ঢাকা, সোমবার, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৩ আগস্ট ২০২০, ১২ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

৩২ ধারা সাংবাদিক ঘায়েলের জন্য নয়

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০২-০৬ ০৮:১৮:০০ এএম
৩২ ধারা সাংবাদিক ঘায়েলের জন্য নয় ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী/ ছবি: ডিএইচ বাদল

ঢাকা: সাংবাদিকদের ঘায়েল করার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির গোলটেবিল মিলনায়তনে ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা আপনাদের বিরুদ্ধে করা হয়নি।

আপনারা কেন এটা ঘাড়ে নিচ্ছেন? আমি কথা দিচ্ছি, যতদিন বেঁচে আছি, এই আইনে (৩২ ধারা) যদি কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কোথাও মামলা হয় তাহলে আমি বিনা ফিতে তারপক্ষে আদালতে দাঁড়াবো।

আনিসুল হক আরও বলেন, সাংবাদিকরা অনুসন্ধানী রিপোর্টের জন্য গোপন তথ্য সংগ্রহ করলে সেটা গুপ্তচর বৃত্তির মধ্যে পড়বে না। গুপ্তচরবৃত্তি তাকেই বলে, যখন কেউ রাষ্ট্র ও সরকারের গোপন তথ্য সরকারের শত্রুর কাছে পাচার করে দেয়। তখন তার বিরুদ্ধে এ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরির বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অপরাধীদের সাজা কীভাবে দেবো? সেজন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হচ্ছে।

আদালতের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি বিরাট অংশ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন- অ্যাটর্নি জেনারেলের এমন বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি হয়তো গত ২/৩ বছরের ব্যাপারে বলেছেন। আমার বিশ্বাস নতুন প্রধান বিচারপতি সবকিছু নতুন করে দেখবেন। এটাও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন।

খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, সরকার বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করছে, খালেদা জিয়ার এ বক্তব্য সঠিক নয়। তার বিরুদ্ধে এই মামলাটি হয়েছিল তারই নিয়োগকৃত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ফখরুদ্দীন আহমেদ ও সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের সময়।

‘মামলাটি সরকারের কোনো সংস্থাও তদন্ত করেনি। এটা তদন্ত করেছে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন। এই মামলা নিয়ে তিনি হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে অন্তত ১০ থেকে ১৫ বার আবেদন করে হেরেছেন। ’

ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে সরকার হেরেছে, ইতিহাস জয়ী হয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি আমি নিজেও বুঝতে পারিনি যে, তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন। তবে আমি বলতে চাই, বঙ্গবন্ধুকে কোনো আইনের মাধ্যমে জাতির পিতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়োজন নেই।

এছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এসকে সিনহা) বিরুদ্ধে ১১ অভিযোগ, মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই, মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনার বিচার, বিচারপতিদের অবসরের বয়সসহ নানা বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেন আনিসুল হক।

তিনি বলেন, এসকে সিনহার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা অবশ্যই তদন্ত হবে। মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ দিকে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অভিযুক্ত ১৯৫ জন মানবতা বিরোধীর বিচারের বিষয়ে সরকার অবশ্যই যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে আইনমন্ত্রী তার প্রাথমিক বক্তৃতায় গত ৪ বছরে তার মন্ত্রাণালয়ের বিভিন্ন সফলতার কথা তুলে ধরেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা হওয়ার পর লজিস্টিক অনেক সমস্যা ছিল। অবকাঠামো খারাপ ছিল। বিচারকরা এজলাস ভাগাভাগি করে বিচার কাজ করতেন। সেগুলো ধীরে ধীরে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে।  

বিচারক স্বল্পতার কারণে ৩৩ লাখ মামলার জট খোলার জন্য ইতোমধ্যে ১৬৬ জন সহকারী জজ নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি আশুতোষ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম পানু। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান, বদিউজ্জামান, ডিআরইউ-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন প্রমুখ।  

বাংলাদেশ সময়: ১৪১৩ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৮
এমএইচ/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa