গ্রামীণ মেয়েরা শিক্ষায় আগ্রহী হচ্ছে

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

শানু সকালে ঘুম থেকে উঠে হাত মুখ ধুয়ে স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে মাকে বলল, `মা ভাত দাও।` মর্নিং শিফটে স্কুল হওয়ায় শানু’র মা রহিমা সকালেই মেয়ের জন্য ভাত রান্না করে।

শানু সকালে ঘুম থেকে উঠে হাত মুখ ধুয়ে স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে মাকে বলল, `মা ভাত দাও।` মর্নিং শিফটে স্কুল হওয়ায় শানু’র মা রহিমা সকালেই মেয়ের জন্য ভাত রান্না করে। রহিমা মেয়েকে ভাত খেতে দিয়ে শানুর মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। শানু দ্রুত ভাত খাচ্ছে যাতে তার দেরি না হয়। শানুর মা ভাবতে থাকে, তার ঐ বয়সে পড়ালেখা যে কি জিনিস তা বুঝত না। স্কুলে যাওয়া তার ভাগ্যে জোটেনি। অল্প বয়সেই সংসারের কাজে মাকে সাহায্য করতে হত। বার বছর বয়সে পাশের গ্রামের দুলাল মিয়ার সাথে তার বিয়ে হয়।

`মা যাইতেছি।`-- শানুর ডাকে মায়ের ধ্যান ভাঙ্গে। লক্ষ্মীপুর জেলার সদর থানার প্রত্যন্ত গ্রামে শানুদের বসবাস। শানুর  বাবা দুলাল মিয়া একজন দরিদ্র কৃষক। চাষাবাদের অল্প কিছু জমি আছে। সে স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ চারজনের সংসার কোনভাবে চলে। কিন্তু মেয়ে মানুকে তার লেখাপড়া শেখানোর শখ। শানু এবার গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ছে। ক্লাসের ফাস্ট গার্ল। পড়ালেখায় ভাল, তাই স্কুলের শিক্ষকরা সবাই তাকে আদর স্নেহ করেন। পড়া না বুঝলে শিক্ষকরাই তাকে ভালভাবে বুঝিয়ে দেন। শানুর বাবা-মার স্বপ্ন, মেয়ে একদিন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হবে এবং অনেক বড় চাকুরে হবে। বাড়ির পাশে স্কুল বিধায় তার স্কুলে যাওয়া নিয়ে বাবা-মার কোন চিন্তা করতে হয় না। দুলাল মিয়ার ছোট মেয়ে শিউলিকে আগামী বছর স্কুলে দেবে।

এখন গ্রামাঞ্চলের দৃশ্যপট পাল্টেছে। সকাল হলেই দেখা যায় গ্রামের মেয়েরা দল বেঁধে স্কুলে যাচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো শিশুদের কলরবে মেতে উঠছে। স্কুল থেকে তাদেরকে নতুন বই দেওয়া হচ্ছে। মেয়েরা উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছে। সেই টাকায় নিজেদের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাচ্ছে। সরকারের উপবৃত্তি কার্যক্রম মেয়েদের শিক্ষা লাভে আগ্রহী করে তুলছে। দরিদ্র ঘরের মেয়েরা এখন অন্যের বাড়িতে কাজ না করে স্কুলে যাচ্ছে। অনেক দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তানেরা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছে। তাদের এই সাফল্যে অন্যরা স্কুলগামী হচ্ছে। নারী শিক্ষা ব্যাপকতা লাভ করেছে। ব্র্যাক স্কুলের মাধ্যমে পরিবারের বধুরা নিরক্ষরতা থেকে মুক্তি পাচ্ছে। ফলে দেশে বৃদ্ধি পাচ্ছে নারী শিক্ষার হার। গ্রামের লোকেরা এখন সবাই জানে নারী শিক্ষাকে যুযোগযোগী ও উৎসাহিত করার জন্য সরকার উপবৃত্তি চালু করেছে। নারী শিক্ষা সম্প্রসারণে সরকার মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া অবৈতনিক করেছে। এতে গ্রামের প্রত্যেক পরিবারে শিক্ষা সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। তারা এখন মেয়েদের ঘর-গৃহস্থালীর কাজে না লাগিয়ে স্কুলে পাঠাচ্ছে।

শানুর পাশের বাড়ির মেয়ে শ্যামলী এবছর পঞ্চম শ্রেণীতে সমাপনী পরীক্ষায় এ+ সহ বৃত্তি পেয়েছে। আগামী বছর শানু বৃত্তি পাবার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বৃত্তি পেলে অনেকগুলো টাকা একসাথে সরকার থেকে পাওয়া যায়। শ্যামলী সেই টাকায় অনেক সুন্দর পোশাক কিনেছে। শানুর কল্পনা, লেখাপড়া শিখে একদিন অনেক বড় হবে। কিন্তু আবার ভাবে তার বাবার সেই সামর্থ নেই। শেষ পর্যন্ত লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে তো? তাকে নিয়ে তার বাবা-মার অনেক আশা। যত কষ্ট হোক মেয়েকে তারা অনেক শিক্ষিত করবে। বড় চাকরি করাবে। তখন তারা বুক ফুলিয়ে সবাইকে বলতে পারবে শানুকে আমরা মানুষের মত মানুষ করেছি। শানু যেন গ্রামীণ নারীদের শিক্ষা গ্রহণের এক দৃষ্টান্ত হয়।

(পিআইডি-শিশু ও নারী উন্নয়নে যোগাযোগ কার্যক্রম ফিচার)

Nagad
নালিতাবাড়ী-ঝিনাইগাতীতে ২৫ গ্রাম প্লাবিত
বিপিও উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান পলকের
বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিমালা সংস্কারের পরামর্শ
ভুয়া চিকিৎসকসহ ৩ জনকে কারাদণ্ড, হাসপাতাল সিলগালা
পশ্চিমবঙ্গে একদিনে করোনা আক্রান্ত ১,৫৬০ জন


নভোএয়ারে ভ্রমণ করলে ফ্রি কাপল টিকিট
‘টাউট’ শহীদুলের আইন পেশা, আছে মানবাধিকার সংগঠন!
সব বিভাগে ভারী বর্ষণের শঙ্কা, বন্যার অবনতি
অর্ধেক দামে মিলবে কৃষি যন্ত্রপাতি, একনেকে প্রকল্প
খুলনায় নতুন করোনা রোগী শনাক্ত ৭৩, মোট ৩১০৮