বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর: স্থান নির্বাচনেই তিন বছর

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

তিন বছরে সাতটি স্থান বাছাই করেও সরকার প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য জায়গা নির্ধারণ করতে পারেনি। এজন্য বিমানমন্ত্রণালয়ের একটি সেল কাজ করলেও এখন পর্যন্ত তারা এ বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজে পায়নি।

ঢাকা: তিন বছরে সাতটি স্থান বাছাই করেও সরকার প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য জায়গা নির্ধারণ করতে পারেনি। এজন্য বিমানমন্ত্রণালয়ের একটি সেল কাজ করলেও এখন পর্যন্ত তারা এ বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজে পায়নি।

এর ফলে মহাজোট সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকলেও বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে নির্মিত বিমানবন্দরটি হবে অত্যাধুনিক। এজন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা। এ বিমানবন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে একটি ‘এয়ারলাইন্স হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে সরকার।   

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের তোড়জোড় শুরু করে। বিমানবন্দরের জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণ করতে বিমান মন্ত্রণালয় একজন যুগ্ম সচিবকে প্রধান করে একটি সেল গঠন করে। প্রথমে তারা টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহের ত্রিশালে দু’টি জায়গা নির্বাচন করেছিল।

পরবর্তীতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে এ দুটি স্থান বাতিল করে মুন্সীগঞ্জের আড়িয়ল বিলকে নির্বাচন করা হয়। এ সময় নদীপথে জ্বালানি তেল সরবরাহের বিষয়টি মাথায় রেখেই পদ্মার নদী তীরবর্তী কোনো স্থানকে বিমাবন্দরের জন্য চূড়ান্ত করার কথা বলা হয়।  

বিল এলাকায় বিমানবন্দর নির্মাণের খবর জানার পর স্থানীয় জনগণ তীব্র আন্দোলন শুরু করে। স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষে একজন পুলিশ সদস্যও নিহন হন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই আড়িয়ল বিল এলাকায় বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে না বলে ঘোষণা দেন।

মন্ত্রণালয়ের সেল এরপর মুন্সীগঞ্জের কেয়াইন, মাদারীপুর গোপালগঞ্জের বাঘিয়ার বিল, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, মাদারীপুরের চরজানাজাতকে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য বেছে নেয়।

বিমান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সেলের কর্মকর্তারা পরবর্তীতে চরজানাজাত একটি ভাঙন প্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপর সেল চর বিলাশপুরকে নির্বাচন করে। এই এলাকার দূরত্ব রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার। এটি চর হলেও মূল ভূখন্ডের সঙ্গে এর সংযোগ রয়েছে।

প্রায় ৫০ বছর আগে জেগে ওঠা দোহার উপজেলাধীন চরটি প্রায় ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১০ কিলোমিটার প্রস্থ। এই স্থানটিকে অন্য স্থানের তুলনায় উপযুক্ত বলে চিহ্নিত করে সেল। তবে সেলের এই মতামতকে আমলে নেওয়া হয়নি। সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল এবং জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস রিপোর্টটি তৈরি করে।    

সম্প্রতি বিমানমন্ত্রী জিএম কাদের চর বিলাশপুরকে বাদ দিয়ে সেলের প্রধান জয়নাল আবেদীন তালুকদারকে চরজানাজাত এবং কেয়াইনে একটি প্রি-ফিজিবিলিটি সার্ভে পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।  

এ সব স্থান নির্বাচনের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বিমান মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হেলিকপ্টারও ব্যবহার করেন। এতসব তোড়জোড় ও ব্যয়বহুল সম্ভাব্যতাই যাচাই করা হলেও মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কোনো স্থানকে বিমানবন্দরের জন্য চূড়ান্ত করতে পারেনি।  
 
যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন এখনই দেশে আরেকটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের প্রয়োজন নেই। এর চেয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বর্ধিত করা এবং সংস্কার করার পক্ষে মত দেন তারা।

এরপক্ষে পাল্টা যুক্তি স্থাপন করে সরকারের তরফ থেকে বলা হয়, শাহজালাল বিমানবন্দরের প্রতিবছর যাত্রী সংখ্যা ও এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সংস্কার করার পরেও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই বিমানবন্দরের পক্ষে বিপুল সংখ্যক যাত্রী ও ফ্লাইট হান্ডেলিং করা সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশ সময়: ১০৫৬ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৭, ২০১১

Nagad
শোরুমে ডাকাতি: সুমনের স্বীকারোক্তি, রানা কারাগারে
‘বিএনপি আমলে সাহেদ হাওয়া ভবনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন’
করোনা: ঢাকাসহ চার জেলায় পশুর হাট না বসানোর প্রস্তাব
নোবেলজয়ী কবি পাবলো নেরুদার জন্ম
ঢাকার পথে সাহারা খাতুনের মরদেহ


ভিয়েতনামে মানবপাচারের ঘটনায় আটক তিনজন রিমান্ডে
পল্লবীতে ভুয়া চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানে অভিযান, আটক ৩
রাজশাহীতে বাসচাপায় অটোরিকশার চালকসহ নিহত ২
‘আদিম’ মুক্তির আগেই নির্মিত হচ্ছে সিক্যুয়েল
লকডাউনে ভিডিওচিত্র বানিয়ে খুদে শিক্ষার্থী প্রিয়তির রোবট জয়