ঢাকা, বুধবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

গরু সংকটে বেপারিদের মুখে হাসি!

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২৩৩৪ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৭
গরু সংকটে বেপারিদের মুখে হাসি! দীপু মালাকার-ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: অনেক বেশি ‘রিক্স’ নিয়ে যেসব বেপারিরা গরু ধরে রেখেছেন, শেষ বেলায় তাদের মুখে হাসি ফুটেছে। হাটে ক্রেতার তুলনায় গরুর সংকট থাকায় বাড়তি লাভের মুখ দেখে এসব গরু ব্যবসায়ী।  

শুক্রবার (০১ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে গাবতলী পশুর হাটে গরু কিনতে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। ফলে ক্রেতার তুলনায় গরু কম থাকায় গরুর দাম বেড়েছে বহুগুণে।

এতে বেপারিরা প্রায় দ্বিগুণ লাভের মুখ দেখছে। অন্যদিকে শেষ সময়ে কোনো রকমে একটি গরু কিনতে পেরেও খুশি ক্রেতারা।

বেপারিদের দাবি, গত এক সপ্তাহ ধরে শুনছি বাজারে ভারতীয় গরু আসছে। কিন্তু বাস্তবে আসেনি। এতে গরু বেপারির পাশাপাশি খামারিরাও আতঙ্কিত হয়ে কেউ ‘রিজনেবল’ প্রাইসে আবার কেউ অল্প দামে গরু ছেড়ে দিয়েছেন। এতে গরু কমেছে ক্রেতা বেড়েছে।

ক্রেতাদেরও দাবি, খবর পেয়েছি এবার ‍অনেক গরু। শুনলাম হাটে ‘গরু আর গরু’, দামও কম। এ কারণে আগে গরু কিনতে আসেননি। কিন্তু আজ হাটে এসে দেখি গরু কম তবে দাম বেশি।

বিকেলে জুম্মার নামাজের পর হঠাৎ করে গাবতলীর গরুর হাটে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। ক্রেতা অনুপাতে গরু না থাকায় গরুর সংকট দেখা দেয়।

ঠিক সেই সময় থেকে বেপারিরা গরুর দাম বাড়াতে শুরু করে। সন্ধ্যার পর এমন পরিস্থিতি হয়, যে গরু সকালে ৪০-৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তাতে তাও ৬০ হাজার টাকা দিয়েও পাচ্ছিল না। বাজেটের ১৫-২০ হাজার টাকা বেশি দিয়েও পছন্দমতো গরু কিনতে পারেনি ক্রেতারা। এ পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয় রাত ৮টার পর। গাবতলী হাটের প্রবেশ পথ দিয়ে কোনো গরুকে হাটের ভেতরে প্রবেশ করতেই দেয়নি ক্রেতারা। যদিও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের গরুর যোগান দিতে অল্প অল্প করে মানিকগঞ্জ, সাভার থেকে গরু আসতে থাকে।

বাধ্য হয়ে ক্রেতারা বলছেন, ভালো-খারাপ পরে আগে একটা গরু নিয়ে যাই। পরে গরু পাবো কি-না সন্দেহ। কোরবানিও দিতে পারবো না। অথচ দু’দিন আগেও ক্রেতাদের জামাই আদর করে গরু দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মিরপুর-৬ নম্বর থেকে গরু কিনতে এসেছেন ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেন। তার বাজেট অনুযায়ী গরু পছন্দ করতে পারছেন না।

তিনি বলেন, খবরে দেখলাম হাটে অনেক গরু। কিন্তু হাটে এসে দেখি গরু নেই বললেই চলে। যেগুলো আছে দাম অনেক বেশি চাওয়া হচ্ছে। গরু কিনতে এসে দেখি ছাগল কিনে বাড়ি ফিরতে হবে।

একই সময়ে কুষ্টিয়া মিরপুরের আব্দুল ওহাব বেপারি বলেন, সপ্তাহ আগে ৭০টি মাঝারি দেশি গরু হাটে তুলেছি। এর মধ্যে ৬১টি গরু লাভে বিক্রি করেছি।

নাটোরের মোজাহাজর বেপারি বলেন, আল্লাহ দিলে ভাতের দাম হইছে। গ্যালোবারে মার খাইছি। এবার সংসার (পরিবার) নিয়ে ভালো ঈদ করতে পারবো।

মানিকগঞ্জ সিংগাইড়ের রেজাউল বেপারি বলেন, এবার বাম্পার মেরেছি আল্লাহ দিলে।
 
নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দারুস সালাম থানার টহল পুলিশ মাহফুজুল হক বকশী বাংলানিউজকে বলেন, গরুর হাটে গ্রাহকদের কোনও অভিযোগ ছিল না। অত্যন্ত সুন্দরভাবে হাট পরিচালনা করা হয়েছে। সবার নিরাপত্তার জন্য তিন ধাপে মোট ৩০০ পুলিশ দায়িত্ব পালন করেছে। একই কথা বলেছেন র‌্যাবে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মো. নজরুল।  

বাংলাদেশ সময়: ০৫৩১ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৭
এমএফআই/এমসি/আরবি/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa