ঢাকা, রবিবার, ১২ আশ্বিন ১৪২৭, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮ সফর ১৪৪২

জাতীয়

অবহেলা-অনাদরে ঘুমিয়ে আছেন শহীদেরা!

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০১১ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৭
অবহেলা-অনাদরে ঘুমিয়ে আছেন শহীদেরা! জঙ্গলে পরিণত হয়েছে পৈরতলা গণকবর। ছবি: বাংলানিউজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদেরা ঘুমিয়ে আছেন অনেকটা অবহেলা-অনাদরে! তাদের স্মৃতিতে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনাও রয়েছে বেহালদশায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পৈরতলা গণকবর, মুক্তিযোদ্ধাদের নামফলক ও স্মৃতিসৌধে এ বেহালদশা বেশি প্রকট। প্রয়োজনে লোকবল নিয়োগ করে হলেও শহীদদের মর্যাদা রক্ষার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জঙ্গলে পরিণত হয়েছে পৈরতলা গণকবর। যেখানে-সেখানে পড়ে আছে মাদক সেবনের উচ্ছিষ্ট। মানুষের মল পড়ে আছে গণকবরের মূলবেদিতে। শহীদদের সমাধিস্থলের শ্বেতপাথরে খোদাই করা নামফলকটিও নিয়ে গেছেন দুর্বৃত্তরা। পৌর এলাকার অন্তর্গত হলেও কোনো সড়ক নির্মিত হয়নি। ফলে কাঁদা মাড়িয়ে যেতে হয় গণকবরে।

পৌর এলাকার অন্তর্গত হলেও কোনো সড়ক নির্মিত হয়নি।  ফলে কাঁদা মাড়িয়ে যেতে হয় গণকবরে।  ছবি: বাংলানিউজস্থানীয় বাসিন্দা নিজাম মিয়া বলেন, ‘সরকার গণকবরটি সংরক্ষণে কয়েক বছর আগে উদ্যাগ নেয়। তবে ইটের প্রাচীর নির্মাণের পর সে কাজ আর এগোয়নি। বর্তমানে গণকবরটি মাদকসেবীদের আঁখড়ায় পরিণত হয়েছে’।

গণকবরে আসার সড়ক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলে বধ্যভূমিটির পবিত্রতা রক্ষা সম্ভব হবে বলেও দাবি তার।

মোহাম্মদ খায়ের মিয়া বলেন, ‘বিশেষ দিনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারের কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এখানে আসেন। সে সময় একটু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন তারা। এরপর আর কেউ কোনো খোঁজ-খবর রাখেন না। গণকবরটি আমাদের গ্রামের গর্বের হলেও অরক্ষিত থাকায় বর্তমানে তা নানা সমস্যার কারণে পরিণত হয়েছে’।

খলিল মিয়া বলেন, ‘গণকবরটির সংস্কারে জনপ্রতিনিধিরা বার বার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এটি সংরক্ষণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি অসম্মান রোধে সরকারকে সচেষ্ট হওয়ার দাবি জানাই’।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার হারুন-অর রশিদ বলেন, ‘আমরা চাই, পৈরতলা গণকবরসহ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিবিজড়িত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সকল স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে লোকবল নিয়োগ করবে সরকার। বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাগুলো অসম্মানিত হচ্ছে, তা আমাদের জন্য কষ্টদায়ক’।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি ছড়িয়ে রয়েছে। যেসব স্থাপনা অযত্নে ও অবহেলায় পড়ে আছে, সেগুলোর বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো’।

সড়ক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলে বধ্যভূমিটির পবিত্রতা রক্ষা সম্ভব হবে বলে দাবি এলাকাবাসীর।  ছবি: বাংলানিউজমোবাইল ফোনে তাৎক্ষণিকভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র নায়ার কবিরকে গণকবরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

বাংলাদেশ সময়: ১৬০৮ ঘণ্টা,  ডিসেম্বর ১৮, ২০১৭
এএসআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa