবও হবেন। আর ভূমিমন্ত্রী ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা হবেন।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়ে থাকলে তা ফেরত দেওয়ার জন্যই এ বিলটি আনা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে অর্পিত সম্পত্তিকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। একটি হচ্ছে প্রত্যার্পণযোগ্য অর্পিত সম্পত্তি, অপরটি হচ্ছে প্রত্যার্পণযোগ্য অর্পিত সম্পত্তির বহির্ভূত সম্পত্তি (ব্যক্তি দখলে থাকা অর্পিত সম্পত্তি)।

এ দু ধরনের অর্পিত সম্পত্তিই বাংলাদেশের নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের ফেরত দিতেই এ আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বলা হয়েছে, ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় ’৬৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তৎকালীন পাকিস্তানের নাগরিক তাদের সম্পত্তি ফেলে রেখে ভারতে যান, তাদের সম্পত্তিগুলোকে শক্র সম্পত্তি হিসাবে ঘোষণা করা হয়।

সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন প্রণয়ন করা হয় ২০০১ সালে।

পরবর্তীতে ২০০২ সালে বিলটিতে সংশোধনী আনা হলেও আইনটি বাস্তবায়িত হয়নি।

বাংলাদেশ সময়: ১৯১০ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৮, ২০১১

Nagad
ফেসবুকে বন্ধুত্বে প্রতারণা: ১৬ নাইজেরিয়ান কারাগারে
সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে আমির হোসেন আমুর শোক
সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে তাপস-আতিকের শোক
সাহারার মৃত্যুতে বিরোধীদলীয় নেতা-জাপা চেয়ারম্যানের শোক
করোনায় রিজেন্ট হাসপাতাল মালিকের বাবার মৃত্যু


সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে ওবায়দুল কাদেরের শোক
সাহারা খাতু‌নের মৃত্যুতে মন্ত্রীদের শোক
সাহারা খাতুন ছিলেন আ.লীগের একজন পরীক্ষিত নেতা: রাষ্ট্রপতি
স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ সম্মানী দেবে সরকার
আমি পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে হারালাম: প্রধানমন্ত্রী