মেহেরপুরের ইটভাটায় প্রতিদিন পুড়ছে ৩০ হাজার মন কাঠ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

মেহেরপুরের তিনটি উপজেলার ৭৮টি ইটভাটায় চলছে কাঠ পোড়ানোর মচ্ছব। জ্বালানি হিসেবে কয়লার বদলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০ হাজার মন কাঠ পোড়ানো হচ্ছে এসব ভাটায়। অন্যদিকে বেশিরভাগ ভাটায় স্থায়ী চিমনি না থাকায় ঘটছে পরিবেশ দূষণ।

মেহেরপুর: মেহেরপুরের তিনটি উপজেলার ৭৮টি ইটভাটায় চলছে কাঠ পোড়ানোর মচ্ছব। জ্বালানি হিসেবে কয়লার বদলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০ হাজার মন কাঠ পোড়ানো হচ্ছে এসব ভাটায়। অন্যদিকে বেশিরভাগ ভাটায় স্থায়ী চিমনি না থাকায় ঘটছে পরিবেশ দূষণ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেহেরপুর জেলায় ৭৮টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি ভাটার সাময়িক সনদপত্র থাকলেও বাকি ৫২টির কোনো অনুমোদন নেই। প্রতিবছরই এখানে ইটভাটার সংখ্যা বাড়ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু রাজনীতিক প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই ইটভাটা নির্মাণ করেছেন। ভাটায় স্থায়ী চিমনি নির্মাণের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও তারা তা মানছেন না। বেশিরভাগ ভাটায় ব্যারেল ড্রাম দিয়ে তৈরী চিমনি ব্যাবহার করা হচ্ছে।

সচেতন মহলের অভিযোগ, যেখানে-সেখানে ইটভাটা তৈরি হওয়ায় আবাদি জমি নষ্ট হচ্ছে। একটি ইটভাটার জন্য কমপক্ষে ৭-৮ একর জমি প্রয়োজন হয়। অনেক সময় এলাকার লোকজনের কাছ থেকে আবাদি জমির উপরের অংশের এক থেকে দেড়ফুট মাটি কেটে ইট তৈরি করা হয়। এতে ফসলি জমির ঊর্বরাশক্তি নষ্ট হয়ে যাচেছ।

অন্যদিকে ইটভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় নষ্ট হচ্ছে এলাকার পরিবেশ। এমনকি অনেক জায়গায় জমির ফসল পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোনো ইটভাটায় অনুমতিপত্রের শর্ত অনুযায়ী এক টুকরো কয়লাও ব্যবহার করা হয় না। কয়লার পরিবর্তে এখানকার ভাটাগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠ। প্রতিদিন ৭৮টি ভাটায় অন্তত ৩০ হাজার মন কাঠ পোড়ানো হয় বলে সঙশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়।

ফলদ ও বনজ বৃক্ষ ছাড়াও ইটভাটায় প্রচুর পরিমাণ বাঁশের মোথা ব্যবহারের ফলে এলাকার বাঁশঝাড় উজাড় হচ্ছে।

ইটপোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৮৯ ও ২০০১ সনের ১৭ নং অনুচ্ছেদের ৪ ও ৫ ধারায় উলে¬খ রয়েছে, আবাদি জমিতে কোনো ইটভাটা নির্মাণ করা যাবে না। ১২০ ফুট স্থায়ী চিমনি ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া কাঠ পোড়ানো যাবেনা। অথচ ভাটাগুলোতে কাঠ পোড়ানো নৈমিত্তিক ব্যাপার। অবশ্য মাঝে-মধ্যে প্রশাসনের লোকজন জরিমানা আদায় করেন। তবে ভাটা বন্ধ হয় না।

মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস শহীদ বাংলানিউজকে জানান, ইটভাটায় নির্গত কালো ধোঁয়ায় মানুষের শ্বাসকষ্ট, হাপানী, ক্যান্সারসহ নানা রোগ সৃষ্টি হয়। তাছাড়া অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইডের কারণে ফসল ও এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়।

এ ব্যাপারে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক সাহান আরা বানু বাংলানিউজকে বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে-মধ্যে অভিযান চালানো হচ্ছে।’ ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এছাড়া খুলনা থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন এসেও অভিযান চালিয়ে থাকেন। তিনি জানান, অবৈধ ইটভাটা বন্ধের জন্য অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৫৩ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৮, ২০১১

Nagad
করোনায় আরও এক চিকিৎসকের মৃত্যু
চীনের সঙ্গে ৯০০ কোটি রুপির ব্যবসা বাতিল হিরোর
সিলেটে বিনামূল্যে বাসায় পৌঁছাবে অক্সিজেন সেবা
সাংবাদিক নাজমুল হকের জন্ম
ইতিহাসের এই দিনে

সাংবাদিক নাজমুল হকের জন্ম

স্বর্ণের মাস্ক পরছেন ভারতীয়!


জাপানে বন্যা-ভূমিধস, ১৫ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা
ভুতুড়ে বিল: ডিপিডিসির ৫ প্রকৌশলী বরখাস্ত, ৩৬ জনকে শোকজ
ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিয়া লিংকেজ তৈরি করা খুবই জরুরি: উপমন্ত্রী
সীমান্তে ২৮টি ভারতীয় গরু জব্দ
লাল-সবুজ পতাকা অস্তিত্বে, তাই শিবনারায়নের পাশে দাঁড়িয়েছি