মুহিতের ‘পাশে নেই’ সুসময়ের বন্ধুরা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সিলেটে গেছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। ছবি: বাংলানিউজ

সিলেট: বেশিদিন আগের কথা নয়। অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালে আবুল মাল আব্দুল মুহিতকে ঘিরেই টানা ১০ বছর আবর্তিত হয়েছে সিলেটের রাজনীতি। প্রশাসন থেকে নেতাকর্মী কিংবা কর্মী-সমর্থক; সবার-ই মধ্যমনি ছিলেন তিনি।

php glass

তার সিলেট আগমনের জন্য তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষমান থাকতেন দলের নেতাকর্মী  ও সমর্থকরা। সদ্য শেষ হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (৩০ ডিসেম্বর) শেষবার ভোট দিতে সিলেটে যখন আসেন, তখনও তাকে বরণে ছিলো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড়। 

তাছাড়া তার দায়িত্বের সময়জুড়ে নানা কথা বলেও আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। আর সিলেট অর্থমন্ত্রী আসা মানেই সাংবাদিকদের ব্যতিব্যস্ততা! তবে এবার আর সেই ব্যস্ততা দেখা গেলো না। 
 
শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) বেলা পৌনে ২টায় নভোএয়ারের একটি ফ্লাইটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। 

এদিনের চিত্র ছিলো আগের  দিনগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্বেচ্ছায় রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ায় এখন মন্ত্রিত্বও নেই তার। তাই পাশে নেই কর্মী-সমর্থকও। এমনকি পরিবারের ঘনিষ্টজনদের কাউকেও সাবেক এই দাপুটে মন্ত্রীর পাশে দেখা যায়নি!
 
রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেও মানসিকতায় প্রভাব পড়েনি মুহিতের। সদা হাস্যোজ্জল থাকলেও বার্ধক্য যেনো টেনে ধরে। তাই প্লেন থেকে নেমেই চেপে বসেন  হুইল চেয়ারে। 
 
এ সময় এভিয়েশনের কর্মী হুইল চেয়ার টেলে প্রবেশ করে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে।তখন তার ব্যক্তিগত সহকারী জনি উপস্থিত ছিলেন। 

তবে ভিআইপি লাউঞ্জেও তাকে বরণে দেখা যায়নি পরিচিত কোনো মুখ। উষ্ণ সংবর্ধনা জানাতে বিমানবন্দরেও নেই নেতাকর্মীদের কোনো কোলাহল। নেতাকর্মী, স্বজন, পরিচিতজন ছাড়া এ যেনো অন্য এক মুহিতের আগমন ঘটলো সিলেটে! দেখে কেউ কেউ তো বলেই ফেললেন, ‘তিনি আজ একা, বড়ই একা।’
 
অভিযোগ রয়েছে, অর্থমন্ত্রী থাকাকালে এএমএ মুহিতকে ব্যবহার করে যারা নিজেদের আখের গুছিয়েছেন,  সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন বিভিন্নভাবে, পড়ন্ত বেলায়  কেউ-ই  পাশে নেই তার। তারা এখন নতুনের পূজারী!
 
অথচ বিগত দিনে অর্থমন্ত্রীর আশপাশে যে কয়জন বিশেষ লোককে দেখা যেতো- তাদের মধ্যে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শফিউল আলম নাদেল, সিলেট মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আলম খান মুক্তি, তার প্রাক্তন সহকারী জাবেদ সিরাজ, রেড ক্রিসেন্ট সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান জামিল, আওয়ামী লীগ নেতা এস এম নুনু মিয়াসহ আরো অনেকে। শুক্রবার তাদের কাউকে দেখা যায়নি বিমানবন্দরে।
 
তবে তাদের থেকে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল একজনই। তিনি হলেন বাফুফের কার্যনির্বাহী সদস্য ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম। 

একমাত্র তিনিই বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ফটক থেকে সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিতকে বরণ করে নিয়ে যান সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। সেখানে বসেই সিলেট সিক্সার্স ও ঢাকা ডায়নামাইটসের ম্যাচ উপভোগ করেন ক্রীড়ামোদী মুহিত।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৭৩০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৮, ২০১৯
এনইউ/এমএ

জামালখানের নান্দনিক সৌন্দর্য দেখবে বাংলাদেশ
পাতা উল্টে বই পড়া
‘নির্বাচনী বিরোধের জেরে বাঘাইছড়ি হত্যাকাণ্ড’
সাফের পঞ্চম শিরোপা জিতলো ভারতের মেয়েরা
কলকাতার চলচ্চিত্র উৎসবে ‘ইটার্নাল লাইফ, ১৯৪৬’


টয়লেটের ফ্লাশ নষ্ট হওয়ায় ফ্লাইট বাতিল!
ফ্যালকাও’র গোলে জাপানকে হারালো কলম্বিয়া
নির্বাচনের দিন নিখোঁজ ব্যক্তির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
বাল্যবিয়ে: চাঁপাইনবাবগঞ্জে কনের মা ও বরের কারাদণ্ড
আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার