ঢাকা, বুধবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

গাবতলীতে ক্রেতা বুঝে দাম হাঁকাচ্ছেন বিক্রেতারা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১১৪ ঘণ্টা, আগস্ট ৩১, ২০১৭
গাবতলীতে ক্রেতা বুঝে দাম হাঁকাচ্ছেন বিক্রেতারা গাবতলী পশুর হাট/ ছবি: সুমন শেখ

ঢাকা: গাবতলী পশুর হাটে ক্রেতা বুঝে দাম হাঁকছেন ব্যাপারিরা। একই আকারের গরু কেউ কিনছেন ৮০ হাজার টাকায় কেউ কিনছেন ৬৫ হাজার টাকায়। দামের এমন হেরফেরে ঠকছেন অনেক ক্রেতা।

বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) গাবতলী পশুর হাটে কথা হয় শ্যামলীর বাসিন্দা জাহানুরের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা ৮০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছি হাটের ভিতরের অংশ থেকে।

কিন্তু বাইরে বেরিয়ে দেখি বাইরের অংশে দাম কম।

এদিকে একই আকারের গরু হাটের বর্ধিতাংশ থেকে ৬৫ হাজার টাকায় কিনেছেন হেমায়েতপুর থেকে আসা শরিফ। তিনি জানান, সকালে এসে আগে পুরো হাট ঘুরে দেখেছি। কোথায় কেমন দাম। এরপর বুঝতে পেরেছি দামাদামি ছাড়া উপায় নেই। যারা ভালো দামাদামি করতে পারেন তারা কম দামে গরু নিতে পারছেন।

এদিকে ব্যাপারিদের বক্তব্য তারা সব গরুতে লাভ করতে পারছেন না। এবার গরুর পিছনে খরচের পরিমাণ অনেক বেশি। যাতায়াত খরচসহ সবকিছুর দাম বেশি ছিল এবার। এছাড়া হাটে অনেকদিন থেকেও তাদের কোনো বেচা-বিক্রি হয়নি।

ভিন্ন কথা বললেন ঠাকুরগাঁও থেকে আসা কিরণ ব্যাপারি। বাংলানিউজকে তিনি জানান, আমার গরু না বেচে ফিরতে পারবো না। বন্যায় বাড়িঘর সব ভেঙে গেছে। তাই গরু কেনো মানুষ থাকার জায়গাই নেই। এ জন্য ক্ষতিতে হলেও আমাকে গরু বেচতেই হবে।

এই সুযোগটাই নিচ্ছে হাটে থাকা ব্যাপারিরা। হাটের একপাশ থেকে কম দামে গরু কিনে আরেকপাশে গিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন তারা। এমনটাই বলছিলেন রংপুর থেকে আগত জয়নাল হাজারি। তিনি ৮টা গরু নিয়ে ৫দিন আগে এসেছেন গাবতলী পশুর হাটে।  

বাংলানিউজকে জয়নাল হাজারি বলেন, আমি ৫দিন আগে এসেছি হাটে। ইতিমধ্যে আমার অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে। গরু বেচে আগে ঘরে ফিরবো বলে আগে এসেছিলাম। কিন্তু গরু বিক্রি হয়নি। এখন তাই দ্রুত বেচে ঘরে ফিরে যাবো। আমি জানি আমার গরু দালালরা কিনে নিয়ে যাচ্ছে কিন্তু কিছু করার নাই। আমার গরু বেচতেই হবে।

গাবতলী পশুর হাটে একই আকারের ভিন্ন দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। জানতে চাইলে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করা ছাগল বিক্রেতা আরিফুদ্দিন জানান, এইবার ছাগলের চাহিদা খুব কম। দাম ধইরা বইসা থেকলে বিক্রি করা সম্ভব হবে না। আর আমি ছাগল পালি নাই। মানিকগঞ্জ থেকে কিনে এনেছি। আরও ৬টা ছাগল আছে যেগুলো বিক্রি করতে হবে।

অপরদিকে একই আকারের ছাগল ১ লাখ টাকা দাম হাঁকানো বিক্রতা রইস উদ্দিন জানান, আমি সিংগাইড় থেকে আসছি এই একটা ছাগল নিয়া। এইটারে আমি ছোট থেক্কা বড় করছি। এখন এতো কম দামে ছাড়লে আমার লাভ হইবো না!

বাংলাদেশ সময়: ১৭১২ ঘণ্টা, আগস্ট ৩১, ২০১৭
এমএএম/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa