চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হলেন শেখ হাসিনা

বাংলানিউজ টিম | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। ছবি: বাংলানিউজ

বঙ্গভবন থেকে: চতুর্থবারের মতো ও টানা তৃতীয়বার দেশের প্রধানমন্ত্রী হলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। সোমবার (০৭ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়ান। 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী পদে শেখ হাসিনাকে নিয়োগের বিষয়টি সবাইকে অবহিত করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।  

শপথ নেওয়ার পর তার ছোট বোন শেখ রেহানা শেখ হাসিনাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। আওয়ামী লীগের নতুন সরকারের সূচনায় পরস্পরের আলিঙ্গনে আবদ্ধ হন জাতির পিতার দুই কন্যা। 

এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাজেদা চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। 

রাষ্ট্র পরিচালনায় এবার শেখ হাসিনার সঙ্গী হচ্ছেন ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন উপমন্ত্রী। 

পড়ুন>>শপথ নিলেন ২৪ মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী ও ৩ উপমন্ত্রী   

একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর তরুণ-প্রবীণদের সমন্বয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর পর একে একে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরাও শপথ নেন। 

 

এর আগে গত ৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে শেখ হাসিনাকে সংসদ নেতা হিসেবে পুনর্নির্বাচিত করা হয়। 

এর আগে ওইদিন (৩ জানুয়ারি) সকালেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। 

পরে ওইদিনই রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে দেখা করেন শেখ হাসিনা। ওই সময় তাকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রপতি। 

শেখ হাসিনার রেকর্ড 

শেখ হাসিনার জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেসার পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার বড় তিনি।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শেখ হাসিনা। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সদস্য ও রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।

১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের বঙ্গবন্ধুকে যখন সপরিবারে হত্যা করা হয়, ওই সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা হাসিনা ও রেহানা। পরের ৬ বছর লন্ডন ও দিল্লিতে তাদের নির্বাসিত জীবন কাটে।

১৯৮১ সালের ১৭মে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা। পাঁচ বছরের মাথায় সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের সময়ে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। 

তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ একনায়ক এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। পরে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে অংশ নেয় আওয়ামী লীগ; আর শেখ হাসিনা হন বিরোধী দলের নেতা। 

১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। 

২০০১ সালের নির্বাচনে সরকার গঠন করে বিএনপি-জামায়াত জোট। ওই আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ।

২০০৭ সালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নিলে আরও অনেক রাজনীতিকের মতো শেখ হাসিনাও গ্রেফতার। দুই বছরের মাথায় ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ জোট। দ্বিতীয়বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা।

বিএনপি ও তাদের শরিকদের বর্জনের মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনেও জয় পায় আওয়ামী লীগ জোট। সব শেষ গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার করেছে আওয়ামী লীগ জোট। এর মধ্য দিয়ে চতুর্থবার ও টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হলেন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৪২ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৭, ২০১৯/আপডেট: ১৭১৮ ঘণ্টা
এসকে/এসএম/এমইউএম/এমএ/জেডএস

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: সরকার মন্ত্রিসভা
আগুনের ভয়াবহতা কমেছে, স্বজনদের খুঁজছেন অনেকে
বরিশালে বিনম্র শ্রদ্ধায় ভাষাশহীদদের স্মরণ
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
প্রথম প্রহরে ফুলেল শ্রদ্ধায় ভাষাশহীদদের স্মরণ
একুশের প্রথম প্রহরে ভাষাশহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধা


আইএস সম্পৃক্ত শামীমা বাংলাদেশের নাগরিক নয়
ফেনী শহীদ মিনারে জনতার স্রোত
চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ১৬
গৌরব, প্রেরণা আর অহংকারের অমর একুশ
ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে খুলনায় মানুষের ঢল