ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১২ সফর ১৪৪২

জাতীয়

খুলনা বিভাগীয় সরকারি শিশুসদনে ৪৬ জনের জন্য ৮ চৌকি

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০২৫২ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৮
খুলনা বিভাগীয় সরকারি শিশুসদনে ৪৬ জনের জন্য ৮ চৌকি শিশুসদনের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এতিম শিশু/ ছবি: বাংলানিউজ

বাগেরহাট: অপ্রতুল অবকাঠামো, অব্যবস্থাপনা, জনবল সংকট আর বিশুদ্ধ পানির অভাবে ধুকছে খুলনা বিভাগীয় সরকারি শিশুসদন। এখানে ৪৬ জন এতিমের থাকার জন্য রয়েছে মাত্র আটটি চৌকি। ফলে মেঝেতেই থাকতে হয় অনেককে। 

৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী এতিমদের থাকা, খাওয়া এবং শিশু শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়াসহ যাবতীয় ভরণপোষণের জন্য ১৯৬০ সালে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামে নির্মাণ করা হয় বিভাগীয় সরকারি শিশুসদনটি। ৫.৩ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ সদনে প্রথমে ৪৫০ শিশু ভর্তি করা হয়।

পরে ১৯৭০ সালে ৪০০ জনের আবাসন সুবিধা রেখে কয়েকটি ভবন নির্মাণ করা হয়।  

২০১১ সালে সদনের মূল ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ২০১২ সাল থেকে ভবনে প্রাথমিক শিক্ষাসহ সব কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। ২০১৩ সালে ভবনটি অপসারণ করা হয়। এরপর থেকে প্রাথমিক এবং কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে এখানে।  

বর্তমানে মূল আবাসিক ভবনে থাকার উপযোগী দু’টি রুমে চারটি করে চৌকিতে অনেক কষ্ট করে ১৬ জন থাকে। বাকিরা মূল আবাসিক ভবন ও পাশের একটি টিনশেড ঘরের মেঝেতে থাকে। তবে টিনশেড ঘরটিতে রান্নাও করা হয়। ঘরটি থাকার অনুপোযোগী। শিশুসদনের মূল আবাসিক ভবনের দু’টি কক্ষের একটি মূল আবাসিক ভবন ছাড়া অন্য ঘরে সাপ্লাইয়ের পানির ব্যবস্থা থাকলেও টিনশেড ঘরে নেই। একটি ডিপ টিউবওয়েল আছে, যা প্রায়ই নষ্ট থাকে। গোসলের জন্য শিশুদের পুকুরের অপরিচ্ছন্ন পানি ব্যবহার করতে হয়।  

সরকারি শিশুসদনে থেকে বাইরের একটি বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ছে মোরেলগঞ্জের মো. সাইফুল ইসলাম (১৬)। সে বলে, শিক্ষক ও ভাইয়ারা আমাদের খুব যত্ন করেন। কিন্তু আমাদের থাকার জন্য ভালো ব্যবস্থা নেই।

মোল্লাহাটের জয়ডিহি গ্রামের মেশকাত শেখ (৯) আর নবম শ্রেণির আরেক ছাত্র ফকিরহাটের সাতসৈয়া গ্রামের মো. রাসেলের (১৪) বক্তব্য, এখানে থেকে বাইরে পড়াশুনা করতে গেলে অন্য শিক্ষার্থীরা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে, মন ভেঙ্গে যায়। যদি এখানেই পড়ার ব্যবস্থা থাকতো, তাহলে আরও ভালো লেখাপড়া করতে পারতাম।

সরকারি শিশুসদনের বড় ভাইয়া (একটি পদের নাম) মো. রুহুল আমিন বাংলানিউজকে বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে ৩২ জনের পদ রয়েছে। জনবল আছে মাত্র ২০ জন। এর মধ্যে ১ জন সহকারী তত্ত্বাবধয়াক, ১ জন উচ্চমান সহকারী, ১ জন খণ্ডকালীন এমবিবিএস চিকিৎসক, ১ জন কারিগরি প্রশিক্ষক, ২ জন অফিস সহকারী, ৪ জন অফিস সহায়ক ও ২ জন বাবুর্চির পদ শূন্য রয়েছে। এসব কারণে সরকারি বরাদ্দ ও শিক্ষার্থী (নিবাসী) ভর্তির চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ভর্তি করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। ২০১১ সাল পর্যন্ত ২৭৫ জন নিবাসী থাকলেও চলতি অর্থ বছরে ১৫০ জনের জন্য সরকার বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু আবাসন সংকটের কারণে ভর্তি করা হয়েছে ৫২ শিশুকে। পরে এদের ৬ জনকে অবিভাভকরা নিয়ে গেছেন। শিশুসদনের মূল আবাসিক ভবন/ ছবি: বাংলানিউজভারপ্রাপ্ত সহকারী তত্ত্বাবধয়াক এটিএম রেজাউল কবির বাংলানিউজকে বলেন, ভবনের অভাবে আমরা অনেক দিন ধরে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছি। এখানে থেকে বাইরের স্কুলে গিয়ে পড়তে বাচ্চাদের খুব সমস্যা হয়।  

তিনি আরও বলেন, এতিম শিশুদের জন্য এখানে ইলেক্ট্রিক্যাল, ওয়েল্ডিং, দর্জি বিজ্ঞান, পোল্ট্রি ও ভেজিটেবল গার্ডেনিং ট্রেডে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোর অভাবে দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এটি চালু করলে নিবাসীরা উপকৃত হতো।

এদিকে, সদনের কম্পাউন্ডার আব্দুল মন্নান হাওলাদার বলেন, ২০০৬ সাল থেকে চিকিৎসক নেই। বাচ্চারা অসুস্থ হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে হয়।  

শিশুসদনের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বাংলানিউজকে বলেন, প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের নানা সংকটের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সর্বশেষ গেল বছরের ডিসেম্বরেও চিঠি দিয়েছি। সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস।

বাংলাদেশ সময়: ০৮৪৯ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০২, ২০১৮
এসআই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa