ডিপথেরিয়া: ৫ লাখ রোহিঙ্গা শিশুকে হু-ইউনিসেফের ভ্যাকসিন

নিউজ ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

রোহিঙ্গা শিবিরে শিশুদের স্বাস্থ্য সেবায় তৎপর বিভিন্ন সংস্থা (ফাইল ফটো)

কক্সবাজারে ছড়িয়ে পড়া ডিপথেরিয়া (কণ্ঠনালীর রোগ) মোকাবেলায় প্রায় পৌনে ৫ লাখ শিশুকে ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এবং সেখানে কর্মরত অন্যান্য স্বাস্থ্য সংস্থা। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির, অস্থায়ী স্থাপনা ও আশপাশের এলাকায় এ ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা। সবমিলিয়ে এদেশে এখন আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে নভেম্বরে ডিপথেরিয়া রোগ ছড়িয়ে পড়ে। ৮ নভেম্বর থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত সেখানে ডিপথেরিয়া আক্রান্ত হয়ে ৩১ জনের মৃত্যু হয়। আক্রান্ত হয় ৩ হাজার ৯৫৪ জন। এছাড়া আরও ১০ হাজার ৫৯৪ জনের মধ্যে এ রোগের উপসর্গ দেখা গেছে বলে বিভিন্ন হিসাবে উঠে এসেছে।

এই প্রাণঘাতী রোগ ঠেকাতে তৎপর হু’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. বর্ধন জং রানা বলেন, ডিপথেরিয়া ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা শিবির ও আশপাশের এলাকায় শিশুদের মধ্যে এই ভ্যাকসিন দেওয়ার মাধ্যমে মানুষের, বিশেষ করে শিশুদের এ ধরনের রোগ থেকে সুরক্ষায় স্বাস্থ্য খাতের সংস্থাগুলোর প্রত্যয়ের পুনরাবৃত্তি প্রকাশ পাচ্ছে।

রোববার (১৪ জানুয়ারি) হু ও ইউনিসেফের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচিতে ৬ থেকে ৭ বছর বয়সী দেড় লাখ শিশুকে পেন্টাভালেন্ট ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে, আর ৭ থেকে ১৭ বছর বয়সী এক লাখ ৬৬ হাজার শিশুকে দেওয়া হয়েছে টেটেনাস ও ডিপথেরিয়া ভ্যাকসিন। এক মাসের বিরতি দিয়ে আরও দুই দফায় রোহিঙ্গা শিবির ও আশপাশের এলাকার সব শিশুকে এই ডিপথেরিয়া-সংক্রান্ত ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।

ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি এডোয়ার্ড বেইগবেডার বলেন, ডিপথেরিয়ায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা। সেজন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা রোহিঙ্গা শিবিরের দ্বারে দ্বারে গিয়ে শিশুদের ভ্যাকসিন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। একেবারে স্বল্প সময়ের মধ্যে আকস্মিক এই রোগ ছড়িয়ে পড়ায় অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামলাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এই ভ্যাকসিন রোগটির ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কাজ করবে বলে আমরা মনে করি।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ডিপথেরিয়া ঠেকাতে আগামী ছয় মাসের জন্য হু তার জরুরি তহবিল থেকে দেড় কোটি ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। সর্বোচ্চ সহায়তা দিয়ে কাজ করছে ইউনিসেফসহ অন্যান্য সংস্থাও। 

ডিপথেরিয়ায় সাধারণত শিশুরা আক্রান্ত হলেও প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যেও এ রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন লোকদের ক্ষত স্থান, চোখের কনজাংটিভা, জননাঙ্গ ইত্যাদি আক্রান্ত হতে পারে ডিপথেরিয়ায়৷  সংক্রামক এ রোগ শ্বাসতন্ত্রে দেখা দিলে শ্বাসকষ্ট হয়, এমনকি রোগীর দম বন্ধ হয়ে মৃত্যুও হতে পারে।

বাংলাদেশ সময়: ১৪০৮ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৪, ২০১৮
এইচএ/

জামিনে বেরিয়ে হত্যা মামলার আসামিদের আতশবাজি
গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস সিলগালা, জরিমানা ১৫ লাখ
যবিপ্রবি’র দুই শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার
রংপুরে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি
চিকিৎসায় গাফিলতির পর মরদেহ আটকালো আইএলএস হাসপাতাল
অ্যাপস চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রিমিয়ার
ড. কামাল জনগণের সঙ্গে ঠাট্টা-মশকরা করছেন: ইনু 
দিল্লীতে বাংলাদেশ-ভারত নৌ-সচিব বৈঠক ২৪-২৬ অক্টোবর
অস্ত্র-ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২
সীতাকুণ্ডে প্রাইভেটকারের চাপায় যুবক নিহত