প্রতীকে পরিচয়-৪

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

এমন একটা সময় ছিল যখন মানুষ পায়ে হেটে অনেক দূর পাড়ি দিত। কিন্তু বর্তমান সময়ে তা ভাবতেই কষ্ট লাগে। সভ্যতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হয়েছে যানবাহনের। আর এর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান হলো চাকার আবিষ্কার।

ঢাকা: এমন একটা সময় ছিল যখন মানুষ পায়ে হেটে অনেক দূর পাড়ি দিত। কিন্তু বর্তমান সময়ে তা ভাবতেই কষ্ট লাগে। সভ্যতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হয়েছে যানবাহনের। আর এর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান হলো চাকার আবিষ্কার। মূলত চাকার আবিষ্কারের ফলে নতুন নতুন আবিষ্কারের দ্বার উন্মোচিত হয়। এরপর স্টিমারের আবিষ্কারের মাধ্যমে মানুষ তার চলার পথকে করে তুললো সহজ ও সুন্দর। জেম্স ওয়াটের স্টিম ইঞ্জিন আবিষ্কার এনে দিলো এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

প্রযুক্তির এই ক্রমবিকাশের সঙ্গে মানুষের চাহিদার মিল রেখে তৈরি করা হচ্ছে নতুন নতুন বিলাস বহুল গাড়ি। প্রতীক পরিচয়ের এই আয়োজনে আমরা তুলে ধরছি বিশ্ববিখ্যাত কয়েকটি গাড়ি উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচয়।

রোলস রয়েস
১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত অতি পুরাতন একটি প্রতিষ্ঠান, যা বহুদিন ধরে বিলাসবহুল গাড়ি উৎপাদন করে আসছে। চার্লস রোলস এবং হেনরি রয়েস একত্রে এই গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠা করেন।
rolls-royace
রোলস রয়েসের প্রতীকটি একটি ব্যতিক্রমী, যা প্রতিষ্ঠানটির ক্ষমতা ও শক্তির প্রতিনিধীত্ব করে। রোলস রয়েসের প্রতীকে দু’টি ইংরেজি বড় হাতের ‘আর’ লেখা রয়েছে, যা রোলস এবং রয়েস এই শব্দ দু’টিকে বুঝায়।

রোলস রয়েসের প্রতীকটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা কেউ একবার দেখলে সহজে ভুলবে না।

আকৃতি
চর্তুভুজাকৃতির এই প্রতীকটি দেখতে অনেক আভিজাত্য। রোলস রয়েসের প্রতীকে এর নামের দু’টি অক্ষর সংযুক্ত করে দেওয়া আছে, যা প্রতিষ্ঠানের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। এই প্রতীকের আকৃতি তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে যার মধ্যে একটি বড় ও কেন্দ্রিয়ভাবে অবস্থিত আর অন্যগুলো ছোট আকারে একইভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

রং
রোলস রয়েসের প্রতীকে নীল রং ব্যবহার করা হয়েছে যা প্রতিষ্ঠানটির সুনাম বহন করছে। সহজভাবে উপস্থাপনই হচ্ছে রোলস রয়েসের প্রতীকটির প্রধান বৈশিষ্ট্য।

ভকসওয়াগন
জার্মানির ওলফবার্গে অবস্থিত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গাড়ি উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠান হলো ভকসওয়াগন। বেটেল এবং গলফ নামের বিলাসবহুল গাড়ি দু’টি উৎপাদন করে থাকে এই প্রতিষ্ঠানটি।
volks-wagen
১৯৩৮ সালে সর্বপ্রথম ভকসওয়াগনের প্রতীক তৈরি করা হয়। পরে ১৯৯৬ ও ২০০০ সালে এর নতুন করে সংস্করণ করা হয়। ভকসওয়াগনের প্রতীকের ডিজাইন কে করেন এ নিয়ে একটু বিতর্ক রয়েছে। কেউ বলেন ফ্রেঞ্জ জেভার রিম্পস্পিস এর ডিজাইন করেন, আবার কেউ বলেন মার্টিন ফ্রেয়ার, যার জন্য তাকে পুরষ্কৃত করা হয়।

আকৃতি
ভকসওয়াগনের প্রতীকে ইংরেজি দু’টি বর্ণ ‘ভি’ ও ‘ডব্লিউ’ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। একটি বৃত্তের মধ্যে বর্ণ দু’টি রাখা আছে এবং এর মাঝখানে খালি জায়গা দিয়ে পর্যাপ্ত বাতাসের উপস্থিতির কথা বলা হয়েছে।

রং
ভকসওয়াগনের প্রতীকের নীল রং প্রতিষ্ঠানটির মর্যাদা ও শ্রেণী এই অর্থ বহন করে। অন্যদিকে এর সাদা রং সৌন্দর্য্য ও শুদ্ধতাকে বোঝানো হয়েছে।

অডি
জার্মানির বিশ্ববিখ্যাত বিলাসবহুল গাড়ি উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠানরে নাম অডি। প্রতিষ্ঠাতা অগাশ হর্শ এর নামানুসারে এর নামকরন করা হয়। একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে অডি সর্বোচ্চ জার্মান গাড়ি উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে অবস্থান করছে। বর্তমানে অডি বিলাসবহুল গাড়ি উৎপাদন করে থাকে, যার ভিতর অনেক সুসজ্জিত ও আধুনিক সকল সুবিধা রয়েছে।
audi
২০০৯ সালে অডির শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকিতে এর বর্তমান প্রতীকটি নতুন করে তৈরি করা হয়, যার অর্থ হচ্ছে ‘প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নতি’।

আকৃতি
এর প্রতীক তৈরিতে চারটি রিং ব্যবহার করা হয়েছে। ১৯৩২ সালে অনেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অডি সংযুক্ত হয়, যা এর প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। আবার ক্ষমতা ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবেও এটিকে বিবেচনা করা হয়।

রং
অডির প্রতীক তৈরিতে রূপালি রং ব্যবহার করা হয় হয়েছে। যা দেখতে উজ্জল ও মসৃণ। এর রূপালি রং একে আধূনিক ও আভিজাত্যের পরিচয় এনে দেয়।

মার্সিডিজ-বেঞ্জ
মার্সিডিজ ও বেঞ্জ একত্রে সংযুক্ত হওয়ার মাধ্যমে অটোমোবাইল জগতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। মার্সিডিজ-বেঞ্জের প্রতীকটিকে অটোমোবাইল জগতের এক স্মরণীয় প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
mercedes-benz
মার্সিডিজ-বেঞ্জের প্রতীকটি অত্যন্ত মার্জিত ও দৃষ্টিনন্দন। গটলিব ডেইমলার এর প্রতীক তৈরি করেন।

আকৃতি
তিনদিকে মুখ করা তারা দিয়ে তৈরি এই প্রতীকে আকাশ, জল এবং স্থল এই তিন পথে তাদের সহজে বিচরণের কথা বুঝানো হয়েছে। এছাড়া ও এই তিন পথেই তারা যে কোনও ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সক্ষম।

রং
মার্সিডিজ-বেঞ্জের প্রতীক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ধূসর রং, যা প্রতিষ্ঠানের আভিজাত্যের প্রতীক বহণ করে। তাছাড়া এই রংয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের পণ্যের গুনগত মানের পরিচয় ও তুলে ধরা হয়েছে।

টয়োটা
টয়োটা মোটর কর্পোরেশন যা মোটর গাড়ি, ভ্যান, ট্রাক ইত্যাদি তৈরিতে এক পরিচিত নাম। টয়োটার প্রতীকটিকে বলা হয় সাধারণের মধ্যে এক অসাধারণ প্রতীক। এর আসল নাম ছিল টয়োডা যা পরে পরিবর্তন করে বর্তমান নাম টয়োটা রাখা হয়। মনে করা হয় নাম পরিবর্তন টয়োটার জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে।
toyota
টয়োটার ডিম্বাকৃতির প্রতীকের মাধ্যমে ক্রেতাদের প্রতি এর অঙ্গিকার, বিশ্বস্ততা ও সন্তুষ্টির কথা বোঝানো হয়েছে।

আকৃতি
ডিম্বাকৃতির এই প্রতীকে ব্যবহার করা হয়েছে তিনটি কার্ভ। কার্ভগুলো ক্রেতার বিশ্বাস, পণ্যের মান এবং তাদের দীর্ঘ পথচলারই প্রতীক।

রং
মেটালিক ও লাল রংয়ের সংমিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে টয়োটার দৃষ্টিনন্দন প্রতীকটি।

বাংলাদেশ সময়: ১২৩৬ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৮, ২০১১

Nagad
সভাপতি পদে রাহুলকে চান কংগ্রেসের সাংসদরা
নালিতাবাড়ী-ঝিনাইগাতীতে ২৫ গ্রাম প্লাবিত
বিপিও উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান পলকের
বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিমালা সংস্কারের পরামর্শ
ভুয়া চিকিৎসকসহ ৩ জনকে কারাদণ্ড, হাসপাতাল সিলগালা


পশ্চিমবঙ্গে একদিনে করোনা আক্রান্ত ১,৫৬০ জন
নভোএয়ারে ভ্রমণ করলে ফ্রি কাপল টিকিট
‘টাউট’ শহীদুলের আইন পেশা, আছে মানবাধিকার সংগঠন!
সব বিভাগে ভারী বর্ষণের শঙ্কা, বন্যার অবনতি
অর্ধেক দামে মিলবে কৃষি যন্ত্রপাতি, একনেকে প্রকল্প