ঢাকা, বুধবার, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

বাংলানিউজকে আরিফ

সিলেটকে লেক সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হবে

মফিজুল সাদিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০১৯ ঘণ্টা, জুলাই ২৫, ২০১৮
সিলেটকে লেক সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হবে বাংলানিউজের সঙ্গে কথা বলছেন ২০ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: নাসির উদ্দিন/বাংলানিউজ

সিলেট থেকে: সিলেটে রয়েছে ছোট বড় ১৯টি ছড়া (খালের থেকে বড়)। এগুলো খনন করে চারিদিকে পাড় বেঁধে দিয়ে পুণ্যভূমি সিলেটকে সবুজ লেক সিটি গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ২০ দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। 

কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও সাবেক সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আরিফুল হক চৌধুরী ২০০৩ সালে ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হন। সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের হাত ধরেই রাজনীতিতে আসেন তিনি।

এরপর ২০১৩ সালে ৩৫ হাজার ১০০ ভোট বেশি পেয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র হন আরিফুল। দায়িত্ব পেয়েই ‘মিস্টার অ্যাকশন’ হিসেবে পরিচিত হন তিনি। এমনকি রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সাহসী ভূমিকা রেখে নতুন করে তিনি নিজের ইমেজ উজ্জ্বল করছেন।  

এবার নির্বাচনেও ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) নগরীর কুমারপাড়ায় নিজ বাসভবনে বাংলানিউজকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে তুলে ধরেন তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও ভাবনার কথা।  

বাংলানিউজ: এবার মেয়র নির্বাচিত হলে নতুন কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে সিলেট নগরী নিয়ে?

আরিফুল হক চৌধুরী: আমি নানা ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করেছি। কিন্তু মেয়র হয়েও দীর্ঘ ২৬ মাস কাজ করতে পারিনি, মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি ছিলাম। এসব অসম্পন্ন কাজ শেষ করতে চাই। সিলেটের উন্নয়নকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি-এই তিনটা ধাপে ভাগ করেছি। সিলেট শহরে বর্জ্য ফেলার জন্য কোনো ধরনের ল্যান্ড ফিল্ড নাই এটা করতে চাই। ইতোমধেই আমরা প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছি। আশা করি কয়েকদিনের মধ্য পিইসি (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভা হবে। আমরা কেন্দ্রীয় বাস ও ট্রাক টার্মিনাল গড়তে চাই শহরে। ইতোমধ্যেই প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই) করেছি। এটা বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করবো। টার্মিনালগুলো উন্নত দেশের মতো হবে।

বাংলানিউজ: বিশুদ্ধ পানি নগরবাসীর জন্য অন্যতম সমস্যা। এই সমস্যা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আছে কী?

আরিফুল হক চৌধুরী: দেখুন, আমি যখন ২০১৩ সালে মেয়রের দায়িত্ব নিয়েছিলাম তখন মাত্র দৈনিক দেড় কোটি লিটার পানি সরবরাহ করার সক্ষমতা ছিল। এটাকে ৬ কোটি লিটারে উন্নীত করেছি। এখন পানির চাহিদা দৈনিক ৮ কোটি লিটার। সুতরাং আরও উন্নতমানের ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট করার পরিকল্পনা আছে। কামরান সাহেব ( সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান) ১৮ বছর এই নগরীর দায়িত্বে ছিলেন কিন্তু কোনো উন্নয়ন করেননি। যতো সময় যাবে পানির চাহিদা বাড়বে। সুতরাং সুপেয় পানি সরবরাহ নিয়ে আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো। ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি করে পরিকল্পনা কমিশনে ৬৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প পাঠিয়েছি।

বাংলানিউজ: সিলেট নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনে কী ধরনের পরিকল্পনা আছে?
আরিফুল হক চৌধুরী: সুরমা নদীর উভয় তীর সংরক্ষণ নামে আমরা একটা প্রকল্প নিয়েছি। এর মাধ্যমে সুরমা নদী খনন করা হবে। তবে এটা বড় প্রকল্প কেন্দ্রীয় সরকার ছাড়া এটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তবে আমরা এই প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি করে দিয়েছি। এটা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি। তারপর বিদ্যুতের তার, খুঁটি ও সাব-স্টেশনগুলো আমরা মাটির নিচে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। পুরো শহরে এটা ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। সুরমা নদীর পাড়ে ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন করবো। সিলেটে ১৯টি ছোট বড় ছড়া আছে এগুলো খনন করবো। সেই জন্য নিজেই ড্রেজার মেশিন নিয়ে আসছি। ছড়ার দুই পাশে ওয়াক ওয়ে এবং বসার আসন করে দেবো। আশা করি সিলেট হবে দেশের মধ্যে অন্যতম লেক সিটি। প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের মধ্যে ছড়া আছে এটা আল্লাহর বিশেষ একটা রহমত। নেচার বিউটি রেখে এটাকে লেক হিসেবে পরিণত করবো। একদিন এই শহরে নাম হবে লেক সিটি, গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি ও পর্যটন সিটি। এই শহরে আলাদা বাস লেনও নির্মাণ করবো। অনেক বিদেশি মেহমান সিলেটে আসে তাদের জন্য উন্নতমানের পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হবে।

বাংলানিউজ: সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে? 

আরিফুল হক চৌধুরী: দেখুন, সিলেট একটা সম্প্রীতির শহর। আমাদের এখানে পারস্পারিক রাজনৈতিক সম্পর্কও ভালো। সিলেটে সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই। আমরা সবাই সংখ্যাগরিষ্ট। আমাদের বৈশিষ্ট্য আমরা সবাই সিলেটি। কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কে মণিপুরী কে মুসলিম এটা কোনো বিষয় না। আমরা সবাই সিলেটি। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমরা একে অপরের খোঁজ-খবর রাখি। সংখ্যালঘু প্রশ্নে সিলেটকে বিভাজন করা যাবে না। আমি সবার ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। জেলখানায় আমার অনেক আত্মীয় দেখা করতে যাননি, অথচ মণিপুরী সম্প্রদায়ের অনেকে আমাকে দেখতে গেছেন। আমি বৌদ্ধদের বৌদ্ধ বিহার করে দিয়েছি। মন্দির ও শশ্মান ঘাটের উন্নয়ন করেছি।  
 
বাংলানিউজ: তরুণদের  উন্নয়নে কী ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন?

আরিফুল হক চৌধুরী: রাস্তাঘাটের প্রশ্বস্তকরণ ও শহরের সৌন্দর্য বর্ধণে তরুণ সমাজের বিশেষ ভূমিকা ছিল। আমি যদি ঢাকার কোনো পরামর্শক ফার্ম নিতাম তবে অনেক টাকা লাগতো। কিন্তু এসব কাজ তরুণ সমাজের মাধ্যমে করেছি। এতে তরুণ সমাজের দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি হাতে কিছু টাকা-পয়সাও তাদের হবে। তাছাড়া শহরে বিভিন্ন ছড়া উন্নয়নের কাজ চলছে। এই কাজে তরুণ সমাজের অবদান রয়েছে। আমাদের যেসব ছেলেরা বিএসসি ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে বেকার রয়েছে, তাদের বলেছি, তোমরা তোমাদের শহরের জন্য কাজ করো। তোমাদের অনারিয়াম দেবো। তারা ভালো কাজ করছে। শহরের অনেক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে তরুণ সমাজ। যারা অনেক ভালো কাজ করবে সরকারি ও বেসরকারি ভালো চাকরির জন্য সিটি করপোরেশন থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। আমি যদি আবার মেয়র হই তবে বাজেটের একটা অংশ তরুণ সমাজের উন্নয়নে ব্যয় করবো। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধূলার জন্য কাজ করবো। শিক্ষিত তরুণদের বেকার রাখবো না। তাদের চাকরির জন্য বড় বড় ফার্মে আমি দরখাস্ত লিখবো। তরুণদের সহযোগিতায় আমি প্রথম সিলেট সিটি করপোরেশনের সকল কাজ অনলাইনে এনেছি।
 
বাংলানিউজ: নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কী ধরনের পরিকল্পনা আছে?
আরিফুল হক চৌধুরী: আমার এখানে রেস্টুরেন্টের বেলায় কঠিন একটা আইন করেছি। কিচেনে যারা কাজ করবেন তারা অবশ্যই সিটি করপোরেশনের হেলথ কার্ডের আওতায় আসতে হবে। কারণ যদি কোনো চর্ম রোগী কিচেনে কাজ করেন তার রোগ সকল মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। নগরবাসীর সব ধরনের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে আমরা সচেতন থাকবো।

বাংলানিউজ: আসন্ন ভোট কেমন হবে বলে আপনি আশা করছেন?
আরিফুল হক চৌধুরী: সিলেটে আমরা ঐক্যবদ্ধ। ভোটারদের মাইন্ড সেট আছে। তবে জনগণের মধ্যে একটা শঙ্কা আছে। অনেকে প্রশ্ন করেন, তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি-না? এখানকার (সিলেট নগরী) কিছু ওসি অতি উৎসাহী। মিথ্যা মামলা দিচ্ছে ও বাড়ি বাড়ি হানা দিচ্ছে। তবে আমি আগেও বলেছি এই মাটি পবিত্র মাটি। এখানে কারো ভোটের অধিকার হরণ করা যাবে না, করলেও তার ফল ভালো হবে না।

বাংলানিউজ: জামায়াত সমর্থিত মেয়রপ্রার্থীর অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিএনপির গলার কাটা হয়ে দাঁড়াবে কী?
 
আরিফুল হক চৌধুরী: তিনি (অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের) জামায়াতের প্রার্থী নয়। সে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাত্র। কারণ ২০ দলের প্রার্থী আমি। জুবায়ের জামায়াতের প্রার্থী কখনো হতে পারে না।

বাংলানিউজ: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আরিফুল হক চৌধুরী: বাংলানিউজের প্রত্যেক সদস্যকে আমি আন্তরিকভাবে সালাম জানাচ্ছি। ভালো থাকুন।  
 
বাংলাদেশ সময়: ১৬১৩ ঘণ্টা, জুলাই ২৫, ২০১৮
এমআইএস/এমএ 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa