ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১২ সফর ১৪৪২

জাতীয়

রায়কে ঘিরে থমথমে রাজশাহী, ফাঁকা শহরে টহল চলছে

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৪০৯ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৮
রায়কে ঘিরে থমথমে রাজশাহী, ফাঁকা শহরে টহল চলছে নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা/ছবি: বাংলানিউজ

রাজশাহী: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে অজানা আতঙ্কে থমথম করছে রাজশাহী।

বৃহস্পতিবারের (০৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে যানবাহনের সংখ্যা কম থাকয় প্রধান প্রধান সড়কগুলো এখন প্রায় ফাঁকা। ভাঙচুর ও নাশকতার আশঙ্কায় সকাল থেকেই বিপণি বিতান ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান তেমন একটা খোলেনি।

তবে বেলা বাড়লে খুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিতে রাজশাহীতে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর উদ্যোগে টহল অব্যাহত রয়েছে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কাটাতে ফাঁকা সড়কেই সমন্বিত যৌথ বাহিনীর টহল চলছে। মহানগরীর বিভিন্ন প্রধান সড়কে টহল দিচ্ছে তারা। পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরা বর্তমানে নাশকতা প্রতিরোধে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে রয়েছে।

বাড়তি সতর্কতা হিসেবে বুধবার রাত থেকেই মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাজশাহীজুড়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

তবে বেগম খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজশাহী মহানগরী প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। পথের ধারে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের দোকানপাট। সীমিতভাবে চলাচল করছে বাস, সিএনজি, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। সব মিলিয়ে মহানগরবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে চাপা আতঙ্ক।

মোড়ে মোড়ে চেকপোস্টে তল্লাশি ও গ্রেফতার এড়াতে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউই বাইরে বের হচ্ছেন না। তবে বেলা বাড়লে কর্মস্থল ভিড় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে মিছিল-সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। কিন্তু ঢাকায় মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হলেও রাজশাহীতে বিকেলে পর্যন্ত মহানগর পুলিশ সেই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। তবে বিস্ফোরকদ্রব্য, দাহ্য পদার্থ, লাঠি-সোটা বহন, পটকা-আতশবাজি ফোটানো নিষিদ্ধ করেছে।

তবে রায়কে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে নেতাকর্মীদের নিয়ে তা মোকাবিলা করার কথা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। এজন্য তাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া রায় ঘোষণার সময় তার সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার।

আর রাজশাহী মহানগর বিএনপির দফতর সম্পাদক নাজমুল হক ডিকেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মহানগরীর ভুবনমোহন পার্কসহ গুরুত্বপূর্ণস্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার (সদর) ইফতে খায়ের আলম জানান, রায়কে কেন্দ্র করে মহানগরজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে ও অতিরিক্ত পুলিশ ও আর্মড পুলিশের মোতায়েন রয়েছে। চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নগর জুড়ে র‌্যাব, পুলিশ ও টহলও বাড়ানো হয়েছে। টহল দিচ্ছে বিজিবিও সদস্যরাও।  

তিনি জানান, মহানগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয় এমন কর্মকাণ্ড কোনভাবেই বরদাস্ত করা হবেনা। নাশকতার চেষ্টা চালালে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। এ নিয়ে নগরবাসীকে অহেতুক আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের এই কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ সময়: ১০০৪ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৮
এসএস/ওএইচ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa