ডিসিসি বিভক্তি: প্রশাসক নিয়োগের বিধান রেখে রিপোর্ট উত্থাপন

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

৯০ দিনের মধ্যে দ্বিখণ্ডিত ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) নির্বাচনের সময় নির্ধারণ সাপেক্ষে প্রশাসক নিয়োগের বিধান রেখে এ সংক্রান্ত বিলের রিপোর্ট সংসদে উত্থাপন করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

ঢাকা: ৯০ দিনের মধ্যে দ্বিখণ্ডিত ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) নির্বাচনের সময় নির্ধারণ সাপেক্ষে প্রশাসক নিয়োগের বিধান রেখে এ সংক্রান্ত বিলের রিপোর্ট সংসদে উত্থাপন করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন কমিটির সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন। কমিটির সভাপতি মো. রহমত আলী বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকায় তিনি এ রিপোর্ট উত্থাপন করেন।

বিলে উপযুক্ত ব্যক্তিকে প্রশাসক নিয়োগের বিধান বহাল রেখে প্রথম শ্রেণীর পদমর্যাদা সম্পন্ন কর্মকর্তার বিধান তুলে দেওয়া হয়েছে। এতে শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তা রাখা হয়েছে।

প্রশাসকের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ৯০দিন এবং ওই সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। যদি কোনও প্রশাসক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে না পারে তাহলে তিনি পদে অযোগ্য হবেন এবং নতুন প্রশাসক দায়িত্ব নেবেন। অর্থাৎ একই ব্যক্তি দু’মেয়াদে থাকতে পারবেন না।

বিলে বলা হয়েছে, গেজেট জারির দিন থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই মেয়াদে একজন উপযুক্ত ব্যক্তি কিংবা সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

ওই প্রশাসকের দায়িত্ব থাকবে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন শেষ করা। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে অপারগ হন তাহলে নতুন প্রশাসক এসে নির্বাচন করবেন। এই প্রশাসকের মেয়াদও হবে ৯০ দিন।  

এছাড়াও নতুন কোনও সিটি করপোরেশন গঠিত হলে গেজেট জারির পর থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন শেষ করতে হবে।

কোনও সিটি করপোরেশন বিভক্ত হলে বা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে।
 
বিলটি পাস হলে বর্তমান ডিসিসি ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন’ এবং ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন’ নামে দু’টি জোনে বিভক্ত হবে।

একইসঙ্গে তাক্ষণিকভাবে বর্তমান মেয়র ও কাউন্সিলররাও আর নিজ পদে বহাল থাকতে পারবেন না।

এর ফলে নতুন সিটি করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত যে কোনও উপযুক্ত ব্যক্তি কিংবা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কর্মকর্তাকে নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে সরকার।

ডিসিসিকে দুই ভাগ করার লক্ষ্যে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) বিল, ২০১১’ গত ১৭ অক্টোবর মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পায়।

এরপর ৩১ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয় ২৩ নভেম্বর।

মূল আইনের ধারা ৩ এর পর  ৩ক ধারার অধীন ৪টি উপ-ধারা সংযোজন করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে-

৩ক। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন বিভক্তিকরণ, ইত্যাদি।- (১) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা  কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ৩ (১) এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা সিটি করপোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নামে বিভক্ত হইবে।

(২) ঢাকা সিটি কপোরেশন এর কর্মকর্তা ও কর্মচারী, সম্পদ, অধিকার, ঋণ দায় ও দায়িত্ব, সুবিধা এবং স্থাবর  অস্থাবর সকল সম্পক্তি, নগদ ও ব্যাংক স্থিতি, সংরক্ষিত সঞ্চিত তহবিল, বিনিয়োগ এবং অন্য সকল অধিকার এবং এরূপ সম্পত্তিতে অথবা উহা হইতে উদ্ভূত বা অর্জিত অন্যাণ্য সকল স্বার্থ ও অধিকার এবং সকল বহি, রেজিস্ট্রার, রেকর্ডপত্র এবং অন্য সকল দলিল দস্তাবেজ সরকার, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, তবে বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি আদেশ দ্বারা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ক্ষেত্রমত, হস্তান্তর, ন্যাস্ত, স্থানান্তর বা বদলির ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

(৩) ঢাকা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক বা উহার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা বা কার্যধারা ক্ষেত্রমত, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন বা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক বা উহার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা বা কার্যধারা বলিয়া বলিয়া গণ্য হইবে।

(৪) ঢাকা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ইতোপূর্বে জারিকৃত সকল প্রবিধান, উপ-আইন, আদেশ, প্রজ্ঞাপন, নোটিশ বা আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন অন্যান্য দলিল এবং প্রযোজ্য সকল বিধি, ক্ষেত্রমত, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত সকল লাইসেন্স, অনুমতি, আরোপিত কর, ইত্যাদি ক্ষেত্রমত, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত, মঞ্জুরিকৃত বা আরোপিত বলিয়া গণ্য হইবে।

মূল আইনের ধারা ২৫ এর উপধারা (১) এর পরিবর্তে নতুন উপধারা প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে বিলে। সেটি হচ্ছে- (১) এই আইনের অধীন কোনও নতুন সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করা হইলে অথবা কোনও সিটি কর্পোরেশন বিভক্ত করা হইলে সরকার, সিটি কর্পোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত উহার কার্যাবলী সম্পাদনের উদ্দেশ্যে একজন উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে।

উপধারা(৪) এর পরিবর্তে নতুন উপধারা সংযোজন করে বলা হয়েছে, (৪) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপধারা(১) এর অধীন নিযুক্ত প্রশাসক কোনও ক্রমেই একের অধিকবার বা (ক) নতুন সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ১৮০ দিনের অধিককাল ;(খ) সিটি করপোরেশন বিভক্তির ফলে সৃষ্ট নতুন সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ৯০ দিনের অধিককাল: (গ) কোনও সিটি করপোরেশন মেয়াদোত্তীর্ণের ক্ষেত্রে ৯০ দিনের অধিককাল- দায়িত্বে থাকিতে পারিবেন না।

মূল আইনের দফা (১) এর  ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’  সংজ্ঞার  ‘ বাংলাদেশ রাইফেলস, কোস্টগার্ড বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা বিভাগসমূহ’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং কোস্টগার্ড বাহিনী’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিধান বাদ দেওয়া হলো।

মূল আইনের প্রথম তফসিলে পরিবর্তন করে দুই সিটি করপোরেশনের জন্য ওয়ার্ড ভাগ করে দেয়া হয়েছে। তাতে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ২৩, ৩৭ থেকে ৪৭ পর্যন্ত এবং ৫৪ ও ৫৫ ওয়ার্ড (মোট ৩৬টি) প্রস্তাবিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং ২৪ থেকে ৩৬, ৪৮ থেকে ৫৩, ৫৬ থেকে ৯২ পর্যন্ত ওয়ার্ড (মোট ৫৬টি) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৫০ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৮, ২০১১

Nagad
ডিএসইর চেয়ে বেশি লেনদেন সিএসইতে
সৈয়দপুরে করোনায় আরও একজনের মৃত্যু
না’গঞ্জে করোনায় মারা যাওয়া মুক্তিযোদ্ধার দাফনে খোরশেদ
সরকার সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদ করতে পারে না: রিজভী
করোনা: না’গঞ্জে আক্রান্ত ৫ হাজারের ৪ হাজার সুস্থ


রোনালদোদের কাজ আরও সহজ করে দিলেন ইব্রা-রেবিচ
হোসেনপুরে শিশুকে কুপিয়ে হত্যা
চমেক হাসপাতালে অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ
খুলনার সেই সালাম ঢালীর কারাগারে থাকা নিয়ে রিট
ভারতে একদিনেই করোনা আক্রান্ত প্রায় ২৫ হাজার