ঢাকা, বুধবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

নির্ধারিত স্থানে অনীহা, অলিতে-গলিতে কোরবানি

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৪১২ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২, ২০১৭
নির্ধারিত স্থানে অনীহা, অলিতে-গলিতে কোরবানি অলিতে গলিতে পশু কোরবানি। ছবি: শেখ জাহিদুজ্জামান

ঢাকা: ঈদুল আজহায় নগরীর অলিতে-গলিতে পশু কোরবানি দিচ্ছে রাজধানীবাসী। শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) ঈদুল আজহার সকালে অনেক স্থানে প্রধান সড়কেও কোরবানি দিতে দেখা গেছে। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন থেকে নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানির ঘোষণা দেওয়া থাকলেও সেই আহ্বানে তেমনটা সাড়া দেয়নি রাজধানীবাসী।

সরেজমিন ঘুরে বাংলানিউজের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট মাহফুজ ইসলাম জানান, সকালে ঈদের নামাজ শেষ হতে না হতেই রাজধানীর মতিঝিল-আরামবাগ এলাকায় অলিতে-গলিতে শুরু হয় কোরবানির পশু জবাই।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্ধারিত স্থান জসীম উদ্‌দীন রোড থাকলেও নিজেদের সুবিধার্থে ব্যাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি, ইডেন গার্ডেন ও এজিবি কলোনিতে গরু-ছাগল কোরবানি দেওয়া হচ্ছে।

এসব এলাকার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্ররা গরু কোরবানি করছেন।

খিলগাঁওয়ের মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আসাদুল ইসলাম রাকিব বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা বড় হুজুরের মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। গরু কোরবানির বিনিময়ে চামড়া নিয়ে যাই। এ সময় মাদ্রাসার রশিদ দেওয়া হয়’।

ঈদুল আজহার দিন শনিবার (০২ সেপ্টেম্বর) সকালে এসব এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কোরবানির পর পরই দ্রুত গরুর চামড়া ছিলে মাংস বানানোর কাজে নেমে পড়ছেন কোরবানিদাতারা। একসঙ্গে গরু কোরবানি ও মাংস বানানোর সময় গরুর দাম, মাংসের পরিমাণ ইত্যাদি নিয়ে আলাপচারিতায় মেতে উঠছেন।
এভাবেই চলছে হাসি-গল্পে কোরবানি ও মাংস বানানোর পাশাপাশি সব ধরনের কাজ। কাজে কিংবা কথাবার্তায় আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই।

নির্ধারিত স্থানে না গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনিতে কোরবানি কেন দিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যাংক কর্মকর্তা ওয়াহিদুল হক বাংলানিউজকে বলেন, ‘নিজেদের সুবিধার্থে বাসার পাশে কোরবানি দিচ্ছি। কোরবানির পর দ্রুত গরুর রক্ত ধুয়ে ফেলছি, বর্জ্য পরিষ্কার করছি, যেন কোনো দুর্গন্ধ না হয়’।

বাংলানিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট শেখ জাহিদুজ্জামান জানান, রাজধানীর অলিতে-গলিতে, বাসার সামনে, রাস্তার উপরে, বাসার গ্যারেজে, ফুটপাতে কোরবানি দেওয়ার সম্মিলিত আয়োজন চোখে পড়েছে।  

নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কোরবানি দাতা আলামিন বাংলানিউজকে বলেন, বড়বড় গরু নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি দেওয়া কষ্টসাধ্য। কেননা সব জিনিসপত্র টানা হেচড়া করা সম্ভব নয়। এছাড়া বাড়ির বাইরে গরু নিয়ে জবাই দিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম শেষ করাটাও দুরূহ। তাই আমরা বাসার সামনেই পশু জবাই দিয়েছি।  

অপর একজন কোরবানিদাতা বাড্ডার জসিম বাংলানিউজকে বলেন, আমরা নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাই না দিলেও পশুর বর্জ্য সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে তুলে দেব। তারপর নিজেরাই ব্লিচিং পাউডার দেবো। কেননা আমাদের তো এখানেই থাকতে হবে। কাজেই অপরিষ্কার থাকলে আমাদেরই ক্ষতি হবে। সুতরাং পরিষ্কারের বিষয়ে আমরা সজাগ আছি।

এদিকে এবার দুই সিটি কর্পোরেশনে ১ হাজার ১৭৪টি স্থানে পশু কোরবানি  করা হবে বলে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা দেয়। এর ম‌ধ্যে উত্তরে ৫৪৯টি ও  দক্ষিণে ৬২৫টি।   পশু জবাইয়ের জন্য ১২১৭ জন ইমাম ও  কসাই কাজ করছেন। এদিকে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর দুই কর্পোরেশনে প্রায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার পশু কোরবানি করা হচ্ছে। আর এই পশু কোরবানির ফলে অতিরিক্ত ২৮ হাজার টন বর্জ্য হবে। এর ম‌ধ্যে  দক্ষিণে ১৮ হাজার টন ও  উত্তরে ১০ হাজার টন বর্জ্য হতে পারে।

অন্যদিকে রাজধানীর বর্জ্য অপসারণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন  ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনে প্রায় ১৩ হাজারের বেশি শ্রমিক ঈদের দিন দুপুর ২টার পর থেকে বর্জ্য অপসারণে কাজ করবেন। পাশাপাশি ১ হাজারের বেশি ঠিকাদারদের শ্রমিক বর্জ্য অপসারণে কাজ করবেন বলেও জানা গেছে।  

কিন্তু রাজধানীর নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাইয়ের চেয়ে সকাল থেকেই অলিতে-গলিতেই পশু জবাইয়ের চিত্র দেখা গেছে।

বাংলানিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মাসুদ আজিম জানান, রাজধানীর পল্টন, মতিঝিল, ফকিরাপুল, দৈনিক বাংলা মোড় ঘুরে দেখা গেছে, ওলিগলিতে কোরবানি দেয়ার কারণে রাস্তার পরিস্থিতি চরম আকারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রায় প্রত্যেক বাড়ির সামনেই চলেছে কোরবানি আর মাংস কাটাকাটির কাজ।

তোপখানা রোড এলাকায় বাসার সামনের রাস্তায় কোরবানি দিয়েছেন তৌফিক এলাহী। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, কোরবানি সবসময় বাসার নিচেই দেই। এটা একটা রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া বাসার সবাই মাংস কাটাকাটি দেখতে চায়।

পল্টন এলাকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, আমরা নিজেদের লোক দিয়েই রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ করিয়ে দেই। তাই সমস্যা হবার কথা না।

উল্লেখ্য, এবার ২৪ ঘণ্টার ম‌ধ্যে রাজধানী থেকে কোরবানি দেওয়া পশুর বর্জ্য মুক্ত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন।   তবে গত দুই ঈদে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানী থেকে কোরবানির বর্জ্য অপসারিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ০৯৫০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২, ২০১৭
এসজে/এএসআর/জেডএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa