ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ আগস্ট ২০২০, ২৩ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

টাকা খরচ হয়, ঈদের জামাত হয় না সার্কিট হাউজ মাঠে!

মাহবুবুর রহমান মুন্না, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০০৯ ঘণ্টা, আগস্ট ৩১, ২০১৭
টাকা খরচ হয়, ঈদের জামাত হয় না সার্কিট হাউজ মাঠে! ঈদ জামাতের জন্য সার্কিট হাউজ মাঠের প্রস্তুতি চলছে/ ছবি: মানজারুল ইসলাম

খুলনা: “এটা কোনো কথা! তিন বছর ধরে খুলনা সার্কিট হাউজে ঈদের প্রধান জামাত হয় না। লাখ লাখ টাকা খরচ করে জামাতের প্যান্ডেল তৈরি করা হলেও বৃষ্টিতে তা পণ্ড হয়ে যায়। যে কারণে ৫টি ঈদের জামাত হয়নি ঐতিহ্যবাহী এই মাঠে। টাউন মসজিদেই ঈদের নামাজ আদায় করতে হয় মুসল্লিদের।”

বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) আক্ষেপ করে কথাগুলো বলেন মহানগরীর খানজাহান আলী রোডের বাসিন্দা এম রহমান।

তিনি বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহার জামাতও বৃষ্টিতে পণ্ড হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবারের মতো এবারও সার্কিট হাউজ ময়দানে ঈদ জামাতের আয়োজন চলছে। সিটি কর্পোরেশন দায়সারাভাবে আয়োজন করছে। ওপরে কাপড়ের সামিয়ানা দিলেও বৃষ্টির পানি ঠেকানোর জন্য ত্রিপলের ব্যবস্থা করে না। এ কারণে ঈদের আগেরদিন কিংবা ঈদের দিন সকালে বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। বাতিল হয়ে যায় খুলনার ঈদের প্রধান জামাত।

আব্দুল্লাহ নামে আরেক মুসল্লি বলেন, সিটি কর্পোরেশন লাখ লাখ টাকা খরচ করে সার্কিট হাউজ ময়দানে সাজগোজ করে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে নামাজের সময় আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যায়। বৃষ্টি প্রতিরোধের কোনো উদ্যোগ থাকে না সেখানে। সেইতো অনেক খরচ করা হয় এ মাঠের জন্য। তাহলে বৃষ্টি প্রতিরোধে জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না কেন?
ঈদ জামাতের জন্য সার্কিট হাউজ মাঠের প্রস্তুতি চলছে/ ছবি: মানজারুল ইসলামহাজী মহসিন রোডের বাসিন্দা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক মো. সামিউল হক বাংলানিউজকে বলেন, গত ৩ বছর ধরে খুলনাবাসী সার্কিট হাউজ ময়দানের বৃহৎ জামাতে অংশ নেওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এবারও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের  সকল ধরণের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, মাঠ পর্যাপ্ত উঁচু করতে হবে যাতে পানি না দাঁড়াতে পারে। এছাড়া সার্কিট হাউজ মাঠের পুরো প্যান্ডেল জুরে ত্রিপলের ব্যবস্থা করা হলে বৃষ্টি হলেও নামাজ পড়া যাবে।

জাতীয় ঈদগাহের আদলে খুলনার সার্কিট হাউজ মাঠ তৈরি করা যায় কিনা তা ভেবে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিরামহীনভাবে চলছে সার্কিট হাউজ ময়দানের দেড় লাখ বর্গফুট এলাকায় প্যান্ডেল তৈরির কাজ। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা মাঠের কাজ তদারকি করছেন।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী-২ শেখ মোহাম্মদ হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, বৃষ্টির কারণে সার্কিট হাউজে প্রায় তিন বছরে ঈদের ৫টি জামাত হয়নি।

ঈদের জামাতের জন্য মাঠ প্রস্তুতিতে একেকবার কত টাকা খরচ হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবার সাড়ে ৭ লাখ টাকা। আগের গুলোতে ৫ লাখ টাকা করে লেগেছিলো।

ঢাকার কেন্দ্রীয় ঈদগাহের মতো মাঠ তৈরি করা যায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকায় ঈদের প্রধান জামাতের জন্য জাতীয় বাজেট থাকে। কিন্তু খুলনায় তা নেই। নগরবাসীর ট্র্যাক্স থেকে ফান্ড করে খুলনায় ব্যয় করা হয়। ত্রিপল দিয়ে মাঠ ঢাকতে পারলে তো নামাজ পড়া যাবে। তাতে খরচ পড়বে ৫০ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে খুলনা সিটি মেয়র বাংলানিউজকে বলেন, সম্প্রতি বছরগুলোতে এমন সময় ঈদের জামাত হয় তখন বৃষ্টি বা বৈরী আবহাওয়া থাকে। প্রকৃতির উপর তো কারও হাত নেই।

তিনি বলেন, আমরা পজেটিভ চিন্তা করছি বৃষ্টি হবে না। যেমন সবাই ভেবেছিল বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার সাথে টেস্ট জিততে পারবে না। কিন্তু ফলাফলে দেখা গেছে বিপরীত।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বাংলানিউজকে জানান, ঈদের দিন সকালে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম, বিকেলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস থেকে জানানো হয়েছে, ২ সেপ্টেম্বর ঈদ-উল-আজহার প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে (আবহাওয়া অনুকূল হলে) সকাল ৮টায় খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে এবং খুলনা টাউন জামে মসজিদে সকাল ৯টায় দ্বিতীয় ও শেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।  

আবহাওয়া প্রতিকূল হলে ঈদের প্রথম ও প্রধান জামাত সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় ও শেষ জামাত সকাল সাড়ে ৯টায় টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আবহাওয়া প্রতিকূল হলে সকাল সাড়ে ৮টায় খুলনা কালেক্টটের জামে মসজিদে একটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬০১ ঘণ্টা, আগস্ট ৩১, ২০১৭
এমআরএম/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa