ডাক বিভাগের বৈদেশিক শাখার গোডাউনের পণ্য খালাসে নানা অনিয়ম

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

টাকা ছাড়া পণ্য ছাড় হবে না। বৈধ-অবৈধ কোনোটাই না। উপরি পেলে কাজ দ্রুত হবে... না হলে ভুগতে হবে। এটাই ডাক বিভাগের বৈদেশিক পোস্ট অফিস থেকে পণ্য খালাসের চিত্র। মাত্র তিন দিনে পণ্য গ্রাহককে পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। 

php glass

ঢাকা: টাকা ছাড়া পণ্য ছাড় হবে না। বৈধ-অবৈধ কোনোটাই না। উপরি পেলে কাজ দ্রুত হবে... না হলে ভুগতে হবে। এটাই ডাক বিভাগের বৈদেশিক পোস্ট অফিস থেকে পণ্য খালাসের চিত্র। মাত্র তিন দিনে পণ্য গ্রাহককে পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে জানালেন, প্রতিটি পণ্যকে খালাসের আগে এই প্রক্রিয়ায় এগোতে হয়। বিমান বন্দর থেকে জিপিও’র বৈদেশিক শাখায় আসার পর থেকে পণ্য খালাসের জন্য শুরু হয় দেনদরবার।

সরজমিনে দেখা যায় যে, টাঙ্গাইলের মনিরুজ্জামান স্বপনের নামে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ইএন ৯৭২৫৮২৮৯৭ কেআর নম্বরের একটা পার্সেল আটকে আছে গুদামে। পার্সেলটি সাময়িকভাবে আটক দেখানো হয়েছে।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডি’কে মনিরুজ্জামান স্বপন বলেন, ‘পার্সেলে বা””াদের জন্য কিছু কাপড় ছিল। অবৈধ কিছু নেই কিন্তু তারপরও সাময়িক আটক দেখিয়ে এক হাজার টাকা চাওয়া হয়। আমি দালালদের সঙ্গে ৮০০ টাকায় রফা করে ৭২৮টাকা শুল্ক দিয়েছি। এখন হয়তো পার্সেল নিয়ে যেতে পারবে।’

কারণ জানতে চাইলে কর্মরত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব পাওয়া গেলো না।

তবে নজরুল ইসলাম নামে একজন কর্মচারী জানালেন, পার্সেলে অবৈধ কোনো কিছু না থাকলেও ১৫ কেজির জন্য সরকারকে তিন হাজার টাকা শুল্ক দিয়ে খালাস করতে হয়। কিন্তু তাদের এক হাজার টাকা দিলে সরকারি খাতে নামমাত্র শুল্ক জমা দিয়েই পণ্য খালাসের ব্যবস্থা হয়ে যায়।

সূত্র জানায়, ডাক ও শুল্ক বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। পদমর্যদা ও ক্ষমতা অনুসারে টাকা বন্টন করা হয়।

আর এই চক্রের কারণে সাধারণ গ্রাহক যেমন ভাল সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তেমনি সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।

গ্রাহক ভোগান্তির এই চিত্র সবার জন্যই অনেকটা এক রকম। তবে যারা বেশি টাকা খরচ করেন তাদের পণ্য দ্রুত খালাস হয়। আর যারা টাকা খরচ করতে পারেন না তাদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে। টেবিলে হাতের কাছে ফাইল থাকার পরও বলা হয়, ফাইল খুজে পাচ্ছি না।

এর সঙ্গে রয়েছে পার্সেল খুলে দামি পণ্য সরিয়ে ফেলার অভিযোগ।

তবে এসব অভিযোগের কোনোটারই ভিত্তি নেই বলে দাবি করলেন সুপারিনটেন্ডেন্ট (কাস্টমস ফরেন পোস্ট শাখা) ফরিদা ইয়াসমিন। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে তিনি বলেন, ‘এধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমাদের লোক কাজে সহায়তা করায় অনেক সময় অনেকে তাদের খুশি হয়ে ৫০টাকা বা ১০০টাকা দিতে পারে এটুকুই। এর বেশি কিছু নয়।’
 
পোস্টমাস্টার জেনারেল (মেট্রো সার্কেল) প্রভাষ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘শুল্কায়নের পুরো দায়িত্ব শুল্ক বিভাগের। আমরা শুধু পণ্য সরবরাহ করার দায়িত্বে নিয়োজিত। এধরনের কোনো অভিযোগ উঠলেও তার দায়ভার শুল্ক বিভাগের।’

শুল্ক বিভাগের কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গে এ প্রসঙ্গে কথা বলতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায় নি।


বাংলাদেশ সময়: ১১১৪ ঘণ্টা, আগস্ট ৩১, ২০১০।

ময়না তদন্তের জন্য বাঘাইছড়িতে নিহত ৬ মরদেহ খাগড়াছড়িতে
বিএনপি মুসলিম লীগের মতো বিলীন হবে: হানিফ
পদ্মাসেতুর রোডওয়েতে স্ল্যাব বসানোর কাজ শুরু
জুলহাজ-তনয় হত্যা মামলার প্রতিবেদন ফের পেছালো
তিন দিনব্যাপী বেসিস সফটএক্সপো শুরু


ঢাকা ট্রাভেল মার্টে বিমানের আকর্ষণীয় ছাড়
মাথাপিছু আয় বেড়ে ১৯০৯ ডলার, প্রবৃদ্ধি ৮.১৩ শতাংশ 
সিঙ্গাপুরে রুবেলের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন
হালদা ভ্যালীর ‘ফার্স্ট ফ্লাশ-টি ও হোয়াইট-টি’
আন্দোলন করেই দাবি আদায় করতে হবে: গয়েশ্বর