ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭, ১১ আগস্ট ২০২০, ২০ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

বিহারীদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮২৬ ঘণ্টা, মার্চ ৭, ২০১৯
বিহারীদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধের সময় আটকে পড়া বিহারীদের আবাসনে ফ্ল্যাট বাসা নির্মাণে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং ডিএনসিসি ও ডিএসসিসির (ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের) নির্বাচিত কাউন্সিলরদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিহারীদের আবাসনে ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি আমরা।

ইতোমধ্যে তাদের জন্য জায়গা খুঁজে নিচ্ছি। যেন তারাও একটু ভালোভাবে বসবাস করতে পারে।

‘তারা বসে থেকে নয়, যেন কাজ করে খেতে পারে। তারা যেন কাজ করে তাদের সংসার চালাতে পারে। সেই ব্যবস্থাও করা হবে। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন এখানে অনেক বিহারী আছে, যারা পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য পোষণ করেছিল। কিন্তু পাকিস্তান কখনো তাদের নেয়নি।  

বিহারীদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এখন জেনারেশনের পর জেনারেশন- এখন তারা তৃতীয়-চতুর্থ জেনারেশনে এসে গেছে। তাদের জেনেভা ক্যাম্পে যেখানে রাখা হয়েছিল, তারা পরিবার বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু তারা অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় জীবন যাপন করে।

১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ ভাগ হওয়ার সময় উর্দুভাষী বিহারীরা মুসলিমপ্রধান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বসবাস শুরু করে। কিন্তু ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা বাঙালিদের দাবির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। পরে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেলেও এই বিহারীরা পাকিস্তানে ফেরত যেতে পারেনি। ২০১৭ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন মতে, বাংলাদেশে আটকে পড়া উর্দুভাষী পাকিস্তানিদের সংখ্যা পাঁচ লাখের বেশি। এদের মধ্যে তিন লাখ এখনো শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাস করে। তাদের বড় একটি অংশ বাস করে মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পে।

আটকে পড়া পাকিস্তানিরা ২০০৭ সালে উচ্চ আদালতে একটি রিট করলে পরের বছর হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে উল্লেখ করা হয়, ‘এই ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণকারী উর্দুভাষী সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। ’ পরে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রণীত বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের খসড়ায় বলা হয়, ‘জন্মসূত্রে যিনি নাগরিক হবেন, তার পিতা মাতাকেও এই ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করতে হবে। পিতা মাতা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলে অথবা বাংলাদেশের শত্রু, এমন দেশের প্রতি আনুগত্য দেখালে, তাদের সন্তানরা নাগরিকত্ব পাবে না। ’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বস্তিবাসীদের মানবেতর জীবন যাপন থেকে মুক্তি দিতে তাদের জন্য ফ্ল্যাট বাসায় আবাসনের জন্য ইতোমধ্যে নেওয়া প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন।

ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মতো ডিএনসিসির কর্মীদের আবাসনে ভবন নির্মাণ করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের (দক্ষিণ সিটির পরিচ্ছন্নতা কর্মী) চারটি মাল্টিস্টোরিড বিল্ডিং হয়ে গেছে। মোট ১৩টা বিল্ডিং হবে। সেইসঙ্গে উত্তরে যারা পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য এ ধরনের বিল্ডিংয়ে ফ্ল্যাট বাসা করার পরিকল্পনা আমাদের আছে।

শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আরও সক্রিয় হতে এবং জনপ্রতিনিধিদের এ বিষয়ে খেয়াল রাখার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সকালে একবার ঝাড়ু দেয়; আমাদের এতো ঘনবসতি- ১/২ ঘণ্টা পরেই মনে হয় কোনো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা হয়নি। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা যেন সার্বক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে। একবার ঝাড়ু দিয়ে চলে যাবে, তা হবে না। তাদের বেতন বাড়ানোসহ সবকিছু আমরা করে দিচ্ছি।  

পরিষ্কার-পরিচ্ছনতার বিষয়ে লক্ষ্য রাখার তাগিদ দিয়ে সরকারপ্রধান আরও বলেন, পাবলিক টয়লেট, বাস-রেলওয়ে স্টেশন, যেখানে যা আছে, সবগুলো যেন পরিষ্কার থাকে, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।  

সিটি করপোরেশনগুলোকে নিজেদের উপার্জন বাড়িয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশনগুলোকে নিজেদের উপার্জন বাড়াতে হবে, নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।  

তিনি বলেন, একটা মাত্র সিটি করপোরেশন- যখন চট্টগ্রামে মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র ছিলেন, তিনি নিজের উপার্জনে চলার মতো দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।

অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির নতুন মেয়র আতিকুল ইসলামকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে কাউন্সিলরদের শপথ বাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

জনগণের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ যে আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে ভোট দিয়েছেন সেই বিশ্বাসের মর্যাদা আপনারা রাখবেন। সেটাই চাই।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসি’র মেয়র পদে, দু’টি ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচন ও নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের সাধারণ নির্বাচন ও ডিএসসিসি’র নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

শপথ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য। সঞ্চালনা করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব এসএম গোলাম ফারুক।

বাংলাদেশ সময়: ১৩২২ ঘণ্টা, মার্চ ০৭, ২০১৯
এমইউএম/এইচএ/

** ‘পুরান ঢাকায় কোনো কেমিক্যাল গুদাম থাকবে না’
** শপথ নিলেন মেয়র আতিকুল ইসলাম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa