ঢাকা, বুধবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

হাটে হাসছেন বেপারি, বিপাকে ক্রেতা!

মফিজুল সাদিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১৫৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৭
হাটে হাসছেন বেপারি, বিপাকে ক্রেতা! গাবতলী পশুর হাট ফাঁকা- ছবি- দিপু মালাকার

ঢাকা: কয়েক ঘণ্টা বাদেই ত্যাগ ও মহিমার কোরবানির ঈদ। শেষ প্রস্তুতি হিসেবে পছন্দের পশু কিনতে ক্রেতারা ভিড় জমিয়েছেন রাজধানীর সবচেয়ে পশুর হাট গাবতলীতে। তবে নগরীর একমাত্র স্থায়ী পশুর হাটে হঠাৎ করেই গরুর সংকট। অস্থায়ী প্যান্ডেলের সব গরু শেষ হয়ে গেছে।

স্থায়ীভাবে গাবতলীর হাটে যেসব প্যান্ডেল তৈরি আছে সেখানে গরু হাতে গোনা। ফলে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা।

তবে গরুর সংকটের কারণে হাসছেন অনেক বেপারি। যেসব বেপারি গরু রেখে দিয়েছেন তারা হাঁকছেন চড়া মূল্য।  

শুক্রবার (০১ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে হাটে। এতে জুমার নামাজের পর হাটে এসে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। ফলে বাজেট অনুযায়ী গরু মিলছেনা গাবতলীর হাটে।

মিরপুর-৬ নম্বর থেকে গরু কিনতে এসেছেন ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেন। অথচ বাজেট অনুযায়ী গরু কিনতে পারছেন না তিনি। আওলাদ বলেন, সংবাদ মাধ্যমে জানতে পেরেছি হাটে প্রচুর গরু। ভারতীয় গরু নাকি হাটে আছে। কিন্তু এসে দেখি গরু নেই। যেগুলো আছে দাম অনেক চাওয়া হচ্ছে। গরু কিনতে এসে দেখি ছাগল কিনে বাড়ি ফিরতে হবে।  
 
কুষ্টিয়ার মিরপুরের আব্দুল ওহাব বেপারি। সপ্তাহ আগে ৭০টি মাঝারি দেশি গরু তিনি হাটে তুলেছিলেন। এর মধ্যে ৬১টি গরু বিক্রি করেছেন। নয়টি ধরে রেখেছেন চড়া দামের আশায়। ৬১টি গরুতে যে লাভ করেছেন নয়টি গরু বিক্রি করে সেই লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।
 
এর মধ্যে আড়াই মণ মাংস হবে এমন একটি দেশি গরুর দাম হাঁকছেন ৮০ হাজার টাকা।
 
ওহাব বেপারি বলেন, পিটপিট (পরপর) তিনবার বসান খাইছি। ক্রেতারা ছাগল কিনতে এসে গরু কিনে বাড়ি ফিরেচে, সেই দিন শ্যাষ। এখন হাটের ভাব উল্টো, গরু কিনতে এসে ছাগল কিনতে হবে।

গাবতলী হাটে গরুর সংকট
গাবতলী পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, যেসব বেপারি সাহস করে গরু ধরে রেখেছেন তারা অনেক লাভ করছেন। অথচ ভয়ে ভয়ে যেসব বেপারি গরু বিক্রি করেছেন তারা আফসোস করছেন। কারণ জুমার নামাজের পরে গরুর দাম হঠাৎ চড়া। হাটে বেপারিরা এক ধরনের জামাই আদরে। আর অতিরিক্তি দামের কারণে ক্রেতারা পড়েছেন মহাবিপাকে।
 
অথচ বৃস্পতিবারের আগে অনেকে ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে পেয়েছেন গরু।  
 
হাটঘুরে দেখা গেছে, সব বেপারির মুখে হাসি। নাটোরের মোজাহাজর বেপারি বলেন, আল্লাহ দিলে ভাতের দাম হইচে। গ্যালোবারে (গতবছর) মার খাইচি। এবার সংসার নিয়ে ভালো ঈদ করতে পারবো।
 
হাটের প্রবেশদ্বারে এক বিক্রেতা ছোট একটা গরুর দাম হাঁকছেন ৫৫ হাজার টাকা। ৬০ থেকে ৬৫ কেজি মাংস হবে না এর। শুধু দেশি নয় ভারতীয় গরুর বেপারিরাও লাভবান হয়েছেন।
 
মানিকগঞ্জ সিংগাইরের রেজাউল বেপারি ৪৫টি সাদা বলদ হাটে তুলেছেন। এর মধ্যে ৪১টি বিক্রি হয়েছে। রেজাউল বলেন, এবার বাম্পার মেরেছি। আল্লাহ বাজার ভালো।
 
গাবতলী হাটের পশ্চিম পাশে গরু পছন্দের জন্যে হন্যে হয়ে ঘুরছেন সাইমুম শাহরিয়ার। কিন্তু বাজেট অনুযায়ী পছন্দের গরু পাচ্ছেন না তিনি। শাহরিয়ার বলেন, বাজেটের থেকে গরুর দাম হাই। বড় কথা পছন্দ ও দর দামের তফাৎ খুব।
  
বাংলাদেশ সময়: ১৭৫৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৭
এমআইএস/জেডএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa