ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৪ আগস্ট ২০২০, ১৩ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

বড় গরুর দাম কম, ছোট গরুর বেশি

মাহফুজুল ইসলাম, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০৯-০১ ০৯:২৮:০৪ এএম
বড় গরুর দাম কম, ছোট গরুর বেশি বড় গরুর দাম কম, ছোট গরুর বেশি। ছবি: দিপু মালাকার

ঢাকা: রাত পোহালেই কোরবানির ঈদ। গাবতলী পশুর হাটে চলছে শেষ মুহূর্তের কেনা-বেচা। ক্রেতাদের সমাগম বাড়ায় দাম বেশি হাঁকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার (০১ সেপ্টেম্বর) আগেরদিন বৃহস্পতিবারের (৩১ আগস্ট) চেয়ে এ হাটে ছোট গরুর দাম বেশি। বড় গরুর ক্রেতা ও চাহিদা কম।

ছোট গরুর চাহিদা থাকায় ট্রাকভর্তি করে ঢুকছে। ক্রেতারারাও এসব ছোট গরু কিনে ঘরে ফিরছেন।
 
ক্রেতারা বলছেন, আকারে ছোট (৫০ হাজার টাকা) ও মাঝারি (৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা) গরুর চাহিদা বেশি, তাই দামও বেশি। তবে সোয়া লাখ টাকা থেকে এর চেয়ে বেশি দামের গরুর চাহিদা কম, তাই দামও কম।
 
বাবা-চাচার সঙ্গে গরুর কিনতে আসা মুহাইমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গরুর দাম বেশি। সকালে হাটে এসেছি। তিন থেকে চারটি গরু পছন্দ করেছি। কিন্তু দাম বেশি বলে কিনতে পারিনি’।
 
ক্রেতা আকরাম হোসেন বলেন, ‘আজ (শুক্রবার) গরুর দাম বেশি। গত  বছর যে গরু ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকায় কনেছি, সেই গরুই ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে’।

এবারের ঈদে গাবতলীর হাটের আকর্ষণ তৈরি করেছে কুষ্টিয়ার গরু ‘খোকাবাবু’। নয়দিন আগে গরুটি  কুষ্টিয়া থেকে গাবতলীতে আনা হয়েছে। মালিকের আশা ছিল, গরুটি ১০ লাখ  টাকায় বিক্রি হবে। বৃহস্পতিবার ৬ লাখ টাকা দাম উঠেছিলো। কিন্তু শুক্রবার এসে সেই গরুর দামই মাত্র ৫ লাখ টাকা হাঁকা হচ্ছে, তবুও ক্রেতা মিলছে না।
 
এখনো ট্রাকে ট্রাকে গরু ঢুকছে গাবতলীতে।  ছবি: দিপু মালাকারগরুর মালিক মোসাদ্দেক আলী বলেন, ‘১০ লাখের গরু পাঁচ লাখ কয়ছি। তবুও এটার ক্রেতা মিলে না। আল্লাহ খোকাবাবুর কপালে কি লিখছেন, কে জানে!’

কুষ্টিয়ার ব্যাপারী আখতার হোসেনও হাটে তুলেছেন ১১টি গরু। বিক্রি হয়েছে সাতটি, তাও ক্ষতিতে।

আখতার বলেন,  ‘ইচ্ছার গতি কি পূরণ করা যায়? আশা ছিলো- অনেক লাভ হবে, কিন্তু হচ্ছে না’।

ইজারাদার মিনাল হোসেন বলেন, গতরাতের পর থেকে গরুর দাম বাড়ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে ছোট গরুর।

মিরপুর থেকে এসে হাসিলসহ ৮০ হাজার টাকায় গরু কিনেছেন রানা হোসেন। তিনি বলেন, ‘ছোট গরুর একটু দাম একটু বেশি। গরুটির আকার স্বাস্থ্য ও রং দেখে আমার পছন্দ হয়েছে’।

চাপাইনবাবগঞ্জের গরু ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদ বলেন, ‘যারা বড় গরু আনছে, তারাই গেরা খাইছে (লোকসান)। এ বছর আমি দু’টি গরু আনছি। একটি গরু ১ লাখ ২২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। আরেকটি এখনো বিক্রি করতে পারিনি’।

‘এই গরুটি বৃহস্পতিবার ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাম ছিলো। আমার ইচ্ছা ছিলো ১ লাখ ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করবো। কিন্তু রাতের পর থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাম হয়ে গেছে’।

বাংলাদেশ সময়: ১৫২৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৭
এমএফআই/এএসআর

** আতঙ্কে বড় গরু ক্ষতিতে ছাড়ছেন ব্যাপারীরা!

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa