ঢাকা, শনিবার, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৮ আগস্ট ২০২০, ১৭ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

পার্বতীপুর কঠিন শিলা খনির পাথর উত্তোলনে নতুন রেকর্ড

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০১৫৩ ঘণ্টা, এপ্রিল ২, ২০১৯
পার্বতীপুর কঠিন শিলা খনির পাথর উত্তোলনে নতুন রেকর্ড পার্বতীপুর কঠিন শিলা খনি। ছবি: বাংলানিউজ

দিনাজপুর: দেশের উত্তর অঞ্চলের দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মধ্যপাড়া কঠিন শিলা পাথর খনিতে গত মার্চ মাসে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিকটন পাথর উত্তোলন করে রেকর্ড গড়েছে খনির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)।

সোমবার (০১ এপ্রিল) দুপুরে খনিকর্তৃপক্ষ সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। এর আগে রোববার (৩১ মার্চ) দিনগত রাত ২টায় এ নতুন রেকর্ড হয়।

জানা গেছে, দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা পাথর খনির পাথর উত্তোলন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি মার্চ মাসে একদিনে তিন শিফটে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৪৮ মেট্রিকটন পাথর উত্তোলন করে খনির উৎপাদন ইতিহাসে একদিনে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে ওই কোম্পানি। একই সঙ্গে মাসিক উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গত মার্চ মাসে সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিকটন পাথর উত্তোলন করেছে জিটিসি।

দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনি ২০০৭ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে পাথর উত্তোলনের যাওয়ার পর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় উৎপাদন তাদের পক্ষে অসম্ভব ছিল। খনিকর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তিন শিফটে পাথর উত্তোলন শুরুই করতে পারেনি। এছাড়াও ওই সময়কালে দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০০/৭০০ টন করে মাসিক উৎপাদন ছিল প্রায় ২০/২৫ হাজার মেট্রিকটন। ফলে খনিটি প্রায় শত কোটি টাকার বেশি লোকসানে পড়ে বন্ধের উপক্রম হয়েছিল।

২০১৩ সালে পাথর খনির চুক্তির পর থেকে জিটিসি খনির উন্নয়ন ও উৎপাদনকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পাথর উত্তোলন শুরু করে। এরপর দ্রুত সময়ের মধ্যে তিন শিফটে পাথর উত্তোলন শুরু করে খনি থেকে মাসিক লক্ষাধিক মেট্রিকটন পাথর উত্তোলন করার সম্ভবনার দ্বার খুলে দেয় এ কোম্পানি। তবে খনি উন্নয়ন ও উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় বিদেশি সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ খনিকর্তৃপক্ষ যথাসময়ে আমদানি করার ব্যবস্থা করতে না পারায় প্রায় ২ বছর খনির উন্নয়ন ও উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়।

জিটিসি সূত্রে জানা যায়, পাথর খনিতে উন্নয়নের ধারাবাহিকতার পাশাপাশি পাথর উত্তোলন বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে দৈনিক পাথর উত্তোলন বাড়ানো হয়। বর্তমানে মাসিক পাথর উত্তোলন ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিকটন ছাড়িয়ে গত মার্চ মাসে ছুটির দিন ছাড়া পাথর উত্তোলন করা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিকটন। ২০১৭ সালে জিটিসি’র খনির উন্নয়ন এবং উৎপাদনের জন্য বিদেশি খনি বিশেষজ্ঞদের চাহিদা মাফিক সরঞ্জাম স্থাপনের ফলে পাথর উত্তোলন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। মাসিক উৎপাদনের এ লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর ফলে জিটিসি তাদের অধীনে কর্মরত প্রায় সাড়ে ৭০০ খনি শ্রমিকদের বেতন এবং ওভার টাইমের সঙ্গে উৎপাদন বোনাসও দেয়। মধ্যপাড়া কঠিন শিলার পাথর এখন ব্যাপক চাহিদা। বিদেশ থেকে পাথর আমদানি বন্ধ করলে দেশীয় পাথর সরকারি বে-সরকারি নির্মাণ কাজে ব্যবহার করলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে দেশ।

মধ্যপাড়া পাথর খনি থেকে উৎপাদনের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে খনিটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে জিটিসি অঙ্গীকারবদ্ধ। দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশীদার হয়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রেখে খনিটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এখন সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন এলাকার অভিজ্ঞ মহল।

বাংলাদেশ সময়: ২১৫৩ ঘণ্টা, এপ্রিল ০১, ২০১৯
এমএমইউ/এসআরএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa