ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ আগস্ট ২০২০, ২৩ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

শানের ঘষায় শাণিত কামারশালার অস্ত্র

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৯৫৪ ঘণ্টা, আগস্ট ৩১, ২০১৭
শানের ঘষায় শাণিত কামারশালার অস্ত্র শানের ঘসায় শানিত কামারশালার অস্ত্র, আরিফ জাহান

বগুড়া: বেনু, ও গৌরের অভাব-অনটনের সংসার। তারা বংশ পরম্পরায় কামার পেশার সঙ্গে যুক্ত আছেন। সেই সংসারের ঘানি টানতে গিয়ে লেখাপড়া করা হয়ে ওঠেনি তাদের।

তাই বাপ-দাদার পেশাকেই নিয়েছেন আপন করে। বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন তাদের এ পেশা।

কয়লার স্তুপ থেকে বেরোচ্ছিলো আগুনের লেলিহান শিখা। তার ভেতর রয়েছে এক টুকরো লোহা খণ্ড। মাঝে মধ্যেই জামরায় চেপে সেই লোহা খণ্ড বের করে আনা হচ্ছিলো। তা আরেকটি লোহার ওপর রাখছিলেন আনন্দ। শানের ঘসায় শানিত কামারশালার অস্ত্র, আরিফ জাহানসহকর্মী নরোত্তমের হাতে ছিলো হাতুড়ি। আগুন থেকে বের করে আনা লোহা খণ্ড পেটাচ্ছিলেন নরোত্তম।

পিটুনি শেষে তা পানিতে ভেজানো হচ্ছিলো। আবার আগুনে দেওয়া হচ্ছিলো সেই লোহা খণ্ড।

আবার লোহা খণ্ডে হাতুড়ির পিটুনি চালানো হচ্ছিলো। এভাবে আগুন আর হাতুড়ির পিটুনিতে প্রত্যেক লোহা খণ্ড হয়ে উঠছিলো পশুর মাংস কাটার একেকটি ধারালো সামগ্রী। শেষ ধাপে চলে শানের পালা। এরপর তা বিক্রির জন্য চলে যায় বিভিন্ন দোকানে।

বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) বগুড়া শহরের গন্ডগ্রাম, চেলোপাড়া, মাদলা, কলোণি জোড়া ব্রিজসহ কয়েকটি এলাকার কামারশালা ঘুরে কামার শিল্পীদের কর্মযজ্ঞতার এমন দৃশ্য নজরে পড়ে।

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আজহা। দিনটি সামনে রেখে চরম ব্যস্ত শহর ও গ্রামাঞ্চলের কামারশালাগুলো। দম ফেলার ফুসরত নেই কামার শিল্পীদের। শানের ঘসায় শানিত কামারশালার অস্ত্র, আরিফ জাহানকোরবানির পশু জবাই চামড়া ছাড়ানো, মাংস-হাঁড় কাটাকাটির ছোট-বড় ছুরি, দা, বটিসহ নানা ধরনের অস্ত্র তৈরিতে শেষ মূহুর্তটা পার করছেন এ পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাতাস বা হাওয়া উৎপাদনের যন্ত্রটা (ভাঁতি) পাশেই রাখা। সঙ্গে বাঁশের লাঠির সামনে মাথার সঙ্গে লোহার শিকল বাঁধা। শিকলে বাঁধা বাঁশের লাঠিটা টানাটানি করা হয়। সঙ্গে ভাঁতি ফুসফাস করতে থাকে। ভঁতির মুখে লাগানো পাইপ দিয়ে বাতাস বা হাওয়া বেরিয়ে আসে।

পাইপের মুখের ওপর স্তুপ আকারে কয়লা রাখা থাকে। খণ্ড খণ্ড লোহার টুকরো কয়লায় ঢেকে দেওয়া হয়। অবিরাম বাতাস নির্গমনে কয়লায় সৃষ্টি হয় গণগণে আগুন। একটা সময় লোহার টুকরোগুলো লাল টক টকে বর্ণ ধারণ করে। তখন কয়লা সরিয়ে লোহার টুকরোগুলো বাইরে আনা হয়।

এরপর শুরু হয় কামার শিল্পীদের নিপুণ হাতের কারিগরি কৌশল। সময়ের ব্যবধানে আস্ত লোহার টুকরোগুলো ব্যবহার উপযোগী একেকটি আকর্ষণীয় অস্ত্রে পরিনত হয়।

বেনু, তুলশী, গৌরসহ একাধিক কামারশিল্পী বাংলানিউজকে জানান, ঈদুল আজহা আসন্ন। হাতেও সময় খুব কম। শানের ঘসায় শানিত কামারশালার অস্ত্র, আরিফ জাহান এরমধ্যেই ক্রেতারা চাহিদামত পশু কাটার অস্ত্র তৈরির কাজ গুটিয়ে ফেলতে হবে। তবেই তা বিক্রি করা যাবে। নইলে তৈরিকৃত অস্ত্রগুলো ঠেকে যাবে। এতে তাদের লোকসান গুণতে হবে।

এসব ব্যক্তিরা আরো জানান, আগের যুগ নেই। মানুষ এখন প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়ছে। এ কারণে তাদের তৈরি পণ্যের ওপর মানুষের চাহিদা অনেক কমে গেছে। বছরের বেশির ভাগ সময়ই তাদের পণ্য খুব কম কেনাবেচা হয়। তবে প্রত্যেক ঈদুল আজহায় বেচাবিক্রি ভাল হয় বলে যোগ করেন এসব কামার শিল্পীরা।

বাংলাদেশ সময়: ১৩৫৪ ঘণ্টা, আগস্ট ৩১, ২০১৭
এমবিএইচ/এএটি/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa