ঢাকা, বুধবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

‘গরু না সাজালে কোরবানির ঈদ মনে হয় না’

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫২৯ ঘণ্টা, আগস্ট ৩১, ২০১৭
‘গরু না সাজালে কোরবানির ঈদ মনে হয় না’ পশু বিক্রির পাশাপাশি হাটে জমজমাট সাজানোর সামগ্রীর ব্যবসাও। ছবি: সুমন শেখ

ঢাকা: ‘গায়ের রঙটা মূল নয়, একটু না সাজালে যেন কোরবানির গরু মনে হয় না! গলায় থাকবে কাপড় বা জরির রঙিন  ঝলমলে মালা, সঙ্গে ঘণ্টির টুং টাং শব্দ আর পায়ের ঘুঙুরের শব্দেই না বোঝা যাবে- আসছে কোরবানির গরু’- ঈদ-উল আযহাকে কেন্দ্র করে জমে ওঠা রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটের ক্রেতাদের মনোভাব এমনই।  

আর বিক্রেতারা বলছেন, ‘পশুটিকে সাজিয়ে নিলে ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাবে সহজেই। পরিবারের অনেকেরও আশা থাকে- একটি সাজানো হৃষ্ট-পুষ্ট গরু নিয়ে হাট থেকে ফিরবেন গৃহকর্তারা’।

বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) গাবতলীর পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, পশু সাজানোর এসব জিনিসপত্রের পসরা সাজিয়ে বসেছে অনেক স্থায়ী-অস্থায়ী দোকান। পাওয়া যাচ্ছে কাপড় কিংবা জরির তৈরি গলার মালা, মাথায় ও শিঙে পরাতে রঙিন মুকুট, গলায় ও পায়ে পরানোর ঘুঙুরসহ রঙিন দড়ি ও বিভিন্ন ধরনের লাঠি। ফেরি করেও সাজানোর বিভিন্ন আইটেম বিক্রি করতে দেখা গেছে অনেককেই।

হাটে পরিবারের বড়দের পাশাপাশি ছোটদেরও আসতে দেখা গেছে। তাদেরও ইচ্ছা, পছন্দের পশুটিকে সাজিয়ে নিয়ে ঘরে ফেরা। ঈদের আনন্দটা যেন পশু সাজানোতেই।

মিরপুরের জামানের সঙ্গে আসা ১১ বছর বয়সী ছোট ছেলে রাফিদ বাংলানিউজকে বলেছে, ‘আমার বড় বোন আমাকে সবকিছু বলে দিয়েছে- কিভাবে গরুকে সাজিয়ে নিয়ে যাবো। সেজন্য সাজানোর জিনিসপত্র দেখেছি। গরু কেনার পর সাজিয়েই ঘরে ফিরবো’।

শ্যামলী থেকে আসা আরেক ক্রেতা ৮০ হাজার টাকা দিয়ে কেনার গরুকে সাজানোর জিনিসপত্র কিনেছেন।

তিনি বলেন, ‘বাসার সবাই প্রথমত অপেক্ষা করে আছে- কখন গরু নিয়ে ঘরে ফিরবো। আর তার সঙ্গে সঙ্গে বারবার করে বলে দিয়েছে, অবশ্যই যেন সাজিয়ে নিয়ে যাই। আর গরু না সাজালে কোরবানির ঈদ মনে হয় না’।

গাবতলী পশুর হাটের দোকানদার আজিজের দোকানে পশু সাজানোর জন্য রয়েছে বিভিন্ন রঙের ১৬ আইটেমের জিনিসপত্র। তিনি বলেন, ‘এগুলো মিরপুরে তৈরি হয় শুধুমাত্র এই ঈদের সময়। আমরা কিনে আনি চাহিদা অনুসারে। ক্রেতা-বিক্রেতারা এগুলো কিনে নেন’।

চা বিক্রেতা আবদুল মান্নানও তার চায়ের দোকানে গরু সাজানোর জিনিসপত্র বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর কোরবানির ঈদের সময় এগুলো বিক্রি করি, ভালোই আয় হয়’।  

গরুর দামদর করলেও সাজানোর এসব আইটেমের দামের বিষয়ে ক্রেতাদের তেমন কোনো মাথাব্যথা থাকে না বলেও জানিয়েছেন এসব বিক্রেতারা।

গাবতলী হাটে আরও বিক্রি হচ্ছে কোরবানির জন্য প্রয়োজনীয় ছুরি, চাপাতি, বটিসহ মোটা গাছের গুঁড়ি। জমে উঠেছে এসবের ব্যবসাও। গাবতলী হাটের মূল ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই টুং টাং আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে এ কামারশালাগুলোর কারণেই।

কামার ব্যবসায়ী আমান জানান, ‘সারা বছর টুকটাক থাকলেও বছরের এ সময়টাতেই ব্যবসা জমে ওঠে। বিক্রি ভালোই হচ্ছে। মাংস কাটাকুটির জিনিসপত্র ছাড়াও গাছের গুঁড়ির চাহিদাটাই সবচেয়ে বেশি’।

বাংলাদেশ সময়: ২১৩০ ঘণ্টা, আগস্ট ৩১, ২০১৭
এমএএম/এএসআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa