ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ আগস্ট ২০২০, ২৩ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

‘মানিকজোড়ের দাম সাড়ে ১২ লাখ’

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১৪৪ ঘণ্টা, আগস্ট ৩১, ২০১৭
‘মানিকজোড়ের দাম সাড়ে ১২ লাখ’ ‘মানিকজোড়ের দাম সাড়ে ১২ লাখ’, ছবি: বাংলানিউজ

সিলেট: লাল মানিক ও কালো মানিক- আদর করে গরু দু’টির এ নাম রেখেছেন মৌলভীবাজারের শমসেরগঞ্জের দুবার হাট গ্রামের সৈয়দ নাসিম। কোরবানির হাটে দুই মানিককে বিক্রি করতে এনেছেন তিনি।

পেশাদার ব্যবসায়ী নন নাসিম। তবে শখের বশে গরু পালন করেন লাভের আশায়।

বেকারত্ব লাঘবে গরুর পেছনে সময় দিয়েছেন নাসিম। কেননা, শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় অন্য কোনো কাজে যেতে পারেন না তিনি। ফলে গরু দু’টিকে লালন-পালনেই কেটেছে বছরের পর বছর।

নাসিমের দুই বছরের সাধনার ফল এ মানিকজোড়। লাল গরুর নাম ‘লাল মানিক’, কালো গরুর নাম ’কালো মানিক’। হৃষ্ট-পুষ্ট গরু দু’টির নামও শখের বশেই রেখে দিয়েছেন তার ছোট ভাই সৈয়দ নাঈম।

সিলেটের কাজিরবাজার পশুর হাটে গরু দু’টির নাম এখন মানুষের মুখে মুখে। আকারে একটু বড় কালো মানিকের দাম ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং লাল মানিকের দাম ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাচ্ছেন সৈয়দ নাসিম।

গত দু’দিন ধরে জোড়া মানিককে নিয়ে হাটে অবস্থান করছেন সৈয়দ নাসিম। গরুর খেদমতে রয়েছেন ছোট ভাই নাঈমসহ আরো চারজন।

চাওয়ার চেয়ে লাখখানেক টাকা কম হলেও গরু দু’টিকে বিক্রি করে দেবেন বলে জানান নাসিম।

এবার বন্যার প্রভাবে হাটটিতে ক্রেতাদের সমাগম কম বলে জানিয়েছেন গরু ব্যবসায়ী রিয়াজ উদ্দিন ও মকবুল মিয়া।

রিয়াজ উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, এবার এক কোটি ২০ লাখ টাকা পুঁজি খাটিয়ে ৮০টি গরু বাজারে তুলেছেন। ৯ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন মাত্র ৬টি গরু। বাজারে ক্রেতা সমাগম না থাকায় নিশ্চিত লোকসান ধরে নিয়েছেন। লাভ হোক আর লোকসান হোক, লাভসহ মহাজনের টাকা পরিশোধ করা নিয়ে আগে থেকেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

তার মতো আরো শতাধিক ব্যবসায়ী এভাবে বিনিয়োগ করে এবার ধরাশায়ী বলেও মন্তব্য করেন ব্যবসায়ী রিয়াজ।

পশুর হাটটি ঘুরে দেখা গেছে, দেশি গরুর আমদানিই বেশি। তবে গত বছরের মতো এবার এখানে গরু ওঠেনি, ক্রেতা সমাগমও কম।

একই অবস্থা খাসি ও ছাগলের বাজারেও। পর্যাপ্ত ছাগল-খাসি এলেও ক্রেতা সমাগম নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী আব্দুস সুবহান। তিনি বলেন, ‘এবার ৫০টি খাসি তুলে মাত্র দু’টি বিক্রি করতে পেরেছি’।

বাজার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, আগে ব্যবসায়ীরা গরু নিয়ে বিনা বাধায় এ হাটে আসতে পেরেছেন। গত বছর থেকে সড়কে-মহাসড়কে, পথে পথে গরুর হাট বসানোর প্রবণতা চলে আসছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের অনুমতি ছাড়াই নগরীর প্রবেশদ্বারগুলোতেও বসেছে অবৈধ পশুর হাট। গরুবাহী গাড়ি আটকে সেসব হাটে জোর করে নামানো হচ্ছে।

ফলে নগরীর কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত কাজিরবাজারে ক্রেতা সমাগম কম হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৪০ ঘণ্টা, আগস্ট ৩১, ২০১৭
এনইউ/এএসআর

‘ওজন ১১০০ কেজি, দাম ১০ লাখ’

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa