তত্ত্বাবধায়কের বিকল্প নির্ধারণে দু’দলকে পরামর্শ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে সরকারি দল ও বিরোধীদলের অনড় অবস্থানের মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দূর করতে ‘বিকল্প ফর্মুলা’ নির্ধারণের জন্য দুই দলকে আলোচনায় বসার পরামর্শ দিয়ে একটি নাগরিক মঞ্চ গঠিত হয়েছে।

ঢাকা: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে সরকারি দল ও বিরোধীদলের অনড় অবস্থানের মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দূর করতে ‘বিকল্প ফর্মুলা’ নির্ধারণের জন্য দুই দলকে আলোচনায় বসার পরামর্শ দিয়ে একটি নাগরিক মঞ্চ গঠিত হয়েছে।  

‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্যে নাগরিক আন্দোলন’ শীর্ষক এই মঞ্চের আহ্বায়ক ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক। সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন ছাত্রনেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। এতে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের লেখক-সাংবাদিক, আইনজীবী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তিবর্গও রয়েছেন।  

সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে অয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নাগরিক আন্দোলনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এতে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক।

জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তির পর বিরোধী দল তা পুনঃপ্রবর্তণের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। আর সরকারি দল দলীয় সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠারে কথা বলছে।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার রফিক বলেন, গণতন্ত্রের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য নাগরিক আন্দোলন গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আদালত যে রায় দিয়েছে তা পূর্ণাঙ্গ নয়। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক বাতিলকে তিনি আদালতের অমর্যাদা বলে মন্তব্য করেন। দীর্ঘ দিন আদালত পূর্ণাঙ্গ রায় না দেওয়াকে দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে তিনি পূর্ণাঙ্গ রায় দেওয়ার আহ্বান জানান।

ব্যারিস্টার রফিক আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক থাকবে, না নতুন কোন ফর্মুলা আসবে তা নিয়ে প্রধান দুই দলকে আলোচনায় বসা উচিত। দুটি রাজনৈতিক দলকে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং দেশের মানুষকেও এ ব্যাপারে জনমত তৈরি করে সহায়তা করতে হবে।

‘মার্শাল ল’ যেন কোনও সময় মুখ দিয়ে উচ্চারণ না হয়, বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিকল্প ধারার সভাপতি বদরুদ্দেজা চৌধুরী। তিনি বলেন, যেখানে মানুষ কথা বলতে পারে না সেটা ‘পচা’ গণতন্ত্র। নাগরিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দকে বসে না থেকে দেশের মানুষকে বোঝানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আশা করি গণতন্ত্রকে বিকশিত করার এ প্রচেষ্টা সফল হবে।

এ সময় বিকল্প ধারার সাংগাঠনিক সম্পাদক মাহী বি. চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আমিন্ত্রিত আরেক অতিথি কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের চেয়ারম্যান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী নাগরিক আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, দেশে অস্বস্তিকর সময় যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে মানুষ রেহাই পাক। দেশের যে কোনও মানুষ এই যন্ত্রনার হাত থেকে মুক্তি দিতে পারবে তাদের পেছনে সমর্থন থাকবে। গণতন্ত্র এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারলে এই উদ্যোগ সার্থক হবে।

২২ সদস্যের নাগরিক আন্দোলনর অন্য সদস্যরা হলেন, অধ্যাপক ড. দিলারা চেীধুরী, লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, ডা. জাফরুল্লা চৌধুরী, আইনবিদ ড. শাহ দীন মালিক, ড. পিয়াস করিম, অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, পাহাড়ী পরিষদ নেতা গৌতম দেওয়ান, অধ্যাপক শরীফুল্লা ভূইয়া, অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, স্থপতি মোবাশ্বের হাসান, সমকালের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবু সঈদ খান, এসএম আকরাম, সাংবাদিক বিভূরঞ্জন সরকার, শিল্পী মাহমুদুজ্জামান বাবু, ডা. মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সংস্কৃতিকর্মী আশফা হক লোপা, সাংবাদিক মাহবুব কামাল, আব্দুল্লাহ আল-মামুন এবং নিউ এইজ সম্পাদক নূরুল কবীর।

ড. শাহ দীন মালিক বলেন, দেশের এই অবস্থা চলতে থাকলে অস্থিরতা বাড়বে। তত্ত্বাবধায়কের বিকল্প কি হতে পারে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমাদের সে ফর্মুলা বের করতে হবে। যত তাড়াতাড়ি বিকল্প বের হবে দেশের জন্য তত মঙ্গল।

এতে আরও বক্তব্য রাখেন সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

নাগরিক আন্দোলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, যে স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল তার পুনরুচ্চারণ ও বাস্তবায়নে সংগঠিত নাগরিক উদ্যোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর আত্মপ্রকাশ। গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক সাম্য ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলো অতীতে ভূমিকা রেখেছে।

তবে দলগুলো নিজেদের দ্বন্দ্ব নিরসনে ব্যর্থ হয়ে নানা অগণতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতা দখল ও নানা বিপর্যয় ঘটেছে। এ অবস্থায় রাজনৈতিক নেতৃত্বকে উদার, দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পন্ন হতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, অতীতের মতো বর্তমানেও নাগরিকদের আরও সংগঠিত, সুনির্দিষ্ট এবং অর্থপূর্ণ ভূমিকা পালন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। নাগরিকদের সম্পূর্ণ দল-নিরপেক্ষ, দলীয় সংকীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে, নিখাদ দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক চেতনা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। এজন্য অধিকাংশ সমস্যাকে রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের সাংবিধানিক চুক্তির ভিত্তিতে বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, শিল্প-বিনিয়োগ-কর্মসংস্থানে ব্যর্থতা, আইন বর্হিভূত হত্যা ও নির্যাতন, গুমখুন, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি, ভিন্নমত রুদ্ধকরণ, অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি সম্পাদন দেশের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এসব উপদ্রব প্রতিরোধ করার রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনে বিরোধীদলও ব্যর্থ হয়ে চলছে।   

সংবাদ সম্মেলনে দেশের এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে জনগণের চিন্তা-চেতনা ও প্রত্যাশার নৈকট্য সৃষ্টি, একটি গণতান্ত্রিক, অসম্প্রদায়িক, জনকল্যাণমূলক ও মর্যাদাবান দেশ প্রতিষ্ঠায় গবেষণা, গোলটেবিল ও সেমিনারসহ প্রয়োজনে গণশুনানী, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নাগরিক আন্দোলন নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে বলে জাননো হয়।

বাংলাদেশ সময়: ২০৫৬ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৮, ২০১১

Nagad
‘বিএনপি আমলে সাহেদ হাওয়া ভবনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন’
করোনা: ঢাকাসহ চার জেলায় পশুর হাট না বসানোর প্রস্তাব
নোবেলজয়ী কবি পাবলো নেরুদার জন্ম
ঢাকার পথে সাহারা খাতুনের মরদেহ
ভিয়েতনামে মানবপাচারের ঘটনায় আটক তিনজন রিমান্ডে


পল্লবীতে ভুয়া চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানে অভিযান, আটক ৩
রাজশাহীতে বাসচাপায় অটোরিকশার চালকসহ নিহত ২
‘আদিম’ মুক্তির আগেই নির্মিত হচ্ছে সিক্যুয়েল
লকডাউনে ভিডিওচিত্র বানিয়ে খুদে শিক্ষার্থী প্রিয়তির রোবট জয়
সিলেটে করোনার নমুনা জট নেই